বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় চালু হলো ১০০ শয্যার ‘ব্লিস হাসপাতাল’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চালু হলো ১০০ শয্যার ‘ব্লিস হাসপাতাল’

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা ও আশপাশের অঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শহরে যাত্রা শুরু করেছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘ব্লিস হাসপাতাল’। শহরের পলাশপোলের চৌরঙ্গী মোড়ে মনোরম পরিবেশে হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখানে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবাসহ দেশের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত পরামর্শের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় রোগীদের আর ঢাকা বা দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না।

রোগীদের নিবিড় পরিচর্যার জন্য হাসপাতালটিতে আধুনিক আইসিইউ, সিসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া গাইনি ও চোখের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য তিনটি সর্বাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, কিডনি ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি এবং সার্বক্ষণিক প্রসূতি ও নবজাতক সেবা বিভাগ চালু করা হয়েছে।

সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালটিতে বিশ্বমানের ডায়াগনস্টিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে ১.৫ টেসলা এমআরআই, ৩২-স্লাইস সিটি স্ক্যান, ৪ডি আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডিজিটাল এক্স-রে ও পিসিআরসহ সব ধরনের আধুনিক পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্টদের মাধ্যমে এই রেডিওলজি ও প্যাথলজি সেবা সার্বক্ষণিক পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও নন-এসি কেবিন, সার্বক্ষণিক লিফট, জেনারেটর এবং দূরপাল্লার রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সেবার পাশাপাশি হৃদরোগ, নিউরো, মেডিসিন, চর্ম, শিশু, ইউরোলজি ও অর্থোপেডিকসহ প্রায় সব বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগী দেখছেন।

 

 

 

 

 

Ads small one

ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অভিযোগ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির একটি আউটলেটকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ মে ঈদের পরদিন বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।

তবে ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সাজানো বলে দাবি করেছেন ইউএনও। তিনি বলেছেন, এমন অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। আপা সম্বোধন করা কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন প্রচার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সেদিন নিজের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ক্রেতার বেশে তাজপুর বনফুল শাখায় যান ইউএনও মুনমুন নাহার আশা। ইউএনও দোকানের কর্মচারী আব্দুল মান্নানের কাছে প্রথমে চকলেট আইসক্রিম চান। সেটি না থাকায় ইউএনও মিষ্টির কাউন্টারে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির দাম ও মান জানতে চান। এ সময় আব্দুল মান্নান তাকে ‘আপা’ সম্বোধন করে মিষ্টিগুলো শুকনো এবং দুদিনের পুরোনো বলে জানান।

‘আপা’ সম্বোধন করায় ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল মান্নানকে বলেন, ‘তুমি আমাকে চিনো? আমাকে আপা ডাকছ কেন? আমি ম্যাজিস্ট্রেট।’ এরপর তিনি ম্যানেজারকে ডেকে এনে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

আব্দুল মান্নানের দাবি, একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তিনি প্রথমে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন ছয় মাসের জেল ও আরও বেশি জরিমানার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এই বিষয়ে আব্দুল মান্নান সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) তাহসিনা রুশদীর লুনার শরণাপন্ন হন এবং বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান।

আব্দুল মান্নান বলেন, আমি ২৬ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি। চাকরি জীবনে অনেক ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু এমন ঘটনার সম্মুখীন কখনও হইনি। আমার কাছে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তবে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তার চাকরি রক্ষা পায়। বর্তমানে তাকে বনফুলের সিলেট কারখানায় বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকার জরিমানার অর্থ তার বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার কাছে গিয়েছিলেন। এমপি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করাই সমীচীন হবে।

তবে ‘আপা’ সম্বোধন করায়ই যে জরিমানা করা হয়েছে, এমন দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন বনফুল তাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাইরে ছিলাম। মান্নান ম্যাডামকে চিনতে পারেননি। তার আচরণে ইউএনও ম্যাডাম ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তবে বিষয়টি পরে সমাধান হয়ে গেছে।’

জরিমানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুকনো মিষ্টি দু-চার দিন রেখে বিক্রি করা যায়। ঈদের সময় অন্য মিষ্টি ছিল না, শুকনো মিষ্টি থাকায় জরিমানা করেন ইউএনও। জরিমানার টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বনফুলের তাজপুর শাখায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দাখিল করা রশিদ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় তাদের মিষ্টি বাসি। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারি স্বীকার করেন এগুলো অনেক আগের মিষ্টি এবং পুরোনো ও নতুন মিশ্রিত আছে।

তিনি বলেন, এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করার সময় অবিযুক্ত পালিয়ে যান এবং মোবাইল বন্ধ করে রাখেন। পরে বনফুলের ওই শাখার ম্যানেজার তাকে খুঁজে এনে উপস্থিত করেন এবং পলানোর অভিযোগে কোম্পানি ও ওই কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকার তথা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করছে।

‘আপা’ সম্বোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। আপা সম্বোধন করা কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।

৬ শিশুর মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের কমিটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
৬ শিশুর মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের কমিটি

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রতিবেদন দেন তারা।

বুধবার (৩ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর গঠিত কমিটি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাদের প্রতিদেবন জমা দেবে। ওইদিন বিকাল ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন।

বুধবার (২৭ মে) মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ‘গ্যাস লিকেজে’ এক ওয়ার্ডেই ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

ধর্মীয় উপদেশে হোঁচট খাচ্ছে এআই, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ধর্মীয় উপদেশে হোঁচট খাচ্ছে এআই, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

বিভিন্ন গির্জা, ধর্মীয় অ্যাপ কিংবা স্পিরিচুয়াল চ্যাটবটগুলোতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে এআই মডেলগুলো সুকৌশলে ধর্মকেই বাদ দিয়ে দিচ্ছে। শোক, ক্ষমা, বিয়ে, অপরাধবোধ কিংবা ধর্মান্তরিত হওয়ার মতো সংবেদনশীল ও বিশ্বাসের বিষয়ে সাধারণ এআই মডেলগুলো একেবারেই উপযুক্ত নয়।

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ কনসোর্টিয়াম সম্প্রতি তিনটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের যখন ধর্মীয় মতামতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, এআই ব্যবস্থাগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে তখন ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে একপাশে সরিয়ে রাখে। এমনকি ধর্মান্তরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এআই ব্যবহারকারীদের সুকৌশলে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মের দিকে ধাবিত করে এবং অন্য ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। ভ্যাটিকান সিটি থেকে পোপ লিও চতুর্দশের একটি বিশ্বপত্রে সতর্ক করেছিলেন যে, এআই মানুষের বিচারবুদ্ধি নষ্ট করতে পারে, অসমতা বাড়াতে পারে এবং যুদ্ধকে আরও সহজ করে তুলতে পারে।

কনসোর্টিয়াম ফর ইভালুয়েটিং ফেইথ অ্যান্ড এথিক্স ইন এআই এই গবেষণাটি চালিয়েছে। ধর্মের প্রতি এআই-এর প্রতিক্রিয়ার প্রথম নিয়মতান্ত্রিক মূল্যায়ন এই গবেষণা। ২০২৬ সালের ৫ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত আমেরিকার ১ হাজার ১২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এবং ২৭টি বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর ১৫০টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এই ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় ওপেনএআই-এর জিপিটি ৫.৫, অ্যানথ্রোপিকের ক্লদ ৪.৭ এবং গুগলের জেমিনি ৩.১ সহ ১৪টি শীর্ষস্থানীয় মডেলের ধর্মীয় প্রতিনিধিত্ব মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

গবেষকদের তথ্যমতে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা নৈতিক ও জীবনমুখী বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ৪৫ শতাংশ থেকে ৫৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থিতি আশা করেন। অথচ এআই মডেলগুলো মাত্র ৫ থেকে ১৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মের উল্লেখ করেছে। পরীক্ষা করা প্রতিটি এআই মডেলই ব্যবহারকারীদের সুনির্দিষ্ট কিছু বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করার একটি পুনরাবৃত্তিমূলক পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে। যেমন- ক্যাথলিক ধর্ম, বাহাই ধর্ম এবং শিখ ধর্মের প্রতি এআই-এর তীব্র ইতিবাচক পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে। অন্যদিকে জেহোভাস উইটনেসেস নাস্তিক্যবাদ এবং অজ্ঞেয়বাদের প্রতি নেতিবাচক পক্ষপাত তৈরি করেছে।

শোক ও কোনও কিছু হারানোর মতো বিষয়ে মানুষ ৫৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা আশা করলেও এআই তা দেখিয়েছে মাত্র ১৬ শতাংশ ক্ষেত্রে। পরিবার, সন্তান লালন-পালন এবং ক্ষমার মতো বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা ৫৫ শতাংশ হলেও এআই উল্লেখ করেছে মাত্র ১০ শতাংশ। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে মিথ্যা বলা গ্রহণযোগ্য কি না, এমন নৈতিক প্রশ্নে মানুষ ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয় সমাধান আশা করলেও এআই তা মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছে।

ধর্মীয় জীবনে এআই-এর বর্তমান অবস্থা

বাস্তব চিত্র হলো, গির্জার চ্যাটবট, প্রার্থনার অ্যাপ থেকে শুরু করে যাজকদের খুতবা বা ধর্মীয় বক্তব্য তৈরি এবং কাজ পরিচালনার মতো ধর্মীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে এআই ছড়িয়ে পড়েছে। গির্জাগুলো উপাসকদের কাছে পৌঁছাতে এবং ধর্মীয় চ্যাটবট সচল করতে এআই-এর দিকে ঝুঁকছে, যা মূলত একটি বড় প্রশ্ন উসকে দিচ্ছে, ‘আসলে কে বা কী এই ভক্তদের পথ দেখাচ্ছে?’

ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের অধ্যাপক রেভারেন্ড জন পল কিমস এক বিবৃতিতে বলেন, এআই যখন এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলো থেকে ধর্মীয় কণ্ঠস্বরকে সক্রিয়ভাবে বাদ দেয়, তখন তা মানবতাকে সমৃদ্ধ করার পরিবর্তে আরও দরিদ্র করে তোলে।

অন্যদিকে ব্রিঘাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভিড উইনগেট বলেন, গবেষণাটি দেখায় যে এআই সিস্টেমগুলো ব্যবহারকারীদের তাদের জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বাবা-মা, শিক্ষক, বন্ধু এবং থেরাপিস্টদের সঙ্গে আলোচনা করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু কোনও যাজক, রাব্বি, ইমাম বা ধর্মীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেয় না।

গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ধর্মের উল্লেখ করাটা যেমন ধর্মপ্রচারের মতো মনে হতে পারে, তেমনি একে একেবারেই উল্লেখ না করা ধর্মনিরপেক্ষতাকে একমাত্র মাধ্যম বানিয়ে তোলে। তাই এআই-এর উচিত ব্যবহারকারী ধর্ম চাচ্ছেন কি না তা আগ বাড়িয়ে ধরে না নিয়ে, প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কখন ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক সম্পদ প্রাসঙ্গিক তা সঠিকভাবে অনুধাবন করা।

সূত্র: অ্যাক্সিওস