এসএম হাবিবুল হাসান: সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে সদর উপজেলাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলা দল। সদর উপজেলা ফুটবল একাদশকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে সরাসরি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে সদর উপজেলা একাদশ বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা দলের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে প্রথমার্ধের শুরুতে মুহূর্ত মুহু আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে সদর উপজেলা একাদশ এবং কালিগঞ্জ উপজেলা দল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সদর উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় বুয়েটিংকে অবৈধভাবে বাধা দিলে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় দল। ফ্রি-কিক মারেন বুয়েটিং নিজে। তবে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা করেন কালিগঞ্জ উপজেলা দলের গোলকিপার নাঈম। এরপর আবারও আক্রমণে গিয়েছিলেন বুয়েটিং, তবে গোল না হওয়ায় গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় উভয় দল।
বিরতি থেকে খেলা শুরু হতেই মুষলধারে বৃষ্টি নামতে থাকে। মাঠে পানি জমে খেলা অনুপযোগী হওয়ায় ম্যাচ কমিশনার আতাউর রহমানের নির্দেশে ম্যাচ রেফারি আবু সুফিয়ান খেলাটি সাময়িক বন্ধ রাখেন। পরে বৃষ্টি শেষে টাইব্রেকারের মাধ্যমে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় পায় কালিগঞ্জ উপজেলা দল। রোববার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্যামনগর উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলা দলের মধ্যে বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে তারা।
টাইব্রেকারে প্রথম শট নেন সদর উপজেলা একাদশের বিদেশি খেলোয়াড় বিল্লাল, তবে শটটি গোলবারে লাগায় গোল হয়নি। দলটির হয়ে শারাফাত, বুটেন ও শাহিন শট করেন; এর মধ্যে বুটেন ও শাহিন গোল করতে সক্ষম হন। অন্যদিকে কালিগঞ্জ উপজেলার হয়ে টাইব্রেকারে শট নেন নেইমার আব্দুল, আল আমিন, দাউদা ও ইমরুল। তাঁরা সবাই গোল করেন। নানার শটটি বার উঁচিয়ে বাইরে চলে যায়।
ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন কালিগঞ্জ উপজেলার গোলকিপার। পুরো ম্যাচে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ক্লিন শট সেভ করেন। ম্যাচটি পরিচালনা করেন তরুণ প্রজন্মের রেফারি আবু সুফিয়ান। সহকারী হিসেবে ছিলেন রাহুল সরকার ও জাহাঙ্গীর কবির। চতুর্থ রেফারি ছিলেন মিজানুর রহমান এবং ম্যাচ কমিশনার ছিলেন আতাউর রহমান। ধারা বিবরণীতে ছিলেন ওলিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন মিলন ও আশরাফ হোসেন।