শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ: টেকসই সমাধানের বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ: টেকসই সমাধানের বিকল্প নেই

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা এখন আর কেবল সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, এটি রূপ নিয়েছে এক স্থায়ী ও মানবিক বিপর্যয়ে। সম্প্রতি শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় ভুক্তভোগী মানুষ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মানববন্ধনে উঠে আসা চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বছরের পর বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই সাতক্ষীরা শহর ও এর আশপাশের নি¤œাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ। একটি জেলা শহরের বাসিন্দারা দিনের পর দিন এভাবে জলবন্দী জীবন যাপন করবেনÑতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এবারের কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে যে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। বিশেষ করে ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করার দাবিগুলো সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা সংকটের মূল কারণকেই নির্দেশ করে। বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পানি নিষ্কাশনের পথ ও প্রাকৃতিক খালগুলো ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং যত্রতত্র মাছের ঘের তৈরি করে পানির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যখন বৃষ্টিপাতের ধরন অনিয়মিত হয়ে উঠছে, তখন আমাদের অবহেলা ও নদী-খাল দখলের মরণনেশা এই সংকটকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু সাময়িক ড্রেন নির্মাণ কিংবা জোড়াতালির সংস্কার দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানসম্মত মহাপরিকল্পনা।
আমরা মনে করি, অবিলম্বে সাতক্ষীরা শহরের ভেতরের সব নালা-নর্দমা সচল করতে হবে এবং শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত নদী ও খালগুলোকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ও জেলা প্রশাসনকে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত ও পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সাতক্ষীরার লাখ লাখ মানুষের কষ্ট লাঘব এবং এই জনপদকে বাসযোগ্য রাখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ইটাগাছাসহ পুরো জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads small one

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

তালা প্রতিনিধি: খুলনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তালা প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক যৌথ বিবৃতিতে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দ্দার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংগঠনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম জাতিসংঘ পার্কসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। এতে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মোড় কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নিদিষ্ট স্থানে নির্মাণ কল্পে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর কুলিয়া কাঁচা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ মোড় চত্বরে মসজিদ নির্মাণ কল্পে এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুলিয়া কাঁচা বাজারে ও ইউনিয়ন পরিষদে আসা বহু মুসল্লি উক্ত মসজিদে নামাজ পড়ত। মসজিদটি ভেঙে দেওয়ার কারণে মুসল্লীদের নামাজ পড়তে দুভোর্গে পড়তে যাচ্ছে। সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে পাকা না হলেও এখনি একটি টিন সেটের মসজিদ নির্মাণ করার দরকার। মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুঠিত হয়।

সভায় বক্তব্যে রাখেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. জাহাঙ্গীর কবির বাবু, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন বাবলু, জামায়াত নেতা মাছুম খান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকন, মোসফিকুর রহমান, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইয়াকুব আলী প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদ নির্মাণ কল্পে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আমিনুর রহমানকে আহবায়ক ও অন্যান্য সদস্যরা যথাক্রমে মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান সবুজ, মাসুম খান চৌধুরী, মাওলানা রুহুল আমিন, দেলোয়ার হোসেন বাবলু, সাংবাদিক রুহুল আমিন, আব্দুস সামাদ গাজী, সিরাজুল ইসলাম মোড়ল,এ্যাডঃ আল আমিন, রওশন সরদার, আবুল কাশেম ও মাওলানা ইয়াকুব আলী।

 

 

 

বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের প্রথম এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত।

খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক রাড়ুলী গ্রাম। ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তাঁরও জন্মের ১১ বছর আগে ১৮৫০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুধু তাইনা, এটি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মের প্রায় ৩০ বছর আগের ঘটনা।

দেশের প্রথম ও ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালী নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়। তৎকালীন সময়ে একবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রাড়ুলী গ্রামে বেড়াতে আসেন। তিনি তখন আচার্য পিসি রায়ের বাবা হরিশ চন্দ্রকে নারী শিক্ষার উন্নয়নে একটি আলাদা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য তাগিদ দেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় হরিশ্চন্দ্র নিজ গ্রাম রাড়ুলীতেই তাঁর স্ত্রীর নামে ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি বিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্রী হিসেবে তাঁর স্ত্রী ভুবন মোহিনীকেই ভর্তি করেন। এটিই বাংলাদেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন অনেক জ্ঞানী গুণি মানুষ।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুই শ এর উপরে জন ছাত্রী, ১৫ জন শিক্ষক- শিক্ষিকা এবং ৪জন কর্মচারী রয়েছেন। ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা জাতীয়করণ হয়নি। এটি জাতীয়করণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।

ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষ, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদ মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও জাতীয়করণ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়টি তার গৌরবময় ইতিহাসকে ধারণ করে দেশের নারী শিক্ষায় আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।