বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

রাতের রানি শিউলি ফুল/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
রাতের রানি শিউলি ফুল/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও মায়াবী আবেশ ছড়ায় ছোট্ট শিউলি ফুল। রাতের বেলা ফোটা এবং সূর্য ওঠার আগেই ঝরে পড়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে ফুলটিকে বলা হয় ‘রাতের রানি’। ভোরে শিউলি গাছের নিচে সাদা-কমলা ফুলের বিছানা তৈরি হয়। শিশিরভেজা ফুলের মিষ্টি সুবাসে চারপাশ ভরে ওঠে এক অপূর্ব স্নিগ্ধতায়।

শরৎ ও হেমন্তের অন্যতম আকর্ষণ শিউলি। এর সাদা পাপড়ির মাঝখানে উজ্জ্বল কমলা রঙের বোঁটা ফুলটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র সৌন্দর্য। ফুলটি আকারে ছোট; সাধারণত পাঁচ থেকে সাতটি সাদা পাপড়ি থাকে। শিউলি গাছের ছাল ধূসর ও কিছুটা নরম, উচ্চতা প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর পাতাগুলো খসখসে এবং বিপরীতমুখী বিন্যাসে সাজানো থাকে। ইংরেজিতে ফুলটি ‘নাইট জেসমিন’ নামেও পরিচিত। হিন্দু পুরাণে একে স্বর্গের ফুল ‘পারিজাত’ বলা হয়েছে।

শিউলি ফুল ছাড়া বাঙালির শারদীয় উৎসব ও দুর্গাপূজার আবহ যেন পূর্ণতা পায় না। হিন্দুধর্মে পূজার্চনায় ফুলটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মাটিতে ঝরে পড়ার পরও শিউলি ফুল পূজার অঞ্জলিতে ব্যবহার করা হয়। এর সৌন্দর্য ও সুবাস বাঙালির শরৎকালীন প্রকৃতি ও উৎসবের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে।

পুরাণের কাহিনি অনুসারে, পারিজাতিকা নামে এক রাজকন্যা সূর্যদেবের প্রতি ব্যর্থ প্রেমের কারণে আত্মহত্যা করলে তাঁর চিতাভস্ম থেকে শিউলি গাছের জন্ম হয়। সূর্যের তীব্র আলো সহ্য করতে পারে না বলেই ফুলটি ভোরে ঝরে পড়ে—এমন লোকবিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে।

আবহমান বাংলার এই চিরচেনা ফুলকে ঘিরে পৌরাণিক কাহিনি, গান, কবিতা ও সাহিত্য রচিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিউলিকে ‘শেফালি’ নামেও উল্লেখ করেছেন। কাজী নজরুল ইসলামসহ বহু কবি-সাহিত্যিকের সৃষ্টিতে শিউলি ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাস স্থান পেয়েছে।

শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে এর ঐতিহ্যগত ব্যবহারও। অতীতে ফুলের কমলা রঙের বোঁটা শুকিয়ে গুঁড়া করে কাপড় রং করার কাজে ব্যবহার করা হতো। এ থেকে সোনালি-হলুদ রং তৈরি করা সম্ভব। ভারতের কিছু অঞ্চলে শিউলি ফুল ও এর বিভিন্ন অংশ খাবার তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। শিউলি পাতার রস লোকজ চিকিৎসায় জ্বর, বাতব্যথা, কৃমি ও কাশির উপশমে ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে এসব চিকিৎসাগত ব্যবহারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।

শিউলি কেবল একটি ফুল নয়; এটি বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য, শারদীয় উৎসব ও নস্টালজিয়ার এক অনন্য প্রতীক। ভোরের শিশিরে ভেজা সাদা-কমলা পাপড়ি আর মিষ্টি সুবাস নিয়ে শিউলি প্রতিবছর প্রকৃতিকে সাজায় নতুন রূপে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

পাইকগাছায় চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় আলোচিত গ্রেনেড বাবু ওরফে ডন বাবু ওরফে মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শরাফপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেনেড বাবু তাঁর স্ত্রীর সিম ব্যবহার করে গত ১৭ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জি এম আব্দুস সাত্তারের কাছে ১০ লাখ টাকা এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্কাস আলীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসনারা বিনতে আহমেদের কাছেও ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২৭ অক্টোবর পাইকগাছা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলা দুটির নম্বর ২৭ ও ২৮। অন্যদিকে, ডা. আহসনারা বিনতে আহমেদ সাধারণ ডায়েরি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আজিজুর রহমান জানান, মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং রামপাল থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেনেড বাবু, তাঁর স্ত্রী ও মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেনেড বাবুর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আব্দুল আউয়াল কবির বলেন, গ্রেনেড বাবু পরিচয়ে একটি চক্র চিকিৎসক ও দুই আইনজীবীর কাছে ফোনে চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

শ্যামনগরে সুশীলনের নতুন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সুশীলনের নতুন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা সভা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ুবিষয়ক কার্যক্রম জোরদার করতে বেসরকারি সংস্থা সুশীলনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে ইউএনডিইএফের সহযোগিতায় এ সভা হয়।

প্রকল্প সমন্বয়ক শেখ মো. নুরুন্নবী প্রিন্সের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওহেদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার মণ্ডল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

সভায় বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্প সমন্বয়ক শেখ মো. নুরুন্নবী প্রকল্পের মেয়াদ, লক্ষ্য, প্রধান কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন এলাকা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শ্যামনগরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বয় সভা

মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপজেলা অ্যাডভোকেসি গ্রুপের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা অ্যাডভোকেসি গ্রুপের সদস্যসচিব পীযুষ বাউলিয়া পিন্টু। প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্যামনগর সরকারি মহসিন অনার্স কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেন।

ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় গভর্ন্যান্স ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট (জি৪সিআর) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত সভায় গত তিন মাসের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। ইউনিয়নভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ, কার্যকর অ্যাডভোকেসি কৌশল প্রণয়ন এবং দায়িত্ব বণ্টন ছিল সভার মূল লক্ষ্য।

আলোচনায় সহায়তা করেন প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার নাজিমউদ্দীন আহম্মেদ, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মোস্তাক আহম্মেদ, সিডিওর নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান এবং ফিল্ড অর্গানাইজার ছালমা পারভীন ও মিনারুল ইসলাম।