বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় গোলটেবিল বৈঠক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় গোলটেবিল বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় যুব, নারী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও জলাশয়ে উদ্বেগজনক হারে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনজীবন, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যকে চরম সংকটে ফেলেছে। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। এই অবস্থায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমাদের সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে হবে এবং ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণসহ স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই অভিযোজন প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টায় শহরের পানসি কনফারেন্স হলে ‘জেলা পর্যায়ে যুব, নারী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীল জোরদারকরণ: সমন্বিত পরিকল্পনা, বহুপাক্ষীয় অংশীদারিত্ব ও নীতিগত মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’ -এর আয়োজনে এবং ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগিতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

হেডের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সুশীলনের উপ-পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী সমাজসেবা অফিসার রোকনুজ্জামান, জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম, সনাক্তের সভাপতি ও সাবেক ফেফা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত এবং জেলা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নুর খান বাবুল।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন। গোলটেবিল বৈঠকে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ক্রিসেন্টের পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিকী, এমএসএফ-এর অ্যাডভোকেট মনিরুদ্দিন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর-এর জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, হেডের নির্বাহী কমিটির সদস্য রেহেনা পারভীন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সরদার, হোসেন আলী, ইব্রাহিম খলিল, সংস্থার প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম অন্তর এবং পৌরসভার ইয়ুথ গ্রুপের সদস্য অলিভিয়া লাউরা।

বৈঠকে বক্তারা উপকূলের সমসাময়িক জলবায়ু সংকট তুলে ধরে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক কাঠামোর পাশাপাশি আমাদেরও স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার নদ-নদীতে লবণাক্ততা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সুপেয় পানির সংকটসহ দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় নেমে আসছে। উন্নত বিশ্ব ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে গড়িমসি করলেও আমাদের চুপ করে থাকলে চলবে না; আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের অধিকারের কথা প্রতিনিয়ত চেঁচিয়ে বলে যেতে হবে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিক সুরক্ষায় নিজেদের উদ্যোগে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং তরুণ ও নারীদের নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীল টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা জেলা পর্যায়ে একটি কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা এবং বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং যুব নেটওয়ার্কের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Ads small one

গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: বুধবার সকাল সাড়ে আটটা। শহরের দোকানপাট সবে খুলতে শুরু করেছে। কর্মজীবী মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও রওনা হয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে। এমন সময় শুরু হলো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাতক্ষীরা শহরের তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কে জমে গেল পানি।
ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ইজিবাইকের চাকা পানিভরা গর্তে পড়ে যায়। এতে নোংরা পানি ছিটকে গিয়ে ভিজে যায় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ভ্যানের যাত্রীদের পোশাক। তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটারের এই সড়কে এমন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
শহরের অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরোপুরি বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই কাদা-পানি মাড়িয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। সড়কের দুপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের অংশও কাদায় ঢেকে গেছে।
এ রাস্তায় যাতায়াতকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। গর্তে চাকা পড়ে প্রতিনিয়ত রিকশা বা ইজিবাইক উল্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। নোংরা পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হওয়া এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে এই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় থাকে না।
সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। কাদা আর নোংরা পানির ছিটায় দোকানের মালামাল নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই অবস্থা থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
ব্যস্ততম এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে কাদা-পানির এই নাকাল হওয়া থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।

আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

সাতক্ষীরায় মোট পরীক্ষার্থী ১৫,৯০৬, এইচএসসি ১১৪০২, আলিম ১৮৪২, ভোকেশনাল ২৬৬২
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সাতক্ষীরা জেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি (ভোকেশনাল) মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। জেলার মোট ৪০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সাধারণ ধারায় এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার ২৩টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৯০৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৪৯৭ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ৯টি কেন্দ্রে মোট অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৩৫ জন এবং ছাত্রী ৭০৭ জন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় জেলার ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৯৭৯ জন ছাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর উক্ত তথ্য দিয়ে জানান, সবকটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে নাব্যতা হারানো সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঐতিহাসিক জাহাজমারী খালটি পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিতে। খরা মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এই খালের সুবিধাভোগী ছয়টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার কৃষক।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খনন করা এই খালটি নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণের যৌথ উদ্যোগে ‘সফল ফর আইডব্লিউআরএম’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি পুনঃখনন করা হয়। দলুইপুর থেকে গোছমারা লস্কার বড় খাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৩ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ৬২৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শেখ আব্দুর রব ও খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের জানান, একসময় সেচের পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকত, আবার বর্ষায় ফসল তলিয়ে লোকসান গুনতে হতো। এখন পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও খালটি সচল রাখতে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে একটি তহবিল গঠন করেছেন, যা দিয়ে প্রতিবছর এটি পরিষ্কার করা হবে।
এদিকে, পুনঃখননকৃত খালের নাব্যতা ধরে রাখতে গত সোমবার দুপুরে যুগিখালী ইউনিয়নের আড়খালী মসজিদ-সংলগ্ন জাহাজমারী খালে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।