বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সুন্দরবনের বাঘ-বিধবা: কেমন আছেন তারা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনের বাঘ-বিধবা: কেমন আছেন তারা?

মো. মামুন হাসান

সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে এই বন বাংলাদেশের অনন্য সম্পদ। তবে সুন্দরবনের আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে, যা এর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালে অনেকটাই অদৃশ্য থেকে যায়। বন ও মানুষের সম্পর্ক এখানে সব সময় সহাবস্থানের নয়। জীবিকার প্রয়োজনে বনে যাওয়া মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কখনো কখনো কেড়ে নেয় একটি পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে। আর সেই মৃত্যুর পর যে নারীরা স্বামীহারা হয়ে সন্তান ও পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে নামেন, স্থানীয় সমাজে তাঁদের পরিচয় হয় বাঘবিধবা হিসেবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরার মতো সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এমন নারীর সংখ্যা কম নয়। তাঁদের জীবন কেবল স্বামী হারানোর বেদনায় থেমে থাকে না। শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক অবজ্ঞা, কুসংস্কার এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই নারীদের জীবনসংগ্রাম জাতীয় পর্যায়ের নীতি ও গণমাধ্যমের আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

সম্প্রতি নেচার গ্রুপের হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা সুন্দরবনের বাঘবিধবাদের এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা এলাকায় পরিচালিত গবেষণায় বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের সামাজিক অবস্থান, কুসংস্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, বাঘবিধবাদের জীবিকা সংগ্রাম কেবল অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কলঙ্ক।

এই কলঙ্কের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের লোকবিশ্বাস। সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বাঘের আক্রমণকে কখনো কখনো অতীতের পাপের শাস্তি কিংবা অলৌকিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এমন বিশ্বাসের কারণে স্বামী হারানো নারীদেরও অনেক সময় দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাঁদের জীবনের স্বাভাবিক আচরণ পর্যন্ত সামাজিক সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে একজন নারী স্বামী হারানোর পর যে শোক, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যান, তার সঙ্গে যুক্ত হয় সমাজের তৈরি আরেকটি অদৃশ্য দেয়াল।

এখানেই সংকটটি আরও গভীর। একজন বনজীবী যখন বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান, তখন কেবল একটি জীবনই শেষ হয় না, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও ভেঙে পড়ে। স্বামী হারানো নারীকে একদিকে সন্তানদের দায়িত্ব নিতে হয়, অন্যদিকে জীবিকার নতুন পথ খুঁজে নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের শিক্ষা, দক্ষতা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকে। ফলে স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁদের সামনে যে জীবন তৈরি হয়, সেটি এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তার জীবন।

এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক আঘাত। গবেষণায় বাঘবিধবাদের মধ্যে গভীর শোক, বিষণ্নতা এবং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেসের মতো মানসিক সমস্যার উপসর্গের কথা উঠে এসেছে। প্রিয়জনকে ভয়াবহভাবে হারানোর অভিজ্ঞতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আর্থিক সংকট একসঙ্গে একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ আমাদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এই বিশেষ ধরনের মানসিক ও সামাজিক সংকটের জন্য আলাদা কোনো কাঠামো খুব একটা দৃশ্যমান নয়।

বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চল নিয়ে প্রকাশিত আরও কিছু গবেষণাতেও বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের সামাজিক বাস্তবতা উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, সামাজিক কুসংস্কার ও পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর কারণে তাঁদের জীবন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে একই সঙ্গে গবেষণাগুলো একটি আশাব্যঞ্জক দিকও দেখিয়েছে। যথাযথ সহযোগিতা, সংগঠিত উদ্যোগ এবং জীবিকার সুযোগ পেলে এসব নারী নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেন। তাঁরা শুধু নিজেদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখেন না, অন্য নারীদেরও স্বনির্ভর হওয়ার পথ দেখান।

এই জায়গাটিই আমাদের নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। বাঘবিধবাদের কেবল অসহায় মানুষ হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। তাঁরা সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রয়োজন তাঁদের সেই সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করা।

প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র এই নারীদের জন্য কী করছে। সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে জরুরি। রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বাঘ সংরক্ষণের মানবিক মূল্যও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। একটি বন ও তার বন্যপ্রাণী রক্ষার দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রের, তেমনি সেই বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রথম প্রয়োজন বাঘবিধবাদের একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা। তাঁদের প্রকৃত সংখ্যা, অবস্থান, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, সন্তানদের অবস্থা এবং জীবিকার ধরন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলে কার্যকর নীতি প্রণয়ন কঠিন। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে এ উদ্যোগ নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কুসংস্কার ও সামাজিক কলঙ্ক দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজকে এই কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। কারণ আইন বা সরকারি সহায়তা একা সামাজিক মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারে না।

তৃতীয়ত, বাঘবিধবাদের পুনর্বাসনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর্থিক সহায়তা তাঁদের জীবিকার সংকট কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু স্বামী হারানোর গভীর মানসিক আঘাত নিরসনে প্রয়োজন কাউন্সেলিং ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সহায়তা। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, বিকল্প জীবিকা ও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

সবচেয়ে বড় কথা, স্থানীয় পর্যায়ে ইতিমধ্যে যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বাঘবিধবাদের নিয়ে কাজ করছে, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। তাঁদের কার্যকর উদ্যোগগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বৃহত্তর পরিসরে নেওয়া গেলে এই নারীদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সুন্দরবন রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। কিন্তু সুন্দরবন রক্ষার অর্থ শুধু বন, নদী ও বাঘকে রক্ষা করা নয়। এই বনের সঙ্গে যাঁদের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে আছে, তাঁদেরও রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের জীবনকে করুণা নয়, অধিকার ও মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। বাঘবিধবা কোনো অভিশপ্ত পরিচয় নয়। এটি একটি ভয়াবহ মানবিক অভিজ্ঞতার ফল। তাঁদের প্রতি সমাজের সন্দেহ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা। অবহেলা নয়, প্রয়োজন সামাজিক নিরাপত্তা। সাময়িক সহায়তা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতার সুযোগ।

সুন্দরবনের বাঘ বাঁচুক, বন বাঁচুক। একই সঙ্গে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষগুলোর জীবনও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হোক। প্রকৃতি সংরক্ষণ তখনই সত্যিকার অর্থে মানবিক হবে, যখন বন্যপ্রাণী রক্ষার সঙ্গে মানুষের জীবন ও অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবেই বেশ জনপ্রিয়তা পান প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে এখন নায়িকা হিসেবেই তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি সিনেমাতে প্রধান নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দীঘি জানান, জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির বায়োপিকে তিনি কাজ করতে চান। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে বলেও মন্তব্য করেন নায়িকা।

কেন পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান সেটিও তিনি জানান। তার কথায়, কোনও একটি অনুষ্ঠানে পরীমণি জানিয়েছেন তার বায়োপিকে তিনি নিজেই অভিনয় করবেন। কারণ অন্য কেউ পারবে না। সে চ্যালেঞ্জ থেকেই দীঘি কাজটি করতে আগ্রহী।

দীঘির ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় তার (পরীমণি) বায়োপিক যদি হয় তাহলে এটি দারুণ একটি এন্টারটেইমেন্ট বায়োপিক হবে।’

নায়িকা হিসেবে দীঘির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো-‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’, ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ও ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত ‘বিদায়’ সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়।

আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ নারীদের এশিয়া কাপে বাঁচা মরার ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ১০৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে । তবে এদিন শুরুতেই বাংলাদেশকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল।

বিশেষ করে আগে ব্যাট করতে নেমে চাপে থাকা বাংলাদেশ যখন ৫৫ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। তবে শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তার ৩১ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।

টাইগ্রেস ওপেনার দিলারা আক্তার রানের খাতা খোলার আগে প্রথম ওভারেই বিদায় নিয়েছেন। ৩ বলে ০ রান করেন দিলারা। তিনে নেমে ব্যর্থ ছিলেন সোবহানা মোস্তারীও। ৬ বলে ৩ রান করেছেন তিনি। টিকে থাকা ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১ রান তোলে বাংলাদেশ।

পাওয়ারপ্লে শেষে ২০ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে গেছেন জুয়াইরিয়া। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি থেমেছেন ২৮ বলে ২৩ রান করে। স্বর্ণা আক্তার এবং ফাহিমা খাতুন মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। আউট হন পরপর দুই বলে। মাত্র ৫ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা ঝড় তোলেন। ৩১ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও খেলেন শারমিন। তাতেই একশ পার করার রসদ পায় বাংলাদেশ। এছাড়া নাহিদা আক্তার ২৬ বলে ১৬ রান করে টিকে ছিলেন। ৪ বলে ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন রাবেয়া খান। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

 

পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

আইসিসি পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে জরিমানা করেছে এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে। ফাতিমা আইসিসির খেলোয়াড় এবং সহযোগী স্টাফদের আচরণবিধির ২ দশমিক ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়। এতে পাকিস্তানি এই অধিনায়ককে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, ফাতিমার শৃঙ্খলা রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। ২৪ মাসের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় অপরাধ, যার ফলে এই ২৪ মাসের সময়সীমার মধ্যে তার মোট ডিমেরিট পয়েন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইয়ে। ফাতিমা তার আগের ডিমেরিট পয়েন্টটি পেয়েছিলেন ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ চলাকালীন।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে, যখন ফাতিমা ওপেনার শেফালি বর্মাকে আউট করার পর প্যাভিলিয়নের দিকে ইশারা (অঙ্গভঙ্গি) করেছিলেন।

ফাতিমা নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এমিরেটস আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অব ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানী দাসের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন, যার ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। অন-ফিল্ড আম্পায়ার নিমালি পেরেরা ও সাথিরা জাকির জেসী, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাবাব আহসান এই অভিযোগটি আনেন।