বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

দক্ষ জনবলের অভাবে থমকে আছে সুন্দরবনের পর্যটন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
দক্ষ জনবলের অভাবে থমকে আছে সুন্দরবনের পর্যটন

মো: মামুন হাসান

সুন্দরবনের ভোরে কুয়াশা নামে, জোয়ার আসে, কেওড়ার পাতায় আলো পড়ে। পর্যটকের নৌকা নদী কেটে এগিয়ে যায়। চোখের সামনে খুলে যায় পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমির এক অনন্য সৌন্দর্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সৌন্দর্য দেখানোর জন্য আমাদের কি যথেষ্ট দক্ষ মানুষ আছে? সমস্যাটি সুন্দরবনের সৌন্দর্যের নয়, সমস্যাটি সেই সৌন্দর্যকে একটি নিরাপদ, মানসম্মত, টেকসই এবং স্থানীয় মানুষের জন্য লাভজনক পর্যটন অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার সক্ষমতার।

 

সুন্দরবনের পর্যটন নিয়ে আমাদের আলোচনা সাধারণত নৌযান, প্রবেশমূল্য, অবকাঠামো, প্রচারণা কিংবা পর্যটকের সংখ্যা ঘিরে আবর্তিত হয়। অথচ পর্যটনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি চোখে দেখা যায় না। সেটি হলো দক্ষ মানবসম্পদ। বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়ে জাতিসংঘও বলছে, পর্যটন পরিবহন, আতিথেয়তা, খাদ্য, হস্তশিল্প ও খুচরা ব্যবসাসহ বহু খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠী পর্যটনের আয় থেকে যথেষ্ট অংশ না পেলে এর স্থানীয় অর্থনৈতিক মূল্য সীমিত হয়ে যায়।

সুন্দরবনের ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটক আসছেন, নৌকা চলছে, গাইড কাজ করছেন, খাবার বিক্রি হচ্ছে, আবাসনের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এই পুরো অর্থনৈতিক শৃঙ্খলের কতটা স্থানীয় তরুণের হাতে থাকছে? এখানেই প্রয়োজন কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম।

 

একজন স্থানীয় তরুণ যদি প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড হন, তিনি শুধু পর্যটককে পথ দেখাবেন না। তিনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, নদীর জোয়ার ভাটা, স্থানীয় ইতিহাস, লোককথা, সংস্কৃতি ও সংরক্ষণ সম্পর্কে গল্প বলবেন। একজন স্থানীয় নারী যদি প্রশিক্ষণ নিয়ে হোমস্টে পরিচালনা করেন, তাহলে একটি বাড়ি কেবল থাকার জায়গা থাকবে না, হয়ে উঠবে একটি স্থানীয় পর্যটন পণ্য।

 

স্থানীয় জেলে, নৌকার মাঝি, কারুশিল্পী, রাঁধুনি কিংবা কৃষকও তখন পর্যটন অর্থনীতির অংশীদার হতে পারেন। গবেষণায়ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক কমিউনিটি বেইজড ইকো ট্যুরিজমে স্থানীয় মানুষের হস্তশিল্প, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ সুন্দরবনের পর্যটনের ভবিষ্যৎ শুধু আরও পর্যটক আনার মধ্যে নেই। ভবিষ্যৎ হলো আরও বেশি স্থানীয় মানুষকে পর্যটনের মালিকানায় যুক্ত করার মধ্যে।

হোমস্টে হতে পারে নতুন অর্থনীতির দরজা
সুন্দরবনের আশপাশের গ্রামগুলোকে আমরা এতদিন পর্যটন গন্তব্যের বাইরে রেখেছি। অথচ পর্যটক শুধু বন দেখতে চান না। তিনি স্থানীয় মানুষের জীবন দেখতে চান, স্থানীয় খাবার খেতে চান, নদীর গল্প শুনতে চান, গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে চান। এখানে হোমস্টে হতে পারে একটি কার্যকর মডেল। একটি পরিচ্ছন্ন বাড়ি, নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা, স্থানীয় খাবার, প্রশিক্ষিত আতিথেয়তা, স্বাস্থ্যবিধি, পর্যটক ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা থাকলে একটি সাধারণ পরিবারও পর্যটন উদ্যোক্তায় পরিণত হতে পারে।

 

সুন্দরবন পর্যটনকে ঘিরে বিভিন্ন নীতি আলোচনাতেও স্থানীয় হোমস্টে, স্থানীয় দক্ষতা উন্নয়ন এবং পেশাদার ট্যুর গাইড তৈরির প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।কিন্তু হোমস্টে খুললেই পর্যটন হবে না। প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। কীভাবে অতিথিকে স্বাগত জানাতে হয়, কীভাবে খাবার পরিবেশন করতে হয়, কীভাবে ঘর পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়, কীভাবে পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, কীভাবে অভিযোগ সামলাতে হয়, কীভাবে অনলাইনে বুকিং নিতে হয়, কীভাবে স্থানীয় সংস্কৃতিকে বাণিজ্যিকীকরণের বদলে সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করতে হয়, এসবই হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের অংশ।

ট্যুর গাইড শুধু পথ দেখান না
সুন্দরবনের একজন দক্ষ ট্যুর গাইড আসলে একজন চলমান গল্পকার, প্রকৃতি ব্যাখ্যাকারী এবং পর্যটন দূত। তিনি জানবেন কোথায় থামতে হবে, কী বলা যাবে, কী বলা যাবে না। তিনি জানবেন বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি গিয়ে পর্যটকের আচরণ কেমন হওয়া উচিত। তিনি জানবেন জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে। তিনি পর্যটককে শুধু বলবেন না, “ওখানে হরিণ দেখা যাচ্ছে।” তিনি বোঝাবেন, কেন এই হরিণ সুন্দরবনের পরিবেশব্যবস্থার অংশ। এই পার্থক্যই একজন সাধারণ সহকারী এবং একজন পেশাদার ট্যুর গাইডের মধ্যে। বাংলাদেশের সরকারি পর্যটন ব্যবস্থাপনাতেও এখন ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, পর্যটন আবাসন ও পর্যটন পরিবহনকে আলাদা পর্যটনসেবা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ট্যুর অপারেটরকে হতে হবে গন্তব্য নির্মাতা
সুন্দরবনের পর্যটনকে আমরা এখনও অনেকাংশে একটি নির্দিষ্ট রুটের নৌভ্রমণ হিসেবে দেখি। কিন্তু একজন দক্ষ ট্যুর অপারেটর চাইলে পুরো অঞ্চলকে একটি অভিজ্ঞতা নির্ভর পর্যটন সার্কিটে রূপ দিতে পারেন। সুন্দরবন ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে স্থানীয় খাবার, মধু, শুকনা মাছ, হস্তশিল্প, নদীকেন্দ্রিক জীবন, লোকসংস্কৃতি, গ্রামীণ কৃষি, পাখি দেখা, ফটোগ্রাফি, স্থানীয় ইতিহাস এবং হোমস্টে। তখন পর্যটক শুধু একটি বন দেখে ফিরে যাবেন না। তিনি একটি অঞ্চলকে অনুভব করে ফিরবেন।বাংলাদেশ বন বিভাগের সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে বিভিন্ন পর্যটন স্পট এবং ট্যুর অপারেটরের তথ্যও রয়েছে। অর্থাৎ কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এখন প্রয়োজন সেই কাঠামোর ভেতরে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও স্থানীয় মানবসম্পদ তৈরি করা।

ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার গুরুত্ব
সুন্দরবনের পাশে দাঁড়িয়ে যদি আমরা সুন্দরবনের পর্যটনের জন্য দক্ষ মানুষ তৈরি করতে না পারি, তাহলে আমাদের পর্যটন উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কোনো সাধারণ ডিগ্রি বা ডিপ্লোমার নাম নয়। এটি এমন একটি শিক্ষা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী পর্যটনকে ব্যবসা, সেবা, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং মানবসম্পদের সমন্বিত শিল্প হিসেবে দেখতে শেখে। একজন শিক্ষার্থী শিখতে পারে ফ্রন্ট অফিস অপারেশন, হাউসকিপিং, ফুড প্রোডাকশন, খাদ্য নিরাপত্তা, পর্যটক সেবা, ট্যুর অপারেশন, গাইডিং, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পর্যটন বিপণন এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা।

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ তাই কেবল একটি শিক্ষাক্রম নয়, সুন্দরবনকেন্দ্রিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম। সাতক্ষীরার একজন তরুণকে ঢাকায় গিয়ে পর্যটনের ভবিষ্যৎ খুঁজতে হবে কেন? সুন্দরবনের কাছেই তো তার ভবিষ্যতের একটি বড় অংশ পড়ে আছে।

প্রয়োজন সুন্দরবন স্কিল ম্যাপ
সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন উন্নয়নে একটি সুন্দরবন ট্যুরিজম স্কিল ম্যাপ তৈরি করা যেতে পারে। কোন এলাকায় কতজন প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড প্রয়োজন, কোথায় হোমস্টে করা সম্ভব, কোথায় স্থানীয় খাবারের উদ্যোক্তা তৈরি করা যায়, কোথায় নারী উদ্যোক্তাদের যুক্ত করা সম্ভব, কতজন নৌযান কর্মীকে নিরাপত্তা ও পর্যটক সেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন, কোন অঞ্চলে ট্যুর অপারেটর তৈরি করা যায়, এসব তথ্যভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে।

এরপর সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের তরুণদের জন্য তৈরি করা যেতে পারে সুন্দরবন ট্যুরিজম স্কিল একাডেমি ধরনের একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কাঠামো। এখানে স্থানীয় মানুষই হবে প্রথম অগ্রাধিকার।কারণ সুন্দরবন সম্পর্কে যার শৈশবের গল্প আছে, তাকে সুন্দরবনের গল্প বলার প্রশিক্ষণ দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু বাইরের একজন দক্ষ মানুষকে স্থানীয় মানুষের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও নদীর ভাষা শেখানো অনেক কঠিন।

পর্যটনের লাভ যেন সুন্দরবনের পাড়েই থাকে
কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজমের মূল দর্শন এখানেই।পর্যটক আসবেন সুন্দরবনে, কিন্তু পর্যটনের অর্থনীতি যেন সুন্দরবনের মানুষের জীবনেও পৌঁছায়। একজন পর্যটক একটি হোমস্টেতে থাকবেন। স্থানীয় পরিবারের আয় হবে। স্থানীয় রাঁধুনি খাবার তৈরি করবেন। স্থানীয় কৃষক সবজি সরবরাহ করবেন। স্থানীয় জেলে বা নৌকার মাঝি প্রশিক্ষণ নিয়ে নিরাপদ নৌভ্রমণে যুক্ত হবেন। স্থানীয় তরুণ গাইড হবেন। স্থানীয় নারী হস্তশিল্প বিক্রি করবেন। স্থানীয় ট্যুর অপারেটর পুরো অভিজ্ঞতাটি সমন্বয় করবেন। একজন পর্যটকের ব্যয় তখন একটি পরিবারের আয় নয়, একটি স্থানীয় অর্থনৈতিক চক্র তৈরি করবে। ইউএনডিপি সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটনকে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সম্ভাবনাময় পথ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সুন্দরবনের পর্যটনকে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে
সরকারের কৌশলগত পর্যটন মহাপরিকল্পনার খসড়াতেও বাংলাদেশের পর্যটনে পণ্য উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ, দক্ষতা এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ঘাটতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।তাই সুন্দরবনের পর্যটন উন্নয়নের প্রশ্নে আমাদেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত নয় শুধু, কতজন পর্যটক সুন্দরবনে গেলেন? বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, কতজন স্থানীয় তরুণ পর্যটন থেকে আয় করলেন? কতটি পরিবার হোমস্টে উদ্যোক্তা হলো? কতজন নারী পর্যটন উদ্যোক্তা হলেন? কতজন প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড তৈরি হলো? কতজন স্থানীয় ট্যুর অপারেটর আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে পারলেন? পর্যটকের ব্যয়ের কতটা সুন্দরবনের স্থানীয় অর্থনীতিতে থাকল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই ঠিক করবে সুন্দরবনের পর্যটন সত্যিকার অর্থে এগোচ্ছে কি না।

সুন্দরবনকে শুধু দেখার জায়গা হিসেবে রাখলে পর্যটন হবে, কিন্তু অর্থনীতি তৈরি হবে না। সুন্দরবনকে স্থানীয় মানুষের দক্ষতা, উদ্যোগ ও অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে তৈরি হবে একটি নতুন পর্যটন অর্থনীতি। সুন্দরবনের নদী আমাদের পথ দেখায়। বন আমাদের বাঁচতে শেখায়। এখন সুন্দরবন আমাদের আরেকটি শিক্ষা দিতে পারে: প্রকৃতিকে রক্ষা করে অর্থনীতি তৈরি করা যায়, আর স্থানীয় মানুষকে বাদ দিয়ে কোনো টেকসই পর্যটন গড়ে ওঠে না। সুতরাং সুন্দরবনের পর্যটনের পরবর্তী বড় বিনিয়োগ হয়তো নতুন কোনো জেটি, ভবন কিংবা নৌযানে নয়।

বিনিয়োগটি হতে হবে মানুষের ওপর।
সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় পর্যটন অবকাঠামো তার নদী নয়, তার বন নয়, তার বন্যপ্রাণীও নয়। সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হলো একজন দক্ষ মানুষ, যে সুন্দরবনকে শুধু দেখাতে জানে না, সুন্দরবনকে বুঝিয়ে বলতে জানে। আর সেই মানুষ তৈরির শ্রেণিকক্ষ হতে পারে সুন্দরবনের পাশের একটি পলিটেকনিকের ছোট্ট কক্ষও। সেখান থেকেই হয়তো একদিন জন্ম নেবে বাংলাদেশের সুন্দরবনের প্রথম প্রজন্মের পেশাদার ট্যুর গাইড, দক্ষ ট্যুর অপারেটর, হোমস্টে উদ্যোক্তা এবং কমিউনিটি ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞ। সুন্দরবন অপেক্ষা করছে পর্যটকের জন্য নয় শুধু, অপেক্ষা করছে তার নিজের মানুষের দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য।

মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

এনবিবিকে আল-মদিনা দাখিল মাদ্রাসায় সবুজায়ন কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
এনবিবিকে আল-মদিনা দাখিল মাদ্রাসায় সবুজায়ন কর্মসূচি

‎‎নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘সবুজে গড়ি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ, সুন্দর হোক আমাদের জীবন’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর-ধুলিহর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এনবিবিকে আল-মদিনা দাখিল মাদ্রাসায় সবুজায়ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎‎বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন জাতের ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে চারা রোপণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্্রপালিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ফলদ গাছ ছিল।

‎‎চারা বিতরণ ও রোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, ‎‎ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী, ‎‎মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট এ.বি.এম. হাফিজুর রহমান, মোকলেছুর রহমান ও সাংবাদিক রুহুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

 

শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় আমের চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় আমের চারা বিতরণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ০৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আমের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে মাদ্রাসার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে ফলজ, বিশেষ করে আমের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আমের চারা রোপণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছ, ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান, মাদ্রাসার সুপার মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী সুপার মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর কবির, মো. নাজরুল ইসলাম, মো. নুরুল ইসলাম, মো. রওশন আলী, দীপঙ্কর কুমার তারাফদার, মো. কবির হোসাইন, রাহিমা খাতুন, মো. আবুল হাসান ও ফারহানা সুলতানাসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে খুলনায় বিভিন্ন কর্মর্সচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে খুলনায় বিভিন্ন কর্মর্সচি

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

২৬ আগস্ট সকাল সাড়ে নয়টায় খুলনা শিশু একাডেমিতে হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ক গ্রুপ: প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি, খ গ্রুপ: পঞ্চম শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি ও গ গ্রুপ: অষ্টম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত। দুপুর সাড়ে ১২টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা দুইটায় শিশু বিকাশ কেন্দ্রে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতা শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে উপস্থিত হয়ে প্রতিযোগীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। তথ্যবিবরণী