মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

হারিয়ে যাওয়া আভিজাত্য: অন্দরমহলের ‘গোলাপ জাম’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাওয়া আভিজাত্য: অন্দরমহলের ‘গোলাপ জাম’

তারিক ইসলাম

‎শহুরে ব্যস্ততা কিংবা আধুনিক ফলের ভিড়ে আমরা অনেকেই হয়তো ভুলে যেতে বসেছি এমন এক ফলের নাম, যা একসময় এদেশের বনে-বাদাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় হরহামেশাই দেখা যেত। ফলটির নাম ‘গোলাপ জাম’। শুধু নামেই নয়, এর রূপ এবং সুবাসেও জড়িয়ে আছে এক রাজকীয় আভিজাত্য। কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ আর পাকলে ঈষৎ হলদেটে বা গোলাপি আভা ধারণ করা এই ফলটি মুখে দিলে সত্যিই মনে হয় কোনো গোলাপের নির্যাস আস্বাদন করা হচ্ছে। অথচ কালের বিবর্তনে আমাদের চেনা প্রকৃতির বুক থেকে এই ফলটি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

‎উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় গোলাপ জামের বৈজ্ঞানিক নাম ঝুুুমরঁস লধসনড়ং। এটি মূলত ‘মির্টাসি’ গোত্রের একটি চিরহরিৎ বৃক্ষ। বৈশ্বিক পরিমন্ডলে এটি ‘রোজ অ্যাপল’ কিংবা ‘মালাবার প্লাম’ নামে পরিচিত হলেও, আমাদের উপমহাদেশে এর পরিচয় মূলত ‘গোলাপ জাম’ বা ‘গুলাব জামুন’ হিসেবে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এটিকে পরম মমতায় ‘মেওয়া ফল’ বলেও ডাকা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফিলিপাইন, চীন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়ায় এই গাছটি প্রাকৃতিকভাবেই দারুণভাবে মানিয়ে নেয়।

‎ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, এই গোলাপ জামের রয়েছে এক গৌরবময় অতীত। একসময় মোগল বা সুলতানি আমলের রাজা-বাদশাহদের হেরেমখানা কিংবা অন্দরমহলের অত্যন্ত প্রিয় এবং অভিজাত ফল ছিল এটি। এর তীব্র মিষ্টি সুবাস এবং রসালো স্বাদের কারণে রাজকীয় বাগিচায় এই গাছের ঠাঁই হতো সবার আগে। গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে যখন বর্ষার আগমন ঘটে, ঠিক তখনই বাজারে বা গাছে উঁকি দেয় এই ফল। এটি শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে দারুণ কিছু ঔষধি গুণ ও পুষ্টিগুণ। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হাড়ের গঠনে সাহায্য করে।

‎দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছেই গোলাপ জাম একটি অচেনা নাম। দ্রুত নগরায়ণ, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং বাণিজ্যিক ফলের জোয়ারে এই ঐতিহ্যবাহী দেশি ফলটি আজ কোণঠাসা। বাণিজ্যিকভাবে চাষ না হওয়ায় নতুন করে কেউ আর গোলাপ জামের চারা রোপণ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে পুরোনো গাছগুলো মরে যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটি সুমিষ্ট অধ্যায়।

‎আমাদের দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই রাজকীয় ফলের স্বাদ ও ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন নার্সারি বা বোটানিক্যাল গার্ডেনে গোলাপ জামের বংশবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এর চারা বিতরণ করা প্রয়োজন। একই সাথে, বাড়ির আঙিনায় বা ছাদবাগানে শখের বশে হলেও এই গাছটি রোপণ করে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি অন্দরমহলের সেই প্রাচীন সুবাস। আমাদের উদাসীনতায় হারিয়ে না যাক প্রকৃতির এই অনন্য উপহার; বেঁচে থাকুক গোলাপ জাম, টিকে থাকুক আমাদের চেনা বাংলার সবুজ ঐতিহ্য।

‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

Ads small one

পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবেই বেশ জনপ্রিয়তা পান প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে এখন নায়িকা হিসেবেই তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি সিনেমাতে প্রধান নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দীঘি জানান, জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির বায়োপিকে তিনি কাজ করতে চান। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে বলেও মন্তব্য করেন নায়িকা।

কেন পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান সেটিও তিনি জানান। তার কথায়, কোনও একটি অনুষ্ঠানে পরীমণি জানিয়েছেন তার বায়োপিকে তিনি নিজেই অভিনয় করবেন। কারণ অন্য কেউ পারবে না। সে চ্যালেঞ্জ থেকেই দীঘি কাজটি করতে আগ্রহী।

দীঘির ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় তার (পরীমণি) বায়োপিক যদি হয় তাহলে এটি দারুণ একটি এন্টারটেইমেন্ট বায়োপিক হবে।’

নায়িকা হিসেবে দীঘির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো-‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’, ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ও ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত ‘বিদায়’ সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়।

আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ নারীদের এশিয়া কাপে বাঁচা মরার ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ১০৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে । তবে এদিন শুরুতেই বাংলাদেশকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল।

বিশেষ করে আগে ব্যাট করতে নেমে চাপে থাকা বাংলাদেশ যখন ৫৫ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। তবে শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তার ৩১ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।

টাইগ্রেস ওপেনার দিলারা আক্তার রানের খাতা খোলার আগে প্রথম ওভারেই বিদায় নিয়েছেন। ৩ বলে ০ রান করেন দিলারা। তিনে নেমে ব্যর্থ ছিলেন সোবহানা মোস্তারীও। ৬ বলে ৩ রান করেছেন তিনি। টিকে থাকা ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১ রান তোলে বাংলাদেশ।

পাওয়ারপ্লে শেষে ২০ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে গেছেন জুয়াইরিয়া। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি থেমেছেন ২৮ বলে ২৩ রান করে। স্বর্ণা আক্তার এবং ফাহিমা খাতুন মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। আউট হন পরপর দুই বলে। মাত্র ৫ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা ঝড় তোলেন। ৩১ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও খেলেন শারমিন। তাতেই একশ পার করার রসদ পায় বাংলাদেশ। এছাড়া নাহিদা আক্তার ২৬ বলে ১৬ রান করে টিকে ছিলেন। ৪ বলে ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন রাবেয়া খান। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

 

পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

আইসিসি পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে জরিমানা করেছে এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে। ফাতিমা আইসিসির খেলোয়াড় এবং সহযোগী স্টাফদের আচরণবিধির ২ দশমিক ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়। এতে পাকিস্তানি এই অধিনায়ককে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, ফাতিমার শৃঙ্খলা রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। ২৪ মাসের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় অপরাধ, যার ফলে এই ২৪ মাসের সময়সীমার মধ্যে তার মোট ডিমেরিট পয়েন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইয়ে। ফাতিমা তার আগের ডিমেরিট পয়েন্টটি পেয়েছিলেন ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ চলাকালীন।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে, যখন ফাতিমা ওপেনার শেফালি বর্মাকে আউট করার পর প্যাভিলিয়নের দিকে ইশারা (অঙ্গভঙ্গি) করেছিলেন।

ফাতিমা নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এমিরেটস আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অব ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানী দাসের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন, যার ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। অন-ফিল্ড আম্পায়ার নিমালি পেরেরা ও সাথিরা জাকির জেসী, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাবাব আহসান এই অভিযোগটি আনেন।