বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন সম্পন্ন, রাজধানীতে সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রবির 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন সম্পন্ন, রাজধানীতে সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রবির 
রবি আজিয়াটা পিএলসি বৃহত্তর ঢাকাজুড়ে তাদের মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপক আধুনিকায়ন কার্যক্রমের কাজ সম্পন্ন করেছে। দেশের সবচেয়ে বেশি ডেটা ব্যবহার হওয়া এই অঞ্চলে সংযোগ সেবার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে রবি।
বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি জেলা আধুনিকায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রবির দাবি, এরই মধ্যে ঢাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুতগতির ডেটা সেবা, আরও পরিষ্কার ভয়েস কল এবং আরও শক্তিশালী ইনডোর নেটওয়ার্ক কভারেজের সুবিধা পাচ্ছেন।
ঢাকার এই নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন রবির দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রূপান্তর কর্মসূচির অংশ। এই কাজে নতুন প্রজন্মের “গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি” প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী, ভবিষ্যৎ উপযোগী এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এখন রবি আধা-শহুরে (সেমি-আরবান) এলাকায় নেটওয়ার্ক আরও জোরদার করার দিকে নজর দিচ্ছে, যাতে এসব এলাকার দ্রুত বর্ধনশীল গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা যায়।
গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বৃহত্তর ঢাকায় ৪,৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। গ্রাহকসেবায় প্রায় কোনো বিঘ্ন ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ডেটার গতি বেড়েছে, কল ড্রপ কমেছে এবং গ্রাহকরা ইনডোর আরও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন।
নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্সেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে। বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরের গ্রাহকরা ইনডোর আগের তুলনায় তিন গুণ ভালো কভারেজ ও সংযোগ পাচ্ছেন। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে। এটি রবির টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করছে।
এই আধুনিকায়নের ফলে রবির তরুণদের জন্য তৈরি ডিজিটাল লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড সার্কেল-এর গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে। ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বেশি ডেটা প্রয়োজন এমন বিভিন্ন কাজে তারা আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ পাবেন। গতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং ঘরের ভেতরের নেটওয়ার্ক মান উন্নত করার মাধ্যমে ঢাকায় নেটওয়ার্কের নেতৃত্বের দাবি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়েছে রবি। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমানভাবে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত তরুণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
আজ ঢাকার তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের বিস্তারিত তুলে ধরেন রবির চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) পেরিহান এলহামে আহমেদ মেতাওয়েহ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আমাদের সরকার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দিতে রবির নেটওয়ার্কে বড় বিনিয়োগ দেখে আমি উৎসাহিত। এই মাইলফলকের জন্য রবিকে অভিনন্দন জানাই। সব নাগরিকের কাছে ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে মোবাইল অপারেটরদের তাদের নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।”
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “শিল্পখাত আরও পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবার মানই এখন প্রতিযোগিতার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। ঢাকার নেটওয়ার্ক নতুন করে সাজিয়ে রবি তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত। গ্রাহকরা ভালো মানের সেবা পেলে সেটি সবার জন্যই লাভজনক।”
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী বলেন, “একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি বুঝতে পারি, মাত্র তিন মাসে প্রায় ৫,০০০টি সাইটে কাজ সম্পন্ন করা একটি অবিশ্বাস্য ও বিস্ময়কর অর্জন। এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য আমি বিশেষভাবে রবি টেকনোলজি টিমকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণে রবিকে দ্বিগুণ অভিনন্দন প্রাপ্য। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে এই মুহূর্তে আমাদের ঠিক এ ধরনের উদ্যোগই প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও জিয়াদ সাতারা ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঢাকায় এখন রবির নেটওয়ার্ক সবচেয়ে শক্তিশালী।
তিনি জানান, রবি শিগগিরই চট্টগ্রামের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের কাজও শেষ করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সেরা মানের নেটওয়ার্ক হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে। তার ভাষায়, এই শ্রেষ্ঠত্ব শুধু বিজ্ঞাপনে নয়, বাস্তব নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতাতেও দেখা যাবে।
তিনি আরও বলেন, “আধুনিকায়নের ফলে আমাদের নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও কাজ বাকি রয়েছে, কারণ সেখানে আমাদের নতুন সাইট প্রয়োজন। নতুন সাইটের জায়গা পাওয়া এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ঢাকার প্রতিটি এলাকায় একই মানের সেবা পৌঁছে দিতে সাইট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পেতে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির জরুরি সহযোগিতা চাই।”
রবি ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে নতুনত্ব এনেছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সব ৬৪ জেলায় ৪জি সেবা চালু করে। বর্তমানে রবির ৪জি গ্রাহকের হার ৭২ শতাংশ, যা দেশের মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রবি দেশের প্রথম অপারেটর হিসেবে নির্দিষ্ট উচ্চ-ট্রাফিক এলাকা, যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে, বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা চালু করে।
২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে রবি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৯,৩৩১ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। এই সময়ে ৪জি সাইটের সংখ্যা ১৩,১৭৩ থেকে বেড়ে ১৯,৬৪৬টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে রবির স্পেকট্রামও ৩.৪ গুণ বেড়ে ১২৪ মেগা হার্টজ হয়েছে।
শুধু ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (কিউ২) রবি ৭২১.৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ৪জি সাইটের সংখ্যা ১৯,৬০০ ছাড়িয়েছে এবং দেশের জনসংখ্যার ৯৮.৯৮ শতাংশ এখন রবির ৪জি নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

Ads small one

সন্ত্রাসবাদের শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা: স্মরণ, সহমর্মিতা ও মানবাধিকারের অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসবাদের শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা: স্মরণ, সহমর্মিতা ও মানবাধিকারের অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ২১ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর আন্তর্জাতিক দিবস’। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর গৃহীত এ/আরইএস/৭২/১৬৫ প্রস্তাবের মাধ্যমে এই দিবস ঘোষণা করে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসবাদের কারণে নিহত, আহত এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার মানুষদের সম্মান জানানো, তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি বিশ্বসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘স্মৃতির মাধ্যমে নিরাময়’। সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের অ্যাসোসিয়েশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে জাতিসংঘ এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। এর মূল বার্তা হলো-ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিকে শুধু অতীতের অংশ হিসেবে বিবেচনা না করে, সেই স্মৃতিকে ভুক্তভোগীদের মানসিক পুনরুদ্ধার, সম্মান প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সংহতি জোরদারের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো। একই সঙ্গে স্মারক সংরক্ষণ ও স্মৃতি ধারণের গুরুত্বও এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে জাতিসংঘ বৈশ্বিক নীতি ও আইনগত কাঠামো তৈরির মাধ্যমে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালের বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমন কৌশল এবং নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবের মাধ্যমে এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উগ্রবাদ মোকাবেলার পথ সুগম করেছে। পাশাপাশি, ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম এবং সন্ত্রাস দমন অফিসের মতো বিশেষায়িত সংস্থাসমূহ দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদ কেবল একটি সহিংস ঘটনা বা প্রাণহানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা তৈরি করে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, ধর্ম বা সংস্কৃতির একচ্ছত্র বিষয় নয়; বরং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সংঘাত, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, দারিদ্র্য ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মতো বাস্তবতার কারণে রাজনৈতিক, জাতীয়তাবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী বোমা হামলা ও অপহরণের মতো সহিংস পথ বেছে নেয় ইদানিং সাইবার হামলা এর অন্তর্ভুক্ত। তাই সন্ত্রাসবাদকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের সঙ্গে না জড়িয়ে এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন ও বিশেষায়িত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট, চীনে কাউন্টার-টেররিজম আইন এবং সিঙ্গাপুরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইন সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলা করা হয়। একই সঙ্গে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট, প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়েপনস অ্যান্ড ট্যাকটিক্স এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো। কোনো হামলার পর সংবাদ শিরোনাম পরিবর্তিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। অনেকেই আজীবন মানসিক আঘাত বহন করেন, কেউ হারান কর্মক্ষমতা, আবার অনেক পরিবার হারায় তাদের প্রধান উপার্জনক্ষম সদস্যকে। ফলে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কাউন্টার-টেরোরিজম অফিসের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে ভিকটিমস অব টেররিজম অ্যাসোসিয়েশনস নেটওয়ার্ক। এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মটি সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তি, তাদের পরিবার, ভুক্তভোগী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে। বর্তমানে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ১২০টির বেশি ভুক্তভোগী ও সংগঠন এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন-সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধিতে এই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সন্ত্রাসবাদের শিকার মানুষের জন্য রাষ্ট্রের করণীয়ের মধ্যে রয়েছে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী সহায়তা তহবিল গঠন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সহমর্মিতা প্রকাশ, সামাজিক অপবাদ দূর করা, পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা, রক্তদান ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলা একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ নির্মাণের জন্য অপরিহার্য।

২১ আগস্টের এই আন্তর্জাতিক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সন্ত্রাসবাদের প্রকৃত মূল্য শুধু নিহতের সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার, সম্প্রদায় এবং প্রজন্মের জীবনে। তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা বিশ্বসমাজের একটি যৌথ দায়িত্ব। স্মরণ, শ্রদ্ধা, মানবাধিকার এবং সহমর্মিতার এই বার্তাই দিবসটির মূল তাৎপর্য।

কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্যাসবাহী ট্যাংকার বসতবাড়িতে, ভবন ক্ষতিগ্রস্থ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্যাসবাহী ট্যাংকার বসতবাড়িতে, ভবন ক্ষতিগ্রস্থ

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার লরি সড়কের পাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এতে বাড়ির বাথরুমসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে একটি প্রাইভেটকারের গ্লাস। দুর্ঘটনার সময় ঘরে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (২০ আগস্ট ২০২৬) ভোরে যশোর-চুকনগর সড়কের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা কবলিত গ্যাসবাহী ট্যাংকারটির নম্বর চট্টগ্রাম মেট্রো-ঢং-৬১-০৩৯৮।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গ্যাসবাহী ট্যাংকারটি ঢাকা থেকে ছেড়ে খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোরে আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্যাংকারটি সড়কের পাশের স্বাস্থ্যকর্মী হাবিবুর রহমানের বাড়িতে সজোরে ধাক্কা করে। এতে বাড়ির বাথরুমের বিল্ডিং ভেঙে ট্যাংকারটি ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে বাড়ির অপর একটি অংশেও আঘাত লাগে।

বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা সবাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাইরে এসে তাঁরা দেখতে পান, একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার তাঁদের বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এতে বাথরুমসহ বাড়ির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোররাতে সড়কটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাসবাহী ট্যাংকারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ যান নিয়ন্ত্রণ হারালে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এবিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্র রোকসানা খাতুন বলেন খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছে।

 

ভারত থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে ১৫ দিনে ৪ হাজার ৯২ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ আমদানি, কমেছে দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
ভারত থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে ১৫ দিনে ৪ হাজার ৯২ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ আমদানি, কমেছে দাম

এম শফিকুল ইসলাম, ভোমরা: গত ৩ আগস্ট থেকে ভোমরা স্থল বন্দর ব্যবহার করে ভারত থেকে ৩২০টি ট্রাকে ৪ হাজার ৯২ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে। ভোমরায় কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বন্দর ব্যবসায়ী বলছেন, পর্যাপ্ত কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় গ্রাম ও শহর অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম।

 

এখন কেজি প্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। যা ১৫ দিন আগে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্য স্থিতিশীল ও চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি হওয়ায় এবং স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে সাধারণ ক্রেতারা ক্রয়মূল্য সুবিধা পাচ্ছেন। স্বস্তি ফিরে এসেছে বাজারমূল্যে।

এদিকে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কমে গেছে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি। ভোমরা বন্দর দিয়ে গত ২/৩দিন কাঁচা মরিচ আমদানি নেই বললেও চলে। বাজারে হঠাৎ করে দাম কমে যাওয়ায় এখন মুনাফার পরিবর্তে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা।

 

আমদানিকারক ফারহাদ হোসেন জানিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচা মরিচ সরবরাহ থাকায় আগস্ট মাস পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পরবর্তী সেপ্টেম্বর মাস থেকে আবার চাহিদায় বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কাঁচা মরিচ আমদানির লক্ষ্য এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমদানি অনুমতি (আইপি) নিয়ে আবার পুরোদমে চলবে কাঁচা মরিচ আমদানি কার্যক্রম। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার আমদানি অনুমতি বহাল রাখে।