বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেবহাটা পারুলিয়ায় অপদ্রব্য পুশকৃত চিংড়ি বিনষ্ট: ৩ ব্যবসায়ীকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটা পারুলিয়ায় অপদ্রব্য পুশকৃত চিংড়ি বিনষ্ট: ৩ ব্যবসায়ীকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা পারুলিয়া মৎস্য সেডে অভিযান চালিয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অপদ্রব্য (জেলি) পুশ করা চিংড়ি মাছ জব্দ করে বিনষ্ট করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তিন মৎস্য ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার ২৯ জুলাই বেলা ১১ টায় উপজেলার পারুলিয়ায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

জানা যায়, অসাধু উপায়ে চিংড়ির ওজন বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে অপদ্রব্য (জেলি) পুশ করার একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অপদ্রব্য পুশকৃত জেলি চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত অপদ্রব্যযুক্ত চিংড়ি মাছগুলো জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজ না থাকায় মৎস্য ব্যবসায়ী সুজয় মন্ডলকে ৫০০০ টাকা, সুমন ট্রেডার্সকে ২০০০ টাকা ও আল কাইয়ুম ফিসকে ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত কর্মকর্তা জানান, “অসাধু ব্যবসায়ীদের অসৎ উপায়ের কারণে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী চিংড়ি শিল্পের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং চিংড়ি খাতের সুনাম বজায় রাখতে এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

অভিযানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম, খুলনার ইন্সপেক্টর এফআই কিউসি আলমগীর হোসেন, দেবহাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

দেবহাটায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৫০ প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৫০ প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বিতরণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী ৫০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ডিজএ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন (ডিআরআরএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সনদ বিতরণ করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ও ফ্যাশন গার্মেন্টস ট্রেডে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরআরএর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আনজির হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিআরআরএর ম্যানেজার (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন) তরুণ কুমার সরদার, জব প্লেসমেন্ট অফিসার নজিফা খাতুন, লিড ট্রেইনার নুর আমিন হোসেন ও আসিফ রেজা তিতাস এবং অ্যাসোসিয়েট ট্রেইনার সোহেল রানা ও মেহেদী হাসান।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় দুইজন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি নাসরিন জাহান বলেন, অর্জিত দক্ষতাকে নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধরে রাখতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে কাজ চালিয়ে না গেলে শেখা বিষয়গুলো ধীরে ধীরে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

পরে প্রধান অতিথি ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন। সনদ গ্রহণ করে প্রশিক্ষণার্থীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সার্বিক সাফল্য কামনা করা হয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ইনচার্জ জি এম নূরুন্নবী হাসান। সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

 

শ্যামনগরের ভেটখালী বিলে পানিতে জলাবদ্ধতা, কৃষকের মাথায় হাত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের ভেটখালী বিলে পানিতে জলাবদ্ধতা, কৃষকের মাথায় হাত

0-4480x2016-0-0-{}-0-12#

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বিল পানিতে তলিয়ে আছে। ধান রোপন করতে না পারায় কৃষকের মাথায় হাত। বিলের পানি নিষ্কাষনের জন্য হিমখালী খাল ও বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও বহু বছর ধরে জবর দখল আছে। যার ফলে প্রতি বছর দুই শতাধিক ধান্য ফসল ও সবজির জমি পানিতে তলিয়ে যায়। সরজমিনে দেখা যায়, রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বাজার, ভেটখালী বিল, তারানীপুরের পানি নিষ্কাষনের জন্য হিমখালী খালসহ বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও জবর দখলের কারনে পানি নিষ্কাষন হয়না। যার ফলে ধান্য ফসলের মাঠ, বসত ভিটা, পুুকুর, গাছগাছালি, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

 

হিমখালী খালটি বহু বছর ধরে জবর দখল করে রেখেছে শতাধিক ব্যক্তি। অপর দিকে বিকল্প ভাবে ভেটখালী বিলের পানি নিষ্কাষনের পথ জবর দখল করে রেখেছে ভেটখালী গ্রামের সনদ যোদ্দার, মন্টু যোদ্দার, মিন্টু যোদ্দার, নিরাপদ যোদ্দার, কিশোরী যোদ্দার, জয়ন্ত বাছারসহ অনেকে। ভেটখালী কোলুনীপাড়ায় বিলের পাশ দিয়ে বহু গরীব, অসহায় মানুষ বসবাস করে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের কাচা ঘরবাড়ী ধ্বস নেমেছে এবং খুবি কষ্টে জীবন ধারণ করে চলেছে।

স্থানীয় মৃত আনছার আলী গাজীর পুত্র মোঃ মুত্তালিব হোসেন বলেন, হিমখালী খাল ও বিকল্প ব্যবস্থায় পানি নিষ্কাষনের জায়গা জবর দখলে থাকায় পানি নিষ্কাষন না হওয়া প্রতি বছর আমরা বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছি। এ বছর ধানের বীজ বপন করতে পারছি না। উপর দিকে বসত ভিটারও ক্ষতি হচ্ছে। এ ভাবে চললে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হব এবং এলাকার মানুষের মধ্যে দারিদ্রতার হার বৃদ্ধি পাবে।

মোঃ আব্দুর রাশেদ গাজীর স্ত্রী মোছাঃ নুর জাহান খাতুন বলেন, আমাদের প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দূর্ভোগের শেষ থাকে না। ধানের মাঠ , বাড়ীর উঠান, কাঁচা ঘরবাড়ী, সবজি চাষের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। বিলের পানি নিষ্কাষনের জায়গা ও খাল দখল মুক্ত করে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে শ্যামনগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য মুঠেফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়না।

এ বিষয়ে কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

ভোমরা বন্দরে বিদায়ী অর্থবছরে ৬০ হাজার ৪৮২ মেট্রিকটন শুকনো ঝাল আমদানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
ভোমরা বন্দরে বিদায়ী অর্থবছরে ৬০ হাজার ৪৮২ মেট্রিকটন শুকনো ঝাল আমদানি

এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় মুদ্রায় ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভারত থেকে ৬০ হাজার ৪৮২ মেট্রিকটন শুকনা ঝাল আমদানি হয়েছে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত শুকনা ঝালের চাহিদা মেটাতে সরকার ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিগত বছরের জুলাই থেকে আমদানিকারকদের শুকনা ঝাল আমদানির অনুমতি দেয়।

 

অনুমোদনপ্রাপ্ত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জুলাই থেকে এ বন্দর ব্যবহার করে নিয়মিত শুকনা ঝাল আমদানি করে। কাস্টমস হাউজের রাজস্ব শাখার কর্তৃপক্ষ প্রাপ্ত নিশ্চিত করেছেন। বন্দর ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত শুকনাঝাল আমদানি হলেও গ্রাম বা শহর অঞ্চলের হাট বাজারগুলোতে সরবরাহ একেবারেই কম। ফলে স্থানীয় বাজারে এর কোন প্রভাব পড়েনি।

 

ক্রেতা সাধারণ অভিযোগ করে বলছেন, বন্দরে আমদানিকৃত শুকনা ঝাল স্থানীয় হাটবাজারে না আসায় ক্রয়মূল্যে পরিবর্তন হয়নি। এখনও কেজিপতি শুকনা ঝাল ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। যা কিছুদিন আগে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, নিত্যপণ্য শুকনা ঝালের মূল্য স্থিতিশীল ও চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি করলেও সাধারণ ক্রেতারা ক্রয়মূল্যের সুবিধা পাচ্ছে না।

 

গ্রামের অধিকাংশ হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যেমন ভোমরা, শ্রীরামপুর, কুলিয়া, শাঁখরা, মাহুদপুর, ভাড়–খালী, ঘোনা, কাথন্ডা, বৈকারী ও কুশলে বাজারে কোন অংশে কমিনি শুকনা ঝালের দাম। বরং দিন দিন মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া কমার কোন সম্ভাবনা নেই। একাধিক পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিকৃত ঝালের লট জেলার বাইরে চলে যাওয়ায়ে স্থানীয় বাজারে এর তেমন কোন প্রভাব নেই। ফলে মূল্য কমার কোন সম্ভাবনা নেই।

 

আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থ বছর থেকে শুরু হওয়ার শুকনো ঝালের আমদানি এখনো চলমান রয়েছে। শুকনা জলের সংকট হওয়ার কথা না। তবে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা শুকনো ঝালের সংকট দেখিয়ে বাজারে মূল্য বৃদ্ধির অশুভ পায়তারা চালাতে পারে। কেননা, রান্নার কাজে শুকনো বা গুরুঝালের চাহিদা থাকায় ঝালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।