শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন: জেলার উন্নয়নে ১৬ দফা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন: জেলার উন্নয়নে ১৬ দফা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরার উন্নয়নকে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এই জেলাকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর পান্থপথে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, ঢাকার কার্যালয়ে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের আয়োজনে “দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সাতক্ষীরার উন্নয়ন: জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা” শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদ।

সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা আফসার আলীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি প্রকৌশলী আবুল কাশেম, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বকুলুজ্জামান এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স.ম মেহেদী হাসান। এসময় ১৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

১. সুন্দরবন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন: বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রতীক সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণে একটি বিশেষায়িত ‘সুন্দরবন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (সুন্দরবন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) গঠন করা জরুরি।

২. খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন: সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর আম, লিচু, কুল, টমেটো, পেয়ারা ও মধুর অপচয় রোধ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক ফুড প্রসেসিং শিল্প স্থাপন প্রয়োজন।

৩. সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন: দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার এই মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে হবে।

৪. মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন: ‘সাদা সোনা’ খ্যাত বাগদা চিংড়িসহ রুই, কাতলা, ভেটকি ও পারশে মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য একটি আধুনিক ফিশ প্রসেসিং জোন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

৫. সীমান্ত সড়ক নির্মাণ: মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা জোরদারে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৬. ভোমরা স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোমরা স্থলবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে দ্রুত ও কম খরচে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

৭. রেলপথ সংযোগ স্থাপন: নাভারন থেকে ভোমরা স্থলবন্দর ও সাতক্ষীরা শহরের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

৮. বাস টার্মিনাল স্থানান্তর: যানজট নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় শহরের কেন্দ্রস্থলের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড দ্রুত বাইপাস সংলগ্ন লাভসায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন (বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন)।

৯. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: দেবহাটা উপজেলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।

১০. টেকসই মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান): উপকূলীয় জেলা হিসেবে বন্যা ও জলোচ্ছাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন জরুরি।

১১. টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ: প্রতিবছর বাঁধ ভেঙে জনপদ প্লাবিত হওয়ার সমস্যা রোধে স্থায়ী ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

১২. বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জসহ উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বড় আকারের ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ প্রকল্প এবং ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

১৩. স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন: উপকূলীয় উপজেলার হাসপাতালগুলো সংস্কার, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে হবে।

১৪. সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্থাপন: ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, সব বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং ক্যান্সার রোগীদের জন্য একটি বিশেষায়িত রিসার্চ সেন্টার ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

১৫. নীলডুমুর ও মুন্সিগঞ্জকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়ন: সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম জোন গড়ে তোলা, হোটেল-মোটেল নির্মাণ এবং আকাশপথে যোগাযোগের জন্য হেলিপ্যাড বা শর্ট টেক-অফ রানওয়ে (এসটিওএল) স্থাপন করা যেতে পারে।

১৬. আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও জিমনেসিয়াম স্থাপন: তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এবং দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যে একটি মাল্টিপারপাস স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার এসব যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু এই জেলার উন্নয়নই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে

ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে ফের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আবাসিকসহ সব ধরনের গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একই সঙ্গে পাইকারি (বাল্ক) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাবও প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগির এসব প্রস্তাব বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে লাইফলাইন বা প্রান্তিক গ্রাহক—যারা মাসে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন—তাদের জন্য কোনো মূল্য বৃদ্ধি রাখা হয়নি।

পাশাপাশি পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভর্তুকি ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিবরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটি বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দামের পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে মন্ত্রিসভার জন্য সুপারিশ দেবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। সে সময় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে পাইকারি মূল্য ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়।

বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দুই বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম না বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং ভর্তুকির পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

এ পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে কয়লার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে বেসলোড বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন না ঘটে। তবে এসব পদক্ষেপের কারণে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যুতের গড় পাইকারি মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাইকারি দামের তিন বিকল্প
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান পাইকারি মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৭ টাকা ৫৪ পয়সা করা হলে ভর্তুকি ৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা কমতে পারে। এক টাকা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৪ পয়সা করা হলে সাশ্রয় হবে প্রায় ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। আর ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ২৪ পয়সা নির্ধারণ করলে ভর্তুকি কমবে প্রায় ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

খুচরা দামের প্রস্তাব
পাইকারির পাশাপাশি খুচরা পর্যায়েও মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নিম্নআয়ের গ্রাহকদের সুরক্ষায় লাইফলাইন পর্যায়ে (০-৭৫ ইউনিট) কোনো মূল্য বৃদ্ধি রাখা হয়নি। অন্য আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ০ থেকে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারে সর্বনিম্ন ৭০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও আইএমএফের সুপারিশ
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কায় আবাসিক খাতে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, শিল্প খাতে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি পেট্রল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে জ্বালানির মূল্য সরাসরি ট্যারিফে সমন্বিত হওয়ায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ খাত পর্যালোচনায় একটি কারিগরি মিশন পাঠায়, যা বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে টানা দুই সপ্তাহ আলোচনা করে। তাদের সুপারিশে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে দক্ষতা বাড়ানো এবং ভর্তুকি কমাতে তিন বছরমেয়াদি একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত রেখে ধাপে ধাপে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। এর আগে গত শনিবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। তিনি দীর্ঘদিন ম্যালেরিয়াসহ অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিলেন।

মাহবুবুর রহমান ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন।

তিনি ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কাস্টম হাউস, কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ডেপুটি কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার এবং অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আজ হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
আজ হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
এদিন মোট ১৪টি ফ্লাইট রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, চারটি সৌদি আরবের সাউদিয়া ও চারটি ফ্লাইনাস পরিবহন করবে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের জন্য যাবেন।

সৌদি আরবের সাথে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ ভাগের মধ্যে সৌদি আরবের সাউদিয়া শতকরা ৩৫ ভাগ ও ফ্লাইনাস ১৫ ভাগ হজযাত্রী পরিবহন করবে।

২১ মে প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রি-হজ ফ্লাইট ২০৭টি যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়ার ৭৫ টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে হতে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা পহেলা জুলাই শেষ হবে।