মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

লবণাক্ততার আগ্রাসন ও দুর্যোগ: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
লবণাক্ততার আগ্রাসন ও দুর্যোগ: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে একসময় মাটির তৈরি দেওয়াল আর খড়ের ছাউনির ঘরই ছিল সাধারণ মানুষের প্রধান আশ্রয়। কৃষি-নির্ভর এই জনপদে যুগ যুগ ধরে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে এই মাটির ঘরেই বাস করত। তবে ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র পর থেকে মাটির ঘর নির্মাণ এ অঞ্চলে নেই বললেই চলে। আইলার পর বুলবুল, আম্পান, ইয়াসের মতো একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলের মাটি ও মানুষের জীবনকে ওলটপালট করে দিয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসের লোনা পানি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সংকুচিত হয়েছে কৃষিজমি, আর তাতেই হারিয়ে যেতে বসেছে উপকূলের চিরচেনা এই মাটির ঘর।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলের বেলে-দোঁয়াশ ও এঁটেল মাটি মিশিয়ে ম- তৈরি করা হতো। এরপর হাতের সুনিপুণ কারুকাজে মাটির ‘চাফ’ (দলা) কেটে ধাপে ধাপে তৈরি হতো ঘরের মজবুত দেওয়াল। কিন্তু ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির দেওয়াল ধসে আসবাবপত্র নষ্ট হওয়া এবং শিশুসহ মানুষ চাপা পড়ার ঘটনার পর থেকে এই ঘরের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। এর ওপর বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটির সংকট। চিংড়ি ঘেরের কারণে লোনা পানি ঢুকে টপ-সয়েলের (মাটির উপরিভাগ) বুনট নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে ঘর তৈরির উপযোগী আঠালো মাটি এখন আর পাওয়াই যায় না।

উপকূলের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বকালিনগর গ্রামে এখনো কোনোমতে টিকে আছে একটি মাটির ঘর। ঘরের কারিগর কৃষক শ্যামাপদ বৈদ্য বলেন, “এখন আর মাটির ঘর চোখেই পড়ে না। অথচ ২০-২৫ বছর আগে পৌষ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত মাটির দেওয়াল তৈরির কাজে আমাকে দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হতো। এই ঘরগুলোতে খরচ কম, আরাম বেশি। বাইরে ঝড়-বৃষ্টি হলেও ভেতরে সহজে টের পাওয়া যেত না। এখনকার বেড়ার ঘরে সামান্য বাতাসেই বুক কাঁপে। আগেকার মাটির উঁচু ঘর চোর-ডাকাতদের থেকেও নিরাপদ ছিল।”

শ্যামাপদ বৈদ্যের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী বৈদ্য বলেন, “আইলার আগে আমাদের তিনটি মাটির ঘর ছিল, সব ভেঙে গেছে। এবার খরচ ও পরিশ্রম কমাতে শুধু গোয়ালঘরটা আবার মাটি দিয়েই তৈরি করছি। বছরে একবার গোবর-মাটি দিয়ে লেপে দিলেই এক বছর চলে যায়।”

স্থানীয় শিক্ষক মনোজিৎ কর্মকার বলেন, “আগে গ্রামে প্রায় সব ঘরই ছিল মাটির। মানুষ তখন শান্তিতে থাকত, রোগবালাই কম ছিল। মাটির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু লোকায়ত জ্ঞানসম্পন্ন প্রবীণ মানুষ ছিলেন। বছরের শুরুতে পৌষ-মাঘ মাসে কৃষিজমির বিশেষ মাটি তুলে ঘর বাঁধার প্রস্তুতি নেওয়া হতো। মাটি পেটানো, শুকানো আর ধাপে ধাপে দেওয়াল তুলতে তিন-চার মাস সময় লেগে যেত।” তিনি আফসোস করে বলেন, মাটির ঘরের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলসের ব্যবহারও এখন বিলুপ্তির পথে।

বেসরকারি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম এই পরিস্থিতিকে ‘সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার নীরব বিপ্লব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “উপকূলে মাটির ঘর ছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের ঐতিহ্য। একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে থাকার ঘর, গোয়াল ঘর, খড় রাখার ঘরÑসবই মাটির তৈরি হতো। এগুলো ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বেঁচে থাকার প্রতীক। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ এবং উপরিভাগের পানি ও মাটি অতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে পড়েছে, যা মাটির স্বাভাবিক আঠালো বুনট নষ্ট করে দিয়েছে। মাটি ও পানির সংকটে এ অঞ্চলের কুমারদের পেশাও বদলে যাচ্ছে।”

শাহিন ইসলাম আরও বলেন, উপকূলে লবণ পানির এই আগ্রাসন ও জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রুখতে না পারলে শুধু মাটির ঘরই নয়, প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্যকেও টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

Ads small one

পাইকগাছায় নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

পলাশ কর্মকার, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর দেলুটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দারুণ মল্লিক গ্রামের ২২ নম্বর পোল্ডারের স্লইসগেটের পানিতে স্থানীয়রা মরদেহটি ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি পাইকগাছা থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় স্লুইসগেটের পানির ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির বলেন, মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী সকল থানায় তার সম্পর্কে জানিয়ে ও ছবি দিয়ে মেসেজ পাঠিয়েছি। আমরা তার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।

পাইকগাছায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে; মশা দমনে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে; মশা দমনে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। খুলনা শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাইকগাছাতেও দিন-দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মুহুতে কর্যকর পদক্ষেপ বা মশক নিধনে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এটা না হলে পরিস্থিতি আরোও নাজুক হতে পারে। এ অবস্থায় পৌরবাসি মশক দমনে সংশ্লিষ্টদের জরুরি পদক্ষেপের দাবি করেছেন।

জানাগেছে, ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করা হয়েছে।

৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বিভিন্ন রোগ নিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১১০/১২০ জন রোগি ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর বেড সংখ্যা মাত্র ৫টি।

জানাগেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলতি মৌসুমে পৌর কর্তৃপক্ষের মশক দমনে এখনো কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মশক দমনে এখনো সরকারী বরাদ্দ মেলেনি। তবে, পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারী বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে আমরা পৌরসভার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগামী সপ্তাহে মশক দমনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঔষধ স্প্রে করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ ময়না বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন ১০/১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। এক্ষুনি মশক নিধন ও সচেতন না হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরোও খারাপ হতে পারে। হাসপাতালে ডাক্তার বা জনবল সংকট থাকা স্বত্তেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

 

 

শ্যামনগরে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য ও মানসিক বিকাশে সহায়তার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ (ভাব)-এর আয়োজনে সোমবার (২৪ আগস্ট) আটুলিয়া ইউনিয়নের ছফিরুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যায়ল এবং মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মশালা দুইটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালা পরিচালনা করেন বিশিষ্ট থেরাপিউটিক কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপিস্ট মোহাম্মদ মকসুদ মালেক।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাব বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসনাইন সবিহ নায়ক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাব বাংলাদেশের সহকারী কান্ট্রি ডিরেক্টর এম. এ. আলিম খাঁন, ফ্রেন্ডশিপের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ হাসান আলী, প্রজেক্ট অফিসার মো. সুৃমন আলী। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ভাব বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর অহিদুজ্জামান লিটন।

কর্মশালায় উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২ টি মাদ্রাসার ৮০ জন শিক্ষার্থী, ৪২ জন শিক্ষক ও ৪২ জন অভিভাবক অংশগ্রহণ করেন।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ছফিরুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, হেঞ্চি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নওয়াবেঁকী বিশালাক্ষী কাদেরিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা, সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন, কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আড়পাঙ্গাশিয়া পি এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভেটখালী এ করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রমজাননগর ইউনিয়ন তোফাজ্জেল বিদ্যাপীঠ, ভুরুলিয়া নাগবাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতন, জোবেদা সোহরাব মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চালিতাঘাটা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা।

কর্মশালায় শিশু ও কিশোরদের (০-১৮ বছর) মানসিক স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ, মানসিক সংকট, কাউন্সেলিং, প্রেরণা (মোটিভেশন), হাইপার ও হাইপো আচরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে করণীয় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। কর্মশালা শেষে অংশ গ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।