বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

শতবর্ষী আব্দুল কাদেরের জীবন চলে নাতনির ভিক্ষার টাকায়, মেলেনি সরকারি ঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
শতবর্ষী আব্দুল কাদেরের জীবন চলে নাতনির ভিক্ষার টাকায়, মেলেনি সরকারি ঘর

0-4064x3074-0-0#

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ফয়জুল্যাপুর গ্রামে এক জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে চরম অভাব আর অনাহারে দিন কাটছে শতবর্ষী বৃদ্ধ আব্দুল কাদের সরদারের। কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় প্রতিবন্ধী নাতনির ভিক্ষার টাকা এবং সামান্য সরকারি ভাতায় চলছে তিন সদস্যের এই পরিবারের জীবনসংগ্রাম।
ফয়জুল্যাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের বয়স একশ বছর পেরিয়ে গেছে। ১৫-১৬ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। তিন কন্যাসন্তান থাকলেও তারা সবাই দরিদ্র এবং স্বামীর সংসারে থাকেন। বর্তমানে বিদ্যুৎহীন একটি ছোট্ট পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ঘরে কাদেরের সঙ্গে থাকেন তার প্রতিবন্ধী নাতনি আহ্লাদী ও নাতনির দুই বছরের এক কন্যাসন্তান। ভাঙা ঘরে রোদ-বৃষ্টির মধ্যেই তাদের বাস করতে হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কাদেরের নামে মাসে ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতা এবং তার নাতনির নামে ৮৩৩ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতা রয়েছে। এই সামান্য টাকায় চাল, ডাল, ওষুধ ও শিশুর খাবার কেনা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবার এবং নাতনি আহ্লাদীর ভিক্ষার আয়ের ওপরই তাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। টাকার অভাবে এই ঘরে আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের কোনো সংযোগও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আব্দুল কাদেরের কপালে কোনো ঘর জোটেনি। জীবনের শেষ সময়ে এসে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, দুমুঠো অন্ন আর ঘরের আলোর আকুতি জানিয়েছেন এই বৃদ্ধ।
ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, আব্দুল কাদেরকে ইতিমধ্যে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি ঘরের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে বরাদ্দ কম থাকায় কিছুটা সময় লাগছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের নানা প্রতিশ্রুতি দেখা গেলেও এই অসহায় পরিবারের পাশে টেকসই সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি। বৃদ্ধ আব্দুল কাদেরের শেষ জীবনটা একটু শান্তিতে কাটানোর জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিত্তবান ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাকে ‎সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: ‎নাম: আব্দুল কাদের সরদার, ‎গ্রাম: ফয়জুল্যাপুর, ডাক: ব্রহ্মরাজপুর, ‎উপজেলা: সাতক্ষীরা সদর, জেলা: সাতক্ষীরা, ‎মোবাইল: ০১৩১১০৫৪৮৩৫ (নগদ)।

Ads small one

আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

সাতক্ষীরায় মোট পরীক্ষার্থী ১৫,৯০৬, এইচএসসি ১১৪০২, আলিম ১৮৪২, ভোকেশনাল ২৬৬২
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সাতক্ষীরা জেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি (ভোকেশনাল) মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। জেলার মোট ৪০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সাধারণ ধারায় এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার ২৩টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৯০৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৪৯৭ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ৯টি কেন্দ্রে মোট অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৩৫ জন এবং ছাত্রী ৭০৭ জন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় জেলার ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৯৭৯ জন ছাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর উক্ত তথ্য দিয়ে জানান, সবকটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে নাব্যতা হারানো সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঐতিহাসিক জাহাজমারী খালটি পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিতে। খরা মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এই খালের সুবিধাভোগী ছয়টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার কৃষক।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খনন করা এই খালটি নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণের যৌথ উদ্যোগে ‘সফল ফর আইডব্লিউআরএম’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি পুনঃখনন করা হয়। দলুইপুর থেকে গোছমারা লস্কার বড় খাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৩ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ৬২৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শেখ আব্দুর রব ও খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের জানান, একসময় সেচের পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকত, আবার বর্ষায় ফসল তলিয়ে লোকসান গুনতে হতো। এখন পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও খালটি সচল রাখতে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে একটি তহবিল গঠন করেছেন, যা দিয়ে প্রতিবছর এটি পরিষ্কার করা হবে।
এদিকে, পুনঃখননকৃত খালের নাব্যতা ধরে রাখতে গত সোমবার দুপুরে যুগিখালী ইউনিয়নের আড়খালী মসজিদ-সংলগ্ন জাহাজমারী খালে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

 

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্রী অপহরণের দুই সপ্তাহ, উদ্ধার ও মামলা নিয়ে অসন্তোষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কলেজছাত্রী অপহরণের দুই সপ্তাহ, উদ্ধার ও মামলা নিয়ে অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অপহরণের দুই সপ্তাহ পার হলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ এখনো মামলা রেকর্ড করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অপহৃত ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ রিফা তাসফিয়া সদর উপজেলার শ্রীরামপুর মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা ও ওই কলেজের শিক্ষক ফিরোজ হোসেন জানান, গত ১৭ জুন দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসে করে রিফাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় তিনি চৌবাড়িয়া গ্রামের অয়েজ কুরুনি, আল আমিন ও আল মামুনুল হকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ২৩ জুন থানায় এজাহার দেন। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও মেয়েকে উদ্ধার বা মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। রিফা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মামলা ও উদ্ধারের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুজ্জামান জানান, ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, অভিযুক্তরা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে অপহরণের পরও মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।