সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

শ্যামনগর ও আশাশুনিতে পাউবো’র বেড়িবাঁধের অন্তত ৪০ পয়েন্টে ভাঙন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর ও আশাশুনিতে পাউবো’র বেড়িবাঁধের অন্তত ৪০ পয়েন্টে ভাঙন

পত্রদূত ডেস্ক: বর্ষাকাল এলেই বেড়িবাঁধ ভাঙন আতঙ্ক বেড়ে যায় সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলাবাসীর মধ্যে। বছরের পর বছর ধরে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, নদীভাঙন এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আবারও সেই পুরোনো শঙ্কা ফিরে এসেছে উপকূলবাসীর মাঝে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি উপকূলীয় দুই উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরে পাউবো’র বেড়িবাঁধের অন্তত ৪০ পয়েন্টে ভাঙন ও ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এর মধ্যে আশাশুনিতে মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত তেঁতুলিয়া সেতুর পাড়ে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেতুটিও হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙন আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে আছেন। এছাড়া আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়া, হরিষখালী ও চাকলা এলাকায় বেড়িবাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন রয়েছে। ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া খেয়াঘাট এলাকায় ও বিছট গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। একই অবস্থা শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, নওয়াবেকি, হরিনগর ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে। পাউবো কর্তৃপক্ষ এসব ভাঙন পয়েন্টের কিছু কিছু স্থানে সংস্কারের কাজ করলেও সেটি বাঁধ রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী।

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও পদ্মপুকুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুম সামনে রেখে তারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক স্থানে নদীর তীর ধসে পড়ছে এবং বাঁধের পাদদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বাঁধ ভেঙে গেলে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হতে পারে।

অন্যদিকে আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট গ্রামসহ সহ কয়েকটি এলাকায় অতীতে বাঁধ ভেঙে বহু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ঘটনা এখনও মানুষের মনে দুঃসহ স্মৃতি হয়ে আছে। স্থানীয়রা বলছেন, স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের অভাবে প্রতিবছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

তাদের অভিযোগ পাউবো কর্তৃপক্ষ এসব ভাঙন পয়েন্টে কাজ করলেও তা অনেকটা দায়সারা গোছের। ফলে কিছুদিন না যেতেই একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দেয়। উপকূলবাসীর দাবি, বর্ষার পূর্ণ মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো দ্রুত মেরামত ও শক্তিশালী করা হোক।

আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা এলাকার সন্তোষ কুমার বলেন, গোয়ালডাঙ্গা বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মরিচ্চাপ নদী। সম্প্রতি নদী ভাঙনে বাজার এলাকা ভেঙে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখানে এখন যেনতেন বাঁধ নির্মাণ করলে হবে না, টেকসই বাঁধ দিতে হবে।

আশাশুনির কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, কপোতাক্ষের ভাঙনে আমরা বহু বছর আগেই বসতভিটে হারিয়েছি। এখন যেখানে আশ্রয় নিয়েছি, সেখানে নদের তীরবর্তী বাঁধ ভাঙতে ভাঙতে একেবারে বাড়ির কাছে এসে ঠেকেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এখান থেকেও চলে যেতে হবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দু’টি বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন পোল্ডারে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের প্রায় ৪০ স্থান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধব দত্ত বলেন, খরচ বেশি হলেও আমাদের টেকসই বেড়িবাঁধের দিকে ঝুঁকতে হবে। নইলে প্রতিবছর শ’ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে যেনতেনভাবে বাঁধ সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ গচ্চা যাবে।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, তার বিভাগের অধীনে ৩৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার বাঁধের ১০/১৫ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সংস্কার কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, আশাশুনির প্রতাপনগর ও আনুলিয়া এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার জায়গায় সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। বাকি ১০ দশমিক ৮৮ কিলোমিটারের জন্য বরাদ্দ পেলে সেখানেও সংস্কারকাজ করা হবে।

Ads small one

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখা। সোমবার (২২ জুন) সকাল ৯টায় কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জিয়াউর রহমান ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাজীবন শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, বরং নিজেকে একজন আদর্শ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলারও গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও সকল ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, শহর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম বকুল, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের রহমান এবং জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের বিকল্প নেই। তারা নবীনদের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সময়ের সঠিক ব্যবহার, একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, অর্থ সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, তথ্য ও মিডিয়া সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল রাজিব, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন আফজাল, মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রচার সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, এইচআরডি সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান, ক্রীড়া সম্পাদক হাফেজ এবাদুল ইসলাম, ব্যবসা শিক্ষা সম্পাদক শামীম হোসেন এবং আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মো. আতিক মুজাহিদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এছাড়া সাংগঠনিক পরিচিতি, দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

শ্যামনগরে স্থাপনার মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে স্থাপনার মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের অর্থায়নে নির্মিত শ্যামনগরের একমাত্র চিংড়ি পোনা (পিএল) ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন তৈরীর প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার সকালে বংশীপুর বাস্ট্যান্ডে চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।

কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিসারিজ এ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় দুই বছর আগে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে উক্ত স্থাপনা নির্মিত হয়।

সমিতির সভাপতি এম. কে কামরুজ্জামান কচির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আব্দুল কাদের গাজী, ফারুক হোসেন, আবু বক্কার সিদ্দিক বাবু, আব্দুল আহাদ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতির কারনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি খাতের জন্য বংশীপুর চিংড়ি পোনা ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি পোনা ক্রয়-বিক্রয় হয়, যা স্থানীয় স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। অথচ সওজ কতৃপক্ষ অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মানের স্বার্থে উক্ত স্থাপনার মধ্যভাগ খুঁড়ে ফেলতে চাইছে। যা বাস্তবায়িত হলে শতাধিক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি হাজারও শ্রমিক জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

এমতাবস্থায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনস্বার্থ ও বাস্তবতা উপলব্ধির আহবান জানান বক্তারা। একইসাথে তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকাসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতির বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণের দাবি করেন।

শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান এর ভাষ্য, উপকুলবর্তী চারটি উপজেলার মানুষ উক্ত স্থাপনা হতে পিএল ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত। প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকা লেনদেনের কারনে অর্থনীতিতে তার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে- দাবি করে তিনি বিকল্পভাবে সড়কের সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্নের কথা জানান।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাফিউজ্জামান জানান প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল হলে এমন সমস্যা তৈরি হতো না। তারপরও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় মুন্সীগঞ্জ জেলেখালীতে প্রায় ২৫ একর জমির মধ্যে গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বেসরকারি উদ্যোগে খাল খনন করা হয়েছে। খাল খনন শেষ না হতেই খাল পূর্বের দখলকারীরা পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় গ্রামবাসী।

এলাকার কৃষকরা বলেন, মাটির নিচে লবনাক্ত হলেও এই এলাকায় আমন মৌসুমী ফসল উৎপাদন হয়। একটি ফসলের উপর নির্ভর করে এই অঞ্চলের কৃষক কষ্ট করে টিকে আছে। বছরের অন্যান্য সময় শহরের ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। এলাকায় মিষ্টি পানির সংকট থাকার কারণে কৃষকরা এখানে শুধুমাত্র আমন ধান চাষ করে। জেলেখালির খালে বোরো মৌসুমী খালের ২ থেকে ৩ ফিট পানির থাকে, সেই পানির উপর ভরসা করে দুইটি ফসল করার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময়ে পানি সংকট দেখা যায়। ফলে বোরো ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

গ্রামের মধ্যে জেলেখালি খালটি প্রবাহিত হয়েছে, যার ২.২ কিঃমিঃ উন্মুক্ত আছে। সেই অংশটি খনন করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমী কৃষি ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য খালটি উন্মুক্ত রাখারও প্রয়োজন। কিন্তু খালটি ভরাট থাকার কারণে প্রতিবছর জলবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশন না হলে ফসল ও বীজতলায় বিগত কয়েক বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমী খালে পানি থাকে না, বেশিরভাগ জায়গা পতিত থাকে। এমতাবস্থায় খালটি উন্মুক্ত রাখার দাবিতে জেলেখালি গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট পেশ করেন।

জনগণের দাবির পক্ষে প্রশাসন ও বেসরকারি সংগঠন খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যার দাগ নম্বর ২৩৯, ২৮১। জনগনের দাবি, আইনগত মতামতের ভিত্তিতে ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে, সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা এর অর্থায়নে, সিএনআরএস-বিফরআরএল প্রকল্পের উদ্যোগে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। খালটি খনন উদ্বোধন করেন সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম।

খালটি খনন করার পর পূর্বের দখলকারী ইসাক আলী পাড়ের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা স্থানীয় মানুষের হুমকি দিয়ে খালের একটি অংশে কিছু রুই জাতীয় মাছের পোনা ছেড়ে দেন। সাথে সাথে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বিষয়টি স্থানীয় সুধীমহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছে তুলে ধরেন। এলাকাবাসীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার ভূমিসহ বিভিন্ন মহলে খালটি মুক্ত রাখার আবেদন করেন।

এ বিষয়ে খাল দখলকারী ইসহাক আলী পাড়ের নিকট কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ খালের মাছ বিক্রির আয় থেকে কিছু অর্থ দলীয় ও একটি প্রতিষ্ঠানের নামে যায়। তাছাড়া আমি ব্যক্তিগত কোন কাজে এই অর্থ ব্যবহার করি না, আমার সৃষ্টিকর্তা অনেক কিছু দিয়েছেন। খালমুক্ত থাকলে সবার জন্য ভালো কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় আটকানো রয়েছে। খালমুক্ত থাকলে আমিও সাধুবাদ জানাই। আইনের প্রক্রিয়ায় খালটি মুক্ত হলে আমি ১৫ দিন অথবা এক মাসের মধ্যে সব মাছ ধরে নিতে পারব। এই এলাকার হিন্দু মুসলিম আমার ভাই আত্মীয়। সবাই এই খালের সাথে যুক্ত উল্লেখ করে তাদের ক্ষয়ক্ষতি না করে সমন্বয় করে নেওয়ার কথা বলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, কোটের নিষেধাজ্ঞা আছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর সাথে যাতে সম্পর্কের অবনতি যাতে না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবো বলে তিনি জানান।

খালপাড়ের বাসিন্দা ধনঞ্জয় গায়েন বলেন, এই খালটি আমাদের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। খালটি খনন হওয়ায় এলাকার পানি নিষ্কাশনসহ কৃষকরা বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এই খালটি খনন করার জন্য খালের দু’পাড়ে কৃষকদের কাছে গণস্বাক্ষর করে নিয়েছে যাতে খালটি উন্মুক্ত থাকে এবং খালের পাড়ে আমাদের জমিতে মাটি রাখতে পারে। খালপাশে কৃষি জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জায়গাতে মাটি ফেলা হয়েছে যেটা আমাদের কৃষকের স্বার্থ ও খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা খননের জন্য একমত হয়েছি ।

কৃষাণী ফুলমতি মিস্ত্রি বলেন, এই খালটি ইজরা বা দখল থাকলে এই খালের একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না স্থানীয় কৃষকরা। আমরা শত শত কৃষক কৃষাণী এখন মাছ ধরছি কিন্তু মাছ ধরার সুযোগ তো দূরে থাক, একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না।

জেলেখালির গ্রামের ইউপি সদস্য দেবাশিষ গায়েন বলেন, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছে। এ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এই খাল দখলদারদের হাতে চলে গেলে এলাকার কৃষকগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।