বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

আমরা আর ডুবতে চাই না, এখনই সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিন’  

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
আমরা আর ডুবতে চাই না, এখনই সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিন’  

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘আমরা আর জলাবদ্ধতায় ডুবতে চাই না। এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আমাদের আবার ডুবতে হবে। তাই জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আগেই পানি নিষ্কাশনের জন্য সমগ্র জেলার খাল-বিল-নদী-নালা দখলমুক্ত করে নেটপাটা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ করতে হবে। মৎস্য ঘের করার ক্ষেত্রে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের জন্য আউট ড্রেন রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং সাতক্ষীরা পৌর এলাকার সব ড্রেন পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রাণসায়ের খালের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।  কারণ পৌরসভার অধিকাংশ ড্রেনে পানি জমে থাকে, উপচে রাস্তায় ওঠে, কিন্তু পানি নিষ্কাশিত হয় না।’

বুধবার (১৭ জুন) সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) আয়োজিত ‘বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব কথা বলেন।

সংলাপে গ্রীন কোয়ালিশন (সবুজ সংহতি) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত।

সংলাপে ধারণা পত্র পাঠ করেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছর জলাবদ্ধতা শুরু হওয়ার দীর্ঘ ৩ মাস পর যখন মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল, তখন প্রশাসন ঘেরের বাঁধ কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করেছিল। আমরা এবার সেই ‘দেরিতে ঘুম ভাঙা’ উদ্যোগ দেখতে চাই না। নদী ও খাল খননের মতো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন যেহেতু সময়সাপেক্ষ, তাই এখনই জরুরি ভিত্তিতে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগগুলো পরিষ্কার করা, প্রাণসায়ের খালের দুই মুখ উন্মুক্ত করা এবং বেতনা পাড়ের ১০টি বিলের অপরিকল্পিত ঘেরের বেড়িবাঁধ এখনই কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করতে হবে। ঘের মালিকদের আউট ড্রেন রাখতে বাধ্য করতে হবে।

সংলাপে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাগরিক নেতা ও সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, নাগরিক নেতা আলী নুর খান বাবুল, বারসিকের নগরবিদ জাহাঙ্গীর আলম, নাগরিক নেতা ও সাংবাদিক এম কামরুজ্জামান, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, ফরিদ হোসেন ময়না, আহসানুর রহমান রাজীব, গ্রীন কোয়ালিশনের যুগ্ম সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন ও অ্যাড. এসএম বিপ্লব হোসেন, আসাদুজ্জামান সরদার, সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী, ইয়ুথ অ্যাডাপটেশন ফোরামের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের হৃদয় মন্ডল, ইফতি জামিল, বদ্দীপুর ক‌লোনীর বাসিন্দা জাহানারা খাতুন, কাজীপাড়ার এরশাদ আলী প্রমুখ।

সংলাপে বক্তারা জেলার সব অকেজো স্লুইসগেট দ্রুত সচল করাসহ পানি নিষ্কাশনের সব পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে স্লুইসগেটের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার চিরায়ত ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, ইছামতি, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, বেতনা, শালিখা ও কপোতাক্ষ নদীর মধ্যকার আন্তঃসংযোগগুলো পুনরায় খনন করে পানিপ্রবাহ সচল করা এবং সরকারিভাবে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প অবশ্যই স্থানীয় পরিবেশবান্ধব এবং জলবায়ু সহনশীল করাসহ ৭ দফা সুপারিশ করেন।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর ইউএনও অর্ণব দত্ত জলাবদ্ধতার বিপর্যয় এড়াতে এবং পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচলসহ পানি নিষ্কাশনের সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌর কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।

Ads small one

তীব্র লোডশেডিংয়ে অচল সাতক্ষীরা সদর: গ্রামে ত্রাহি অবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
তীব্র লোডশেডিংয়ে অচল সাতক্ষীরা সদর: গ্রামে ত্রাহি অবস্থা

সংবাদদাতা: কোনো এলাকাতেই স্বস্তি নেই; তীব্র তাপদাহ আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো সাতক্ষীরা সদর উপজেলা। শহরের কাটিয়া, পলাশপোল, ইটাগাছা কিংবা সুলতানপুর-সবখানেই বিদ্যুতের একই দশা। অপরদিকে গ্রামীণ ফিডারগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। ঝাউডাঙ্গা, বল্লী, ফিংড়ী, বাশদহা কিংবা কুশখালী ইউনিয়নে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকর ও বেশি সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এটি এখন আর সাধারণ বিভ্রাট নয়, এটি বিদ্যুতের ‘মহামারি’।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওজোপাডিকো মিলিয়ে পুরো জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯৫ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সরবরাহ।

পৌর এলাকায় তাও কিছুটা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও, সদরের গ্রামগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রাতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।

সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরী সূত্র জানায়, ৪২টি কারখানাসহ সদরের শত শত লেদ ও চালকলের উৎপাদন পুরোপুরি লাটে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকেরা অলস বসে থাকছেন, অথচ মালিকদের গুনতে হচ্ছে নিয়মিত বেতন।
দাবদাহের কারণে ফসলের মাঠ শুকিয়ে চৌচির হলেও বিদ্যুৎ সংকটে সেচ পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না। এতে আমন ও রবি শস্যের আবাদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে ভাইরাসজনিত রোগ ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে।

ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দায়ী করছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদের কিছুই করার নেই। তীব্র গরমে ফ্যানের পাশাপাশি এসির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় লোড আরও বেড়েছে, যা বর্তমান সরবরাহ দিয়ে সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংবাদদাতা: মোঃ রবিউল ইসলাম

জনবল-সংকটে থমকে যাচ্ছে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
জনবল-সংকটে থমকে যাচ্ছে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের কার্যক্রম

কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নেই টেকনিশিয়ান, অকেজো হওয়ার শঙ্কা

সংবাদদাতা: চিংড়ি শিল্পকে আধুনিক ও টেকসই করতে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামার। উদ্দেশ্য ছিল গবেষণা, উন্নত পোনা উৎপাদন, পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণ এবং খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই থমকে গেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খামারটিতে রয়েছে আধুনিক হ্যাচারি, পিসিআর ল্যাব, কোয়ারেন্টাইন ল্যাবসহ বিভিন্ন ভারী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি রয়েছে পানির গুণগত মান পরীক্ষার (ওয়াটার কোয়ালিটি টেস্টিং) ব্যবস্থা, উন্নত পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি এবং গবেষণাগার। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগমুক্ত ও মানসম্মত পোনা উৎপাদন, পানির পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকলেও দক্ষ অপারেটর ও পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত জনবল না থাকায় অনেক যন্ত্রই নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিংড়ি শিল্প এখন কঠিন সময় পার করছে। রোগব্যাধি, মানসম্মত পোনার সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে অনেক খামারি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক এই প্রদর্শনী খামার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিংড়ি চাষে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, দ্রবীভূত অক্সিজেন ও পিএইচ পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রোগ প্রতিরোধ ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। এজন্য উন্নত ল্যাব ও পরীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হলেও শুধু যন্ত্রপাতি স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও অপরিহার্য।
খামারের একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল মাঠপর্যায়ের চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও বলছে, প্রদর্শনী খামার ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। কিন্তু বর্তমানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উপকূলের বহু খামারি সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে চিংড়ি শিল্পে রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে। অতীতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণে দেশের বিভিন্ন হ্যাচারিতে শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আবার ভাইরাসজনিত রোগে সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি খামারগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। গবেষণা ও আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম জোরদার না হলে ভবিষ্যতেও এমন সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খামার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে অনেক যন্ত্রপাতি সীমিতভাবে ব্যবহার হচ্ছে, কিছু যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ না হলে এসব মূল্যবান যন্ত্রপাতি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন নতুন করে যন্ত্রপাতি কেনা ও অবকাঠামো সচল করতে আবারও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।

সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের চিংড়ি উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র। জেলার হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রদর্শনী খামারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে মানসম্মত পোনা উৎপাদন, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু না হলে কোটি টাকার প্রযুক্তি অব্যবহৃত থেকে যাবে, আর হারিয়ে যেতে পারে চিংড়ি শিল্পে সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

সাতক্ষীরা জেলা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এবং শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব)-এর সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, “সাতক্ষীরার পিসিআর ল্যাব চালু করা গেলে পোনা ছাড়ার আগে জীবাণু আছে কি না তা জানা যেত। এতে আমাদের উৎপাদন অনেক ভালো হতো।” তিনি আরও বলেন, “এই যন্ত্রপাতিগুলো চালুর বিষয়ে আমি সচিবালয়ের বৈঠকেও জানিয়েছি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”

চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহ: শফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক এসব যন্ত্রপাতি জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অধীনে। “আপনি উনার সাথে কথা বলুন। আমি একটি মিটিংয়ে আছি, পরে কথা হবে,”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি. এম. সেলিম বলেন, “সাতক্ষীরা থেকে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়। এখানে পিসিআর ল্যাব, কোয়ারেন্টাইন ল্যাবসহ অনেক ভারী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এসব যন্ত্রপাতির কেমিক্যালের মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হয়ে যাবে। আমরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছি। এসব যন্ত্র ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন।”

 

তিনি আরও বলেন, “আগে এসব পরীক্ষার জন্য খুলনা বা ঢাকায় যেতে হতো। এখন এখানে পরীক্ষা করা সম্ভব হলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। পোনাগুলো জীবাণুমুক্ত কি না তা পরীক্ষা করা যাবে, এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। এছাড়া পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্যও এখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে।” সংবাদদাতা আব্দুর রহমান

 

 

সাতক্ষীরায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিব

পত্রদূত ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা পরিষদ চত্বরে উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসুচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

প্রধান অতিথি এসময় তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনা বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জেলার সর্বস্তরের মানুষকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। উপস্থিত সকলে এই সবুজ বিপ্লব সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসময় সেখানে আরো উপস্থিত জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মাহফুজুর রহমান, সাতক্ষীরার জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক আবুল হাসান হাদী, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ, কামরুল ইসলাম ফারুক, মাসুম বিল্লাহ শাহীন, সোহেল আহমেদ মানিক, জেলা তাতী দলের সভাপতি হাসান শাহারিয়ার রিপন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ আবু রায়হানসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।