সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সামনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুস্থ জীবন, নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন’, ‘আসুন দূষণমুক্ত সাতক্ষীরা গড়ি’, ‘সঠিক জায়গায় ময়লা ফেলি দূষণমুক্ত আবাসন গড়ি’, ‘নিজের এলাকা পরিষ্কার রাখি, সুস্থ সুন্দর পরিবেশ গড়ি’, যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করুন’, ‘সবাই মিলে শপথ গড়ি, সুস্থ সুন্দর পরিবেশ গড়ি’, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুস্থ সবল বাংলাদেশ’, ‘সবাই মিলে হাত মেলাই, দূষণমুক্ত সাতক্ষীরা চাই’, ‘পরিচ্ছন্ন চারপাশ, রোগবালাই হবে নাশ’ প্রভৃতি স্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি জমে ময়লা আবর্জনা ভেসে বেড়াচ্ছে। শহরে ময়লা আবর্জনা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। গড়ে তোলা হয়নি কোনো ডাম্পিং স্টেশন। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও সাতক্ষীরা পৌরসভার সেবার মান তলানিতে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সাতক্ষীরা পৌরসভা বসবাসের যোগ্যতা হারাবে।

এসময় বক্তারা ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নাগরিক নেতা সিদ্দিকুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট বিপ্লব হোসেন, বারসিক এর প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য হৃদয় মন্ডল, ইমতি জামিল, নুরজাহান খাতুন প্রমুখ।

Ads small one

দেবহাটায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা।

এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল ইসলাম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম এবং সখিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বকুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মিলন সাহা বলেন, “প্রতিবন্ধীরা আমাদের বোঝা নয়, তারা আমাদের সম্পদ। প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এছাড়া শারীরিকভাবে অক্ষম ও অসহায় মানুষের প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন।

সাতক্ষীরা পুলিশের উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের টাকা প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা পুলিশের উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের টাকা প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় হারিয়ে যাওয়া ২৪টি মোবাইল ফোন ও বিকাশের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া ৩৮ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সোমবার সকালে এসব ফোন ও টাকা হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো: আশরাফুল আলম।

এসময় পুলিশ সুপার বলেন, সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের চৌকস টিম চলতি বছরের জুন মাসের আগে হারিয়ে যাওয়া ২৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে উদ্ধার করে। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া ৩৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে ৩ জন ভুক্তভোগীর হাতে প্রদান করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সাতক্ষীরায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল চালু হওয়ার পর থেকে খোয়া যাওয়া ১ হাজার ৭শ’ ৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া প্রতারিত হওয়া প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনূর রহমান, মিথুন সরকার প্রমুখ।

 

কদম ফুল গাছেই থাকুক: ক্ষণিকের শখ বনাম প্রকৃতির হাহাকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
কদম ফুল গাছেই থাকুক: ক্ষণিকের শখ বনাম প্রকৃতির হাহাকার

‎তারিক ইসলাম

‎টুপটাপ বৃষ্টি আর কদম ফুলের সুবাস-বাঙালির বর্ষা উদযাপনের সমার্থক। আষাঢ়ের আগমনে গাছের ডালে ডালে যখন কদম ফুল ডানা মেলে, তখন মানুষের মন নেচে ওঠে ঠিকই, কিন্তু একই সাথে শুরু হয় এক নির্মম উৎসব। ফুলটি দেখার সাথে সাথেই তা ছিঁড়ে নেওয়ার এক অদ্ভুত ও অন্ধ প্রতিযোগিতা দেখা যায় আমাদের মধ্যে। মানুষের এই কয়েক ঘণ্টার সৌখিনতা যে প্রকৃতির পাখপাখালি আর জীববৈচিত্র্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেই হিসাব আমরা ক’জনই বা রাখি?

‎উদ্ভিদ ও প্রাণিবিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। কদম গাছ কেবল প্রকৃতির শোভা বর্ধন করে না, এটি আসলে বনের পশুপাখিদের একটি বড় প্রাকৃতিক খাদ্যভান্ডার। বর্ষার এই মরসুমে কদম ফুল ও ফলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় একটি বিশাল খাদ্যচক্র। কদম ফুলের ভেতরের সুমিষ্ট মধু পানের জন্য ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি, প্রজাপতি আর হরেক রকমের ছোট পাখি। ফুল ফুটন্ত পর্ব পার হলে এটি পরিণত হয় রসালো ও মাংসল ফলে। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে, বৈরী আবহাওয়ায় যখন পাখিদের জন্য অন্য খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন এই ফলই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান ভরসা। টিয়া, শালিক, বুলবুলি, ঘুঘু থেকে শুরু করে চঞ্চল কাঠবিড়ালির মতো প্রাণীদের ভিটামিন, খনিজ ও পুষ্টির সবচেয়ে বড় জোগানদার এই কদম ফল।

‎“আমরা অবহেলায় যে ফুলটি ছিঁড়ে ফেলছি, তা আসলে একটি পাখির পুরো মৌসুমের বেঁচে থাকার রসদ।”
‎আজকাল পথে-ঘাটে, রিকশায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবির ফ্রেমে কদম ফুল ধরে রাখা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আমাদের এই খামখেয়ালিপনা বন্যপ্রাণীদের জন্য তৈরি করছে অস্তিত্বের সংকট। আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি, যে ফুলটি মানুষের হাতে আসার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শুকিয়ে আবর্জনার স্তূপে জমা হয়, সেটি গাছে থাকলে কত পাখির ক্ষুধা মেটাত?

‎পরিবেশবিদদের মতে, নির্বিচারে ফুল পেড়ে ফেলার কারণে ফুলগুলো আর ফলে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে বনের পাখিরা পড়ছে চরম খাদ্য সংকটে। আর এই তীব্র খাদ্যভাবের কারণেই আজ আমাদের চেনা লোকালয় থেকে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য প্রজাতির পাখি।

‎প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এখনই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। শুধু আইনি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রকৃতির এই ক্ষতি রোখা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন তীব্র সামাজিক জাগরণ।
‎ফুল না ছেঁড়ার অঙ্গীকার: ‘কদম ফুল গাছেই সুন্দর, তা পাখিদের খাবার’-এই বার্তাটি প্রতিটি মানুষের কাছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

‎সামাজিক প্রতিরোধ: পার্ক বা রাস্তার ধারের কদম গাছ থেকে ফুল ছেঁড়া বন্ধে স্থানীয়ভাবে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

‎প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের একটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। কদম ফুল মানুষের ঘরের ফুলদানিতে শুকিয়ে মরার জন্য নয়, বরং গাছের ডালে থেকে বনের পাখিদের জীবন বাঁচানোর জন্য সৃষ্টি হয়েছে। আসুন, প্রকৃতির প্রতি একটু সংবেদনশীল হই; আমাদের খামখেয়ালিপনা বন্ধ করে কদম ফুলকে গাছেই থাকতে দেই, অক্ষুণ্ন রাখি আমাদের চারপাশের জীববৈচিত্র্য।

‎লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।