মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় শুক্রবার ‘ওষুধ বিড়ম্বনা’, দীর্ঘ লাইনে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শুক্রবার ‘ওষুধ বিড়ম্বনা’, দীর্ঘ লাইনে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা মিললেও মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ। জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার অর্ধেকের বেশি ফার্মেসি বন্ধ রাখায় তীব্র সংকটে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। খোলা থাকা হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাক্সিক্ষত ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) সাতক্ষীরা শাখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহরের বড় ফার্মেসিগুলো পালাক্রমে প্রতি শুক্রবার বন্ধ রাখা হয়। এক শুক্রবার পপুলার ফার্মেসি, সাতক্ষীরা ড্রাগ ও জিন্না ফার্মেসি বন্ধ থাকলে পরের শুক্রবার বন্ধ থাকে সাতক্ষীরা ফার্মেসি, নাহিদ মেডিকেল ও আলী মেডিকেলের মতো ব্যস্ততম দোকানগুলো।

ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, কর্মচারীদের বিশ্রামের সুযোগ দিতেই এই ‘রোটেশন’ পদ্ধতি। তবে সচেতন মহল বলছে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত অমানবিক।

শুক্রবার ঢাকা ও খুলনা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেখাতে জেলার সাতটি উপজেলা থেকে কয়েক হাজার রোগী শহরে ভিড় করেন। প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে যখন তাঁরা ওষুধের দোকানে যাচ্ছেন, তখন শুরু হচ্ছে নতুন বিড়ম্বনা।

আশাশুনির প্রতাপনগর থেকে আসা সাধন বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডাক্তার দেখানো আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করলাম। এখন ওষুধের দোকানে যে ভিড়, কখন বাড়ি ফিরব তার ঠিক নেই।”
অভিযোগ রয়েছে, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু ফার্মেসি কেবল বড় অংকের (এক মাস বা ১৫ দিনের) ওষুধের মেমো করছে। অল্প টাকার ওষুধ নিতে আসা রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে অথবা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শ্যামনগরের আফজাল শরীফ জানান, অসুস্থ মাকে নিয়ে তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে শহরে এসেছেন। কিন্তু ওষুধের দোকানের দীর্ঘ লাইনে অসুস্থ মায়ের কষ্ট আরও বাড়ছে।

ফার্মেসি বন্ধের এই সিদ্ধান্তে রোগীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করলেও বিসিডিএস সাতক্ষীরার সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “কর্মচারীদের নির্দিষ্ট শিফট না থাকায় তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাদের বিশ্রামের জন্যই এই ব্যবস্থা। তবে সেবায় বৈষম্য বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে, জনস্বার্থে শুক্রবার সব ফার্মেসি খোলা রাখা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের মতে, চিকিৎসাসেবা যেখানে জরুরি সেবা হিসেবে স্বীকৃত, সেখানে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

 

Ads small one

আশাশুনিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে “সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ” শ্লোগানকে সামনে রেখে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালী শেষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমান, অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান, একাডেমীক সুপার ভাইজার হাসানুজ্জামান, প্রেস ক্লাব সভাপতি এস কে হাসান প্রমুখ আলোচনা রাখেন।

শ্যামনগরে সোয়া দুই টন নিষিদ্ধ শামুক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সোয়া দুই টন নিষিদ্ধ শামুক আটক

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা সোয়া দুই টন (২২৫০ কেজি) নিষিদ্ধ শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা সদরের নকিপুর বাজারে এক যৌথ অভিযানে ৫০ বস্তা ভর্তি এই শামুক জব্দ করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ ও শ্যামনগর থানা পুলিশ কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানে বস্তাভর্তি নিষিদ্ধ শামুকগুলো কক্সবাজারে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. হানজালা নামের এক ব্যক্তি এসব শামুক কক্সবাজারের নূর আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর জন্য বুকিং করেছিলেন। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এর তফসিল অনুযায়ী এসব শামুক ও ঝিনুক আহরণ, পরিবহন ও বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বন কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা শামুকগুলো বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। এই পাচার চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকা থেকে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছিল বন বিভাগ। একটি অসাধু চক্র সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করে আসছে, যা উপকূলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি।

বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম সালিমউদ্দীন বহিস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম সালিমউদ্দীন বহিস্কার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম সালিমউদ্দীনকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বহিস্কার করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি মনগড়া আইন ও নিয়মনীতিতে মাদ্রাসা চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি ছুটি না নিয়ে তিনি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। এবং গোপনে মাদ্রাসার জিনিস পত্র আত্মসাৎ করেন। এছাড়া মাদ্রাসা কমিটি ও দাতা সদস্যগনকে মাদ্রাসার আয় ব্যায়ের হিসাব না দিয়ে কেটে পড়েছেন। অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ তোলেন দাতা সদস্যগন। আনীত অভিযোগের ভিত্তিকে সোমবার বাদ এশা মাদ্রাসা চত্বরে ম্যানেজিং কমিটি সভার আয়োজন করে। মাদ্রাসার জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা মো. তমিজউদদীন গাজীর সভাপতিত্বে সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে অভিযুক্ত মুহতামিম মাও. সালিমউদ্দীনকে মুহতামিম পদ হতে বহিষ্কার করা হয়। পরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। এবং জমি দাতা সদস্যগণের মধ্যে অন্যতম সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা তমিজউদ্দীন গাজীকে সভাপতি করার প্রস্তাব হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। নতুন কমিটি আগামী মাসিক সভার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সদ্য ঘোষিত মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি, দাতা সদস্যগন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সিদ্ধান্তমতে বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসায় দান, যাকাত,ফিতরা, মান্নত ইত্যাদি বিষয়ে ০১৭৮০৩০৭৯৩০ অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করতে এবং বহিস্কৃত মাও. সালিমউদ্দীন এর সাথে মাদ্রাসার বিষয়ে যোগাযোগ না করার জন্য অভিভাবক ও দাতাগনকে অনুরোধ জানান ম্যানেজিং কমিটি। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ও নতুন কমিটির সিদ্ধান্ত মতে মাওঃ মোঃ আমজাদ হোসেনকে নতুন মুহতামিম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সবশেষে দোয়ানুষ্ঠানের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।