রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ত্রিশ মাইলমোড় ইজিবাইক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত: সভাপতি নাজমুল, সম্পাদক আশরাফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ত্রিশ মাইলমোড় ইজিবাইক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত: সভাপতি নাজমুল, সম্পাদক আশরাফ

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের ৩০ মাইলমোড় ইজিবাইক সমিতির এক বছর মেয়াদি নির্বাচন শনিবার (১ আগস্ট) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সমিতির ১০৭ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন পদে মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচন উপলক্ষে দুপুর ১টায় বাজার কমিটি ও ইজিবাইক সমিতির সদস্যদের অংশগ্রহণে এক প্রীতি ভোজের আয়োজন করা হয়। পরে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মহব্বত আলী সরদার।

ফলাফলে সভাপতি পদে নাজমুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আশরাফুল ইসলাম, ক্যাশিয়ার পদে ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি পদে জাহিদ হোসেন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মারুফ হোসেন নির্বাচিত হন।

নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা করেন নগরঘাটা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান মুকুল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন।

সাধারণ ভোটাররা জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সমিতির উন্নয়ন, সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং সুখে-দুঃখে সদস্যদের পাশে থেকে কাজ করবেন।

এদিকে, নির্বাচন চলাকালে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাংবাদিক মারুফ হুসাইন।

Ads small one

সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম নাজিম উল্লাহ আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম নাজিম উল্লাহ আর নেই
এসএম বিপ্লব হোসেন: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক স্বনামধন্য অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এ কে এম নাজিম উল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার ভোর ৪টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলার শিক্ষা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজার নামাজ রোববার বাদ যোহর মেহেদীবাগ এলাকার খাদিজাতুল কোবরা মসজিদে (সার্কিট হাউসের পশ্চিম পাশে) অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে নলতা শরীফের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এ কে এম নাজিম উল্লাহ ১৯৯৮ সালে খুলনার ডুমুরিয়া শাহপুর কলেজ থেকে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, দক্ষ প্রশাসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে কলেজটিকে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।
তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ কলেজের স্বীকৃতি অর্জন করে। এ কৃতিত্বের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুরস্কার ও সনদ গ্রহণ করে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। কলেজের নিজস্ব আয়ের অর্থে, বড় ধরনের সরকারি অনুদান ছাড়াই, একটি টিনশেড ক্যাম্পাসকে উন্নীত করে চারতলা ও পাঁচতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেরই ফল। এ ধরনের আত্মনির্ভরশীল উন্নয়ন দেশের বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষকতা যে কেবল একটি পেশা নয়, বরং একটি মহান ব্রত, এ কে এম নাজিম উল্লাহ তাঁর সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকবান্ধব মনোভাবের মাধ্যমে তা আজীবন ধারণ ও লালন করেছেন। তাঁর আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন আগামী প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী ট্রাক ট্রাকক্টর কাভার্ডভ্যান ও ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক দলের কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী ট্রাক ট্রাকক্টর কাভার্ডভ্যান ও ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক দলের কমিটি গঠন

সাতক্ষীরা জাতীয়তাবাদী ট্রাক ট্রাকক্টর কাভার্ডভ্যান ও ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক দল (ইটাগাছা ভিআইপি মোড়) এর কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ ও সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটিতে নূর মোহাম্মাদকে সভাপতি, মোঃ আলতাফ হোসেন খান সিনিয়র সভাপতি ও কবীর উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য ১০১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

আচার্য প্রফুল¬চন্দ্র রায় ছিলেন উপমহাদেশের বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ: বিভাগীয় কমিশনার আবদুল্লাহ হারুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
আচার্য প্রফুল¬চন্দ্র রায় ছিলেন উপমহাদেশের বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ: বিভাগীয় কমিশনার আবদুল্লাহ হারুন

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন বলেছেন, স্যার আচার্য প্রফুল¬চন্দ্র রায় ছিলেন উপমহাদেশের বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। রসায়ন গবেষণায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, শিল্পোদ্যোক্তা, লেখক ও সমাজহিতৈষী। তাঁর জীবন ও কর্ম বাঙালি জাতির জন্য গর্বের বিষয়। ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট খুলনার তৎকালীণ রাড়ুলী-কটিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন প্রফুল¬চন্দ্র রায়। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান এবং রসায়ন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা করেন। দেশে ফিরে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি রসায়ন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।

খুলনার পাইকগাছায় জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল¬চন্দ্র রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উক্ত কথাগুলো বলেন। রোববার (২ আগস্ট) সকালে বিজ্ঞানীর জন্মভূমি রাড়ুলী গ্রামের জন্মভিটায় আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিস্ হুরে জান্নাত। এতে বক্তারা বিজ্ঞানচর্চা, শিক্ষা, গবেষণা ও মানবকল্যাণে পিসি রায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে তাঁর জীবন ও কর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এসএফডিএফ কর্মকর্তা জি. এম. জাকারিয়া ও প্রভাষক লৎফা ইসলাম এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কানিজ ফাতিমা লিজা, স্বাগত বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। বক্তব্য দেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল) আমির হামজা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আবদুল মজিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী রুহুল আমিন, ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, সিনিয়র সাংবাদিক দিদারুল আলম, সহকারী অধ্যাপক আবদুল মমিন সানা, কাজী সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ঘোষ প্রধান শিক্ষক গৌতম ঘোষ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রসায়ন গবেষণায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে মারকিউরাস নাইট্রাইট নিয়ে গবেষণা বিশেষভাবে আলোচিত। তিনি শুধু গবেষণাগারে বিজ্ঞানচর্চা করেননি, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরিতেও কাজ করেছেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক লেখালেখির মাধ্যমে বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর রচিত ‘হিন্দু রসায়নের ইতিহাস’ বিজ্ঞান ও ইতিহাসচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার জন্যও কাজ করেন পিসি রায়।

 

১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস। দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর এই উদ্যোগ তৎকালীণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞান ও শিল্পকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর যে চিন্তা তিনি করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পিসি রায়ের জন্মবার্ষিকীর এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ছিল আগ্রহ। জন্মভিটায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা পিসি রায়ের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর জন্মভূমিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও পরিচিত করে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

স্থানীয়দের মতে, পিসি রায়ের জন্মভূমি রাড়ুলী শুধু পাইকগাছা বা খুলনার নয়, পুরো দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই এলাকা বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যটন ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সাথে সাথে তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের দ্বিতীয় ও দেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয় ভূবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয় সরকারি করণ জরুরী।