শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি সচেতনতায় ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি সচেতনতায় ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাড়ির আঙিনা থেকে ছাদ, কোথাও জমে থাকা পানি আছে কি না, তা দেখছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। সাতক্ষীরায় ডেঙ্গর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংসে বাড়ি বাড়ি সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর, কামালনগর, মুনজিতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি যান তারা। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বাড়ির আশপাশে পানি জমে আছে কি না, ফুলের টব, বালতি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো জায়গায় এডিস মশার প্রজননের সুযোগ আছে কি না, তা দেখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবকেরা বাসিন্দাদের বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধের বড় একটি কাজ শুরু করতে হবে নিজের বাড়ি থেকেই। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত ফেলে দিতে হবে। যেসব পাত্রে পানি রাখা হয়, সেগুলো ঢেকে রাখতে হবে। ছাদ, বারান্দা, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না, আশপাশের জায়গাগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং পরিত্যক্ত পাত্র বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলার বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে।

ভিবিডি সাতক্ষীরার সভাপতি এস এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক পরিবার যদি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেয় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে, তাহলে সংক্রমণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতেই তাঁরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধ শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমেছে কি না, নিয়মিত দেখতে হবে এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য ভিবিডির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কারও জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গণর অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে রোগী হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ খুলনা ডিভিশন বোর্ডের কমিউনিকেশন সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্টের হিউম্যান রিসোর্স অফিসার তানজিল আলম, ট্রেজারার নাজমুল হাসান, সদর উপজেলা কমিটির করিমুন্নেসা শান্তা, কমিটি মেম্বার গোলাম হোসেন, তানভীর আঞ্জুম খান, সামির চৌধুরী, শিশু সদস্য ফালাকসহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকেরা।

সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গণর বিস্তার রোধ করতে এমন বার্তা নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে ভিবিডি সাতক্ষীরা।

 

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।