সাতক্ষীরায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভগ্নিপতি ও ভাগ্নেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ: থানায় মামলা
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ধারালো দায়ের কোপে ভগ্নিপতি মারাত্মক জখম এবং ভাগ্নেকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর শ্যালক মো: মাহমুদ হাসান বাদী হয়ে গত ২৯ জুলাই সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার (মামলা) দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈকারী এলাকার বাসিন্দা মো: মাহমুদ হাসানের ভগ্নিপতি মো: আশরাফ উদ্দিনের (৫২) সাথে তাঁর বিমাতা ভাই আজহারুল ইসলাম ওরফে শিমুল (৩২) ও আক্তারুল ইসলাম (৩৫)-সহ প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কয়েকবার সালিশ-মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে এবং জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ৫ জুন জরিপকারীর (সার্ভেয়ার) মাধ্যমে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করা হলেও তা মানতে অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ। পরবর্তীতে গত ২৯ জুলাই সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে পুনরায় জমি মাপজোখের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। অভিযোগ করা হয়, পল্লীশ্রী চার রাস্তার মোড়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত আজহারুল ইসলাম শিমুল ধারালো দা দিয়ে আশরাফ উদ্দিনের মাথায় একাধিক কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একই সাথে অন্য অভিযুক্তরা তার ছেলে মো: ওমর ফারুককে (১৬) লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং গলা চিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এ সময় ভুক্তভোগীর কাছে থাকা নগদ ১৫(পনের হাজার) টাকা ছিনতাই করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে তাদেরকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মো: মাহমুদ হাসান জানান, “আমার ভগ্নিপতি ও তাঁর পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হিংস্্র হামলা চালানো হয়েছে। মামলা হলেও আসামীরা ধরা পড়েনি। আসামীরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামীরা প্রভাবশালি হওয়ায় মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামল হয়েছে। মামলা নং ৬৮। তারিখ ৩০/৭/২০২৬। আসামীরা পলাতক রয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।






