মা-দুর্গার আবির্ভাব ও পূজাপ্রবর্তন
মনিরুজ্জামান মুন্না
একদা পরমেশ্বরের চিন্তালোকে মর্তালোক সৃষ্টির ভাবনা জাগে। যা বাস্তবায়নে মহামায়া ভূমিকা রাখেন। অর্থাৎ এই মর্তালোক পরমেশ্বরের ইচ্ছার বাস্তব রূপকল্প। যা কার্যতঃ মহামায়ার দ্বারাই রূপায়িত এবং তারই সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় সুসংগঠিত, সন্নিবেশিত ও সুসম্পন্ন হয়। সুপরিসর মর্তালোকে উদ্ভাসিত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কার্যাবলীর সুষ্ঠ পরিচালনা ও ভারসাম্য রক্ষায় মহামায়াÑব্রহ্মা, শিব ও বিষ্ণুকে আনেন। গঠন ও নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে পরিচালনার জন্য মর্তে যে সমস্ত প্রয়োজনীয় কার্যাবলী সম্পাদন হয়ে থাকে তিনি তার প্রকৃতি ও ধরন অনুসারে তিনটি ভাগে ভাগ করেন। তারপর ঐ তিন জনকে এক একটির দায়িত্ব দেন। পাশাপাশি তিনি তাদের স্ব-স্ব কার্যের যথাযথ দিক নির্দেশনা দেন, অধিকর্তা বানান এবং প্রয়োজনের আনুপাতিকে শক্তি, সাহস, সামর্থ ও স্বাধীনতা দিয়ে পরম ব্রহ্মায় আতœলীন হন (ফিরে যায়)।
মহামায়ার এ তৎপরতায় ব্রহ্মাকে দেওয়া হয় মর্তালোকের সৃষ্টির দায়িত্ব। অর্থাৎ সৃষ্টি/জন্ম সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাদি ব্রহ্মার কতৃত্বে সম্পাদিত হবে। শিবকে দেওয়া হয় সংহার অর্থাৎ ধ্বংস/মৃত্যু সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাদির দায়িত্ব সম্পাদনের কতৃত্ব। আর বিষ্ণুকে দেওয়া হয় সৃষ্টি ও ধ্বংসের মধ্যবর্তী কালিন সময়ে পতিপালনের দায়িত্ব সম্পাদনের কতৃত্ব। সুতরাং কে কখন কিভাবে জন্মাবে, ধ্বংস হবে এবং লালিত-পালিত হবে তা পরমেশ্বরের পক্ষ থেকে এই তিন জনের দ্বারাই নির্ধারিত হবে। সর্বোপরি মর্তের যে কেউ ঐশ্বরিক সাধনার সিদ্ধিতে তাহাদের পক্ষ থেকে বর প্রাপ্তও হবেন।
মহামায়ার উদ্যেগ ও সার্থক প্রচেষ্টায় বদৌলতে ব্রহ্ম, শিব ও বিষ্ণুর মাধ্যমে এক কল্প কাল ব্যাপি তেমন কোন গুরুতর বিপর্যয় ছাড়াই মর্তালোক পরিচালিত হতে থাকে। এ প্রসঙ্গে চ-ীর সূত্র ধরে কল্প-কালের একটি হিসাব উল্লেখ করা যেতে পারে। আমরা সেখানে পাই ১৭,২৮,০০০ বছর সত্যযুগ ১২,৯৬,০০০ বছর ক্রেতা যুগ ৮,৮৪,০০০ বছর দ্বাপরযুগ ৪,৩২,০০০ বছর কলীযুগ = মোট ৪৩,২০,০০০ বছরে এক যুগ (দবতাদের ক্ষেত্রে)। এমন ৭১ টি যুগ অর্থাৎ (৪৩,২০,০০০৭১) = ৩০,৬৭,২০,০০০ বছরে এক মনু। ১৪ মনু অর্থাৎ (৩০,৬৭,২০,০০০১৪) = ৪২৯,৪০,৮০,০০০ বছরে এক কল্প। বর্তমানে আমরা দ্বিতীয় কল্পের সময় কালে অবস্থান করছি এবং ইতিমধ্যে তার অনেকগুলো কাল পারও করে দিয়েছি। আর সে পার করে দেওয়ার কালের হিসাবটি প্রায় ৭০,৫৯,২০,০০০ বছর হবে। সুতরাং সাম্প্রতিক সময়ে বৈজ্ঞানিকদের গবেষণায় উঠে আসা পৃথিবীর বয়স ৫০০,০০,০০,০০০ বছর এমন সিদ্ধান্তে সাথে এর যতেষ্ট মিলও আছে। অর্থাৎ ৪২৯,৪০,৮০,০০০ বছর ৭০,৫৯,২০,০০০ বছর = ৫০০,০০,০০,০০০ বছর।
আমরা এ শাস্ত্রজ্ঞানে জানেছি যে, পৃথিবীর আদিতে মূলতঃ দেউ-দানব, যম-জানোয়ার, দ্বৈত্ব-রাক্ষস ইত্যাদি নানান সৃষ্টির পরস্পরায় মানুষের সৃষ্টি। আর মানুষের প্রয়োজনেই উপস্থাপিত হয় আরও হাজার-হাজার সৃষ্টি। যা একে অপরের পরিপূরক। তাই সকল সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষই জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন, বাকীরা শুধুমাত্র জীববৃত্তি সম্পন্ন এবং তাদের অধিকাংশরাই অপেক্ষাকৃত অনেক শক্তি-সমর্থ ও দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত হয়। কিন্তু বুদ্ধি না থাকার কারণে তারা আবার মানুষের কাছে পরাস্থ। আবার যার কর্ম ও আচার-আচরনে মনুষত্বের গুণ বা মানবিকতার বৈশিষ্ঠ্য প্রকাশ পায় না সে দৃশ্যমান অবয়বে মানুষ হলেও প্রকৃত অর্থে পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট। তবে কখনো কখনো এসবের মধ্যে এক নিগুঢ় রহস্য থাকে। সুতরাং এহেন কোন সৃষ্টিকে যেমন জন্মকালেই পাপি, পূন্যবান, প্রতারক বা অসুর পরিচয়ে সনাক্ত করা যায় না। কর্মই তাদেরকে পর্যায়ক্রমে অমন গুণ ও বৈশিষ্টের পরিচয়ে পরিচিত করে তোলে। তেমনি আবার পূর্বপুরুষের পাপে-পূণ্যে, আর্শীবাদ-অভিশাপে কাউকে অহেতুক পাপি বা পূণ্যবান সাব্যস্ত করা হয় না। ফলশ্রুতিতে দেবতার উপাসনা সার্বজনিন। আর উপাসনার প্রতিদানও তাই। ধর্মের এই উদার ও স্বচ্ছ নীতির সুবাদে অভিশাপ্ত ও পাপ কূলোদ্ভবের কেউ-কেউ বিভিন্ন দেবতার নিবেদনে সুদীর্ঘকালব্যাপি কঠিনতর উপাসনা, তপস্যা বা সাধনায় ব্রত হওয়ার সুযোগ পায়। এবং সে সাধনার যোগ্য প্রতিদানও পায়। অর্থাৎ সাধনার মাধ্যমে দেবতা অথবা ভগবানকে তুষ্ট করে পাপী পরিচয়ের কেউ কেউ বর প্রাপ্তির সক্ষমতা অর্জন করেন। তখন তার পৈত্রিক সূত্রের উত্তরাধিকারী বদরৃপু ও কুচিন্তার প্রভাবে বিশেষ কোন জটিলতা সৃষ্টির মানসে দেবতাদের বৈশিষ্ঠে বৈশিষ্ঠমান কিংবা মহাশক্তিমান রূপের স্বরূপীয় কোন বরই দেবতাদের কাছে প্রত্যাশা করে। তবে এসব পুজারীদের এমন বর প্রদানের মাধ্যমে কোন বিপদজনক পরিস্থিতি ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কায় আশঙ্কিত হলেও প্রতিশ্রুতিশীল দেবতারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অবলীলায় সেসব বর দান করেন। এই প্রক্রিয়ায় এক কল্প কালের বিভিন্ন পর্যায়ে বহু অসুরের উদ্ভব ঘটে এবং তারা নানা প্রকারের মহাশক্তির রব আদায়ে সক্ষম হন।
বেদ, গীতা, চ-ীর ভাষ্যে এসব অসুরেরা তাদের সাধনার সম্বল বা প্রতিদান হিসাবে যে যে বর গ্রহন করে তার অপপ্রয়োগ ঘটিয়ে কালে-কালে মর্তালোকে বিভিন্ন ধরনের উৎপাত, হানাহানি, রক্তপাত, ক্ষয়-ক্ষতি, বিপর্যায়, বিশৃঙ্খলা, অশান্তি ঘটাতে থাকে। এর পাশাপাশি স্বর্গালোকের দেবতাদের উপরও তা প্রয়োগ করে মারাতœক বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে থাকে। এভাবে একে একে সকল অসুরেরা শক্তিমান মন্ত্রবানের প্রভাব খাটিয়ে স্বার্গালোকের অধিপত্য গ্রহনের পায়তারা করে। এই হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থে পরিকল্পিত ভাবে যুগে-যুগে উদ্ভুত সকল অসুরেরা সম্মেলিত হয়ে তাদের বিভিন্ন সময়কালে প্রাপ্ত মন্ত্রবানের (বর) সমন্বিত প্রভাবে স্বর্গ-মর্ত জুড়ে বিশাল অসুর সাম্রাজ্য গঠনের প্রয়াস চালায়। অসুরদের এমন পরিকল্পনা ও তার কার্যকারীতার এক পর্যায়ে দেবতারা স্বর্গরাজ্যের নিয়োন্ত্রন ও কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলে। অতপর সেখান থেকে বিচ্যুত হয়ে দিক-বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। চরম সংকটময় এ অবস্থায় বিক্ষিপ্ত অসহায়, নিরুপায় ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় দেবতারা অতি সর্ন্তপনে অসুরদের অজান্তে স্বর্গ-মর্তের মধ্যবর্তী মহাশূন্যের কোন এক জায়গায় জরুরী ভিত্তিতে মিলিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে মিটিং করে। মিটিং শেষে সিদ্ধান্ত হয় যে, যেহেতু পরমেশ্বরের পক্ষ থেকে মহামায়াই তাদেরকে এনে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে স্বর্গ-মর্ত নিয়োন্ত্রনের কতৃত্ব দেন এবং তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাপত্র সহ পরিচালনার দায়িত্ব ও সার্বিক স্বাধীনতা দেন। অথচ সে সবের বলে বলিয়ান হয়ে আমাদের স্বীয় কর্তব্যে নানা প্রকার গাফিলতি, আয়স, আনন্দ-বিনোদনে মগ্ন থেকেছি। তাই যেহেতু আমাদের অদূরদর্শিতার কারণেই এমনটি হয়েছে। সেহেতু আমরা সেসব দূর্বলতার দায় স্বীকার করে মহামায়াকে তাদের মাঝে অবির্ভূত হয়ে এ মহা সংকট নিরসনে প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করবো। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তক্ষনাৎ স্বর্গ-মর্ত কূলের এ বিপদ থেকে আশুপরিত্রানের জন্য সকলে মহামায়ার আগমন ও তাঁর কৃপা লভে স্তুতি ও পুজা-অর্চনা শুরু করে দেন।
দেবতাদের স্তুতি, আত্মসমার্পন ও পরমেশ্বরের ইচ্ছার করণে উদ্ভুত মহাসংকট নিরসনে মহামায়া কৃপাবশ্য হয়ে মর্তে আবির্ভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি পরমেশ্বরের কাছে পূর্বের ন্যায় পরিপূর্ন স্বরূপীয় সত্ত্বায় অবতীর্ন না হয়ে একটি প্রতিকৃতি প্রতিবিম্বে প্রতিফলিত হয়ে স্বকীয় রূপের ক্ষুদ্রমান অনুরূপে উপস্থাপিত হওয়ার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করেন। পুজা-অর্চণারত অবস্থার এক পর্য়ায়ে দেবতারা মহাশূন্যে মেঘের কু-লীতে এক বিমূর্ত অবয়ব লক্ষ্য করেন। কু-লী পাকানো সে মেঘ হতে ক্রমশঃ অবয়বটি পরিপূর্ণ মূর্তমান হতে থাকে। এক পর্যায়ে সেটি হিমালয় পর্বতের শীর্ষদেশে এক হুঙ্কারী আওয়াজে অবতরন করেন। অতপর সেখানেই গীরি রাজার মেয়ে হয়ে মর্তালোকে আবির্ভূত হন। সময়টি ছিল বসন্তকাল। আর তাই পুষ্প-পল্লবে সজ্জিত প্রকৃতির স্বাভাবিক বিন্যাস ও বৈচিত্রে সকল সৃষ্টিকূল অপরূপ সুন্দরের অর্ঘে এ শুভাগমনকে স্বম্বর্ধিত করে। মহামায়ার আগমনী বার্তার সে আওয়াজ শুনে সকলেই মহাখুশিতে স্বাগত অভিবাদন জানানোর আনুষ্ঠানিকতায় ব্যাতিব্যস্ত হলেও অসুরেরা কিন্তু ব্যাপারটি নিয়ে রীতিমত হাসা-হাসি, ঠাট্টা-তামাশা, রঙ্গ-ব্যাঙ্গ করতে থাকে। যেহেতু এই মহামায়ার হুবুহু পূর্বের সেই মহামায়া নয়, সেহেতু পরম ব্রহ্মার আদেশে স্বর্গের দেবতারা সম্মেলিতভাবে সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতা দেন। তারা মহামায়ার উপর তাদের শক্তি, সাহস, সামর্থ ও হাতিয়ার আরোপ করেন। মহামায়া তখন দশ দিক নিয়োন্ত্রনের জন্য দশহাতে সম্মেলিত শক্তির আধার হয়ে পার্বতী, সতী, ওমা, চামন্ডা ইত্যাদি বিভিন্ন নামে, গুণে, বৈশিষ্ঠে এবং নানান কলা-কৌশল, সাজ-বেশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মাধ্যমে ১০১ বার জন্মে একের পর এক প্রতাপশালী অসুর নিধন করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুরোপুরি সফলও হন। আর এ কাজের প্রয়োজনেই তিনি এক এক জন্মে এক এক নামে, গুণে ও বৈশিষ্ঠে ভূষিত হন ও পুজিত হন। তিনি দূরদমনীয় পরাক্রমশালী অসুর বিশেষ করে মহীষাসুরের ন্যায় দূর্গামাসুরকে নিধন করেন বলেই তাঁর নাম হয় দুর্গা। দুর্গার প্রচেষ্টায় স্বর্গ-মর্ত জুড়ে স্বস্থির প্রশান্তি ফিরে আসে। সময়টি ছিলো বসন্ত কাল। তাই বসন্ত একটি সুন্দর সময় বা ঋতু হিসেবে আজও আমাদের কাছে পরিচিত। দূর্গার (মহামায়ার) আগমনের সে সব স্বাগতমী আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ বসন্তকালীন ঐ পুজা ও লোকাচারকে প্রথাগতভাবে চালু করা হয়। অতী দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে এ মিশনকে কার্যকারী করতে মহামায়া রূপী মা দেবী দুর্গা নতুন আঙ্গিকে কিছু দেবতাকে সাথে নেন। এ পর্যায়ের দেবতাদেরকে তিনি গণদেবতায় আখ্যায়িত করেন। স্বর্গ-মর্তে অনুপ্রবেশকারী বহুরূপী ও বহু জন্মী এই মহামায়াকে স্বর্গে স্থায়ীভাবে অবস্থান এবং মর্তের তদারকীর জন্য পরমেশ্বর ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও শিবের মধ্যে থেকে যে কোন একজনকে বিয়ে করতে নির্দেশ দেন।
পরমেশ্বরের এ ইচ্ছায় গীরিরাজ (সতী বা দুর্গার জন্য মনোনীত বাবা) মহামায়ার সম্মান, শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন ও মর্জাদা অক্ষুন্নের জন্য তার পতিত্বের যোগ্যতা যাচাইয়ে এবং পতি নির্বাচনে এক স্বয়ংবরার আয়োজন করেন। যেখানে পরমেশ্বরের নির্দেশিত ঐ তিন জনকে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্রহ্মা-বিষ্ণু অপারগতা প্রকাশ করে তা এড়িয়ে যান। তখন অগত্যা ঐ তিন জনের মধ্যে শিব উপস্থিত হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বয়ংবরার সে আয়োজনে সর্বোচ্চ পরিপাটি, ঠাটবাট ও উন্নত সাজবেশে বিভিন্ন সম্রজ্য থেকে অনেকেই উপস্থিত হন। অথচ শিব বিষয়টিকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্ব দেন। যেহেতু পরমেশ্বরের ইচ্ছাপুষ্ঠ আশির্বদ তার উপর, সেহেতু সঙ্গত কারণেই খানিকটা নিরুৎসাহী ভঙ্গিমায় একেবারে পিছনে ছাই মেখে মড়ার ন্যায় পড়ে থাকেন। অতিব সাদা-মাটা, দৈন্য-দশা ও অবজ্ঞীত হালে শিবের এ উপস্থাপন দুর্গার মধ্যে ঘৃণার উদ্রেক করে। পাশাপাশি অন্তর-অন্তরালে এক প্রকার আকর্ষণ ও কৌতুহলও জাগায়। দেবী দুর্গা চারেদিকে ঘুরে-ঘুরে সানন্দচিত্তে উপস্থিত অন্যান্য আগন্তুকদের দেখতে থাকেন এবং এক-এক প্রান্তে গিয়ে শিবের দিকেও আবার একবার ফিরে তাকান। তিনি যে দিকেই গিয়ে শিবের দিকে তাকান না কেন, দেখতে পানÑ শিবের অন্য এক-একটি নতুন মুখ লুকোচুরির সে চোরা দৃষ্টি দেখে ফেলার জন্য তার দিকে ফিরে সদা প্রস্তুত আছে। যাহোক শিবের এমন আরও কিছু-কিছু অলৌকিকতায় দেবীর আত্মা বিগলিত ও প্রসন্ন হয়। এর নির্বাচনের নানান পরীক্ষা-নীরিক্ষার ফাঁদ-ফন্দিতে শীব অসাধ্যকে সাধ্য করেন। উপযোগ্য হয়ে মহামায়াকে বিয়ে করেন এবং মহাদেব খেতাবে ভূষিত হন। মহাশক্তিমান মা দুর্গা মহাদেবে’র সাথে স্বর্গে (শ্বশুর বাড়ি) অবস্থান করেন এবং একটি নিয়মতান্ত্রিক নিয়ম ও আনুষ্ঠানিকতায় অর্থাৎ কালের বোধন বসন্ত কালের বাসন্তী পুজায় মর্তালোক (বাপের বাড়ি) পরিভ্রমনে আসেন। তিনি তাঁর এ পরিভ্রমণে এক এক বার এক এক রকম বাহন ব্যবহার করেন। তখন তিনি মাতৃরূপে সরাসরি মর্তের বিভিন্ন সৃষ্টির ভারসাম্যপূর্ন সহঅবস্থান ও প্রার্থনা মঞ্জুরের পর্যালোচনা করেন। পরবর্তীতে রামচন্দ্র কর্তৃক রাবণ নিধন যজ্ঞ (অকালের বোধন/পুজা) অনুষ্ঠিত হয়। আর তারই পরিপেক্ষিতে এই পুজাকে অপেক্ষাকৃত বড় আঙ্গিকে শারদিয়ায় উদ্যাপনের রীতি প্রচালিত হয়।



