শ্যামনগরে নির্বিচারে গাছ কাটার ঘটনায় এবার ঠিকাদারের পাল্টা অভিযোগ
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণের ঘটনায় জনগনের প্রতিবাদের মুখে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কাজ বন্ধ করার ঘটনায় এবার ঠিকাদারের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর রাদ করপোরেশন-এর আইন কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন শ্যামনগর থানায় এ অভিযোগ করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করা হয়।
সোমবার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর রাদ করপোরেশন-এর আইন কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন শ্যামনগর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজ চলছিল। প্রকল্পের জন্য জেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অনুমোদিত সরকারি জমিতে সিসি ব্লক প্রস্তুত ও ভারী যন্ত্রপাতি রাখা হয়। গত ৭ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু হয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বিঘেœ চললেও ওই দিন রাতে হাজী নজরুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভারী যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেন।
পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল সকালে তিনি ৩০-৪০ জন লোক নিয়ে পুনরায় প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের হুমকি দেন। এমনকি স্কেভেটরের চালক ও সহকারীকে জিম্মি করে নির্মিত বাঁধ ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন এবং প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি সামাজিক বনায়নের জায়গায় অবৈধভাবে ব্লক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই এলাকাবাসী বাধা দিয়েছেন। এছাড়া পূর্বে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধনের পর গত ১৩ এপ্রিল শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন এর উপস্থিতিতে নির্মাণাধীন বাঁধ কেটে দেয় এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগ বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন সংলগ্ন খোলপাটুয়া নদীর চরে ব্লক বানানোর মাঠ তৈরি করার জন্য পরিবেশ ধ্বংস করে নির্বিচারে গাছ কেটে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে এসব গাছ নদীর চর ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে তারা উল্লেখ করেন।










