শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্ব আজ নানা ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ৮০০ কোটির অধিক মানুষের মিলিত আবাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও পৃথিবীর বহু অঞ্চলে মানুষ কেবল তাদের ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য, নিপীড়ন, হামলা এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয় এবং মানবাধিকারের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার এ/আরইএস/৭৩/২৯৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি বছর ২২ আগস্টকে “ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০১৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা, তাদের জন্য যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা। জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, কোনো ধর্ম, বিশ্বাস বা মতাদর্শকে কখনোই মানুষের জীবন, মর্যাদা ও মানবাধিকারের ওপর আক্রমণের বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি, সম্প্রদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এসব ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষতি করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ মোকাবিলায় জাতিসংঘ বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক কাঠামো, রেজল্যুশন ১৬/১৮ এবং রাবাত কর্মপরিকল্পনা। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ঘৃণামূলক বক্তব্য, বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা এবং বাকস্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টার বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে চলেছেন।

বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তবে একই সঙ্গে ঘৃণা, গুজব, অপপ্রচার ও বিভাজন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে কার্যকর নীতি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব বেড়েছে। জাতিসংঘ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডিজিটাল মাধ্যম শান্তি, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানও ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা এবং বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। সংবিধানের ১২, ২৭, ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। পাশাপাশি দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় উপাসনালয় ভাঙচুর, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় সমাবেশে বাধা এবং সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব আইনি সুরক্ষা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশ্বে আনুমানিক ১০ হাজারেরও বেশি স্বতন্ত্র ধর্ম ও আঞ্চলিক বিশ্বাসের চর্চা রয়েছে। এই বৈচিত্র্য মানবসভ্যতার এক মূল্যবান সম্পদ। তাই কয়েকজন ব্যক্তি বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের জন্য কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সহিংসতার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। পৃথিবীতে প্রধান ও বড় ধর্মগুলোর বাইরে ক্ষুদ্র অনুসারী বা কম প্রচলিত ধর্মের মধ্যে রয়েছে; শিখ ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, বাহাই ধর্ম, তাওবাদ, কনফুসিয়ানিজম, জৈন ধর্ম, শিন্তো ধর্ম, জরথুষ্ট্রবাদ বা পার্সি ধর্ম, আত্মাবাদ বা স্পিরিটিজম ও টেনরিকিও।

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে পরিচিত ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস, তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা এবং শিয়া মুসলিম ধর্মীয় সর্বোচ্চ ইরানের নেতা মোজতবা খামেনিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সংলাপ ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২২ আগস্টের এই আন্তর্জাতিক দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবাধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের অধিকার। এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা আমাদের যৌথ দায়িত্ব, যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে যথার্থ সম্মান করা হবে এবং প্রত্যেক মানুষ নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা, বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ এবং সহিংসতার পরিবর্তে শান্তির পথই হতে পারে মানবতার টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবলের ফাইনালে কালিগঞ্জ উপজেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবলের ফাইনালে কালিগঞ্জ উপজেলা

এসএম হাবিবুল হাসান: সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে সদর উপজেলাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলা দল। সদর উপজেলা ফুটবল একাদশকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে সরাসরি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে সদর উপজেলা একাদশ বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা দলের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে প্রথমার্ধের শুরুতে মুহূর্ত মুহু আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে সদর উপজেলা একাদশ এবং কালিগঞ্জ উপজেলা দল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সদর উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় বুয়েটিংকে অবৈধভাবে বাধা দিলে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় দল। ফ্রি-কিক মারেন বুয়েটিং নিজে। তবে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা করেন কালিগঞ্জ উপজেলা দলের গোলকিপার নাঈম। এরপর আবারও আক্রমণে গিয়েছিলেন বুয়েটিং, তবে গোল না হওয়ায় গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় উভয় দল।

বিরতি থেকে খেলা শুরু হতেই মুষলধারে বৃষ্টি নামতে থাকে। মাঠে পানি জমে খেলা অনুপযোগী হওয়ায় ম্যাচ কমিশনার আতাউর রহমানের নির্দেশে ম্যাচ রেফারি আবু সুফিয়ান খেলাটি সাময়িক বন্ধ রাখেন। পরে বৃষ্টি শেষে টাইব্রেকারের মাধ্যমে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।

টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় পায় কালিগঞ্জ উপজেলা দল। রোববার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্যামনগর উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলা দলের মধ্যে বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে তারা।

টাইব্রেকারে প্রথম শট নেন সদর উপজেলা একাদশের বিদেশি খেলোয়াড় বিল্লাল, তবে শটটি গোলবারে লাগায় গোল হয়নি। দলটির হয়ে শারাফাত, বুটেন ও শাহিন শট করেন; এর মধ্যে বুটেন ও শাহিন গোল করতে সক্ষম হন। অন্যদিকে কালিগঞ্জ উপজেলার হয়ে টাইব্রেকারে শট নেন নেইমার আব্দুল, আল আমিন, দাউদা ও ইমরুল। তাঁরা সবাই গোল করেন। নানার শটটি বার উঁচিয়ে বাইরে চলে যায়।

ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন কালিগঞ্জ উপজেলার গোলকিপার। পুরো ম্যাচে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ক্লিন শট সেভ করেন। ম্যাচটি পরিচালনা করেন তরুণ প্রজন্মের রেফারি আবু সুফিয়ান। সহকারী হিসেবে ছিলেন রাহুল সরকার ও জাহাঙ্গীর কবির। চতুর্থ রেফারি ছিলেন মিজানুর রহমান এবং ম্যাচ কমিশনার ছিলেন আতাউর রহমান। ধারা বিবরণীতে ছিলেন ওলিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন মিলন ও আশরাফ হোসেন।

 

 

আশাশুনি-ঘোলা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যান চলাচল বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
আশাশুনি-ঘোলা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যান চলাচল বন্ধ

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি-ঘোলা সড়কে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শ্রীউলা ইউনিয়নের কলিমাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আশাশুনি জোনাল অফিসের এজিএম প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান জানান, সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে খুঁটিটি পড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা খুঁটি সরিয়ে পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু করেন।

কপোতাক্ষের তীর কেটে ইটভাটা: চরম ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
কপোতাক্ষের তীর কেটে ইটভাটা: চরম ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

সম্পাদকীয়

উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ। তবে খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের তীরের মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করার যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

এফএফ ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা বেড়িবাঁধের একেবারে কোল ঘেঁষে নদের তীর ও চরের মাটি গভীর পুকুরের মতো করে কেটে নিয়েছে। এতে আগামী যেকোনো জোয়ার বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনস্বার্থ ও পরিবেশকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট বা ব্যবসার অজুহাতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকা- কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ইটভাটার মালিকপক্ষ লিজ নেওয়া জমির অজুহাত দিয়ে কিংবা চরের মাটি জোয়ারে আবার ভরাট হয়ে যাবেÑএমন খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপন করে তাঁদের দায় এড়াতে পারেন না। আইনের স্পষ্ট বিধান রয়েছে যে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদের সুরক্ষা অঞ্চলের মধ্য থেকে কোনো অবস্থায় মাটি কাটা যাবে না। বাঁধ ঝুঁকিতে ফেলে নদের চর ও তীর খনন করা কেবল পরিবেশ আইনই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধন ও জননিরাপত্তা বিপন্ন করার শামিল। তদুপরি, এসব ভাটার অনিয়ন্ত্রিত ধোঁয়া ও ছাই কাছের বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করছে, যা প্রত্যক্ষভাবে কৃষি উৎপাদনের ওপর আঘাত হানছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়াকে বেআইনি ও অপরাধ হিসেবে স্বীকার করা হলেও বাস্তবে তাঁদের কার্যকর পদক্ষেপে ঢিলেমি লক্ষণীয়। কেবল ‘আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’Ñএমন মৌখিক হুঁশিয়ারিতে অবৈধ মাটি কাটা থামানো সম্ভব নয়। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবিলম্বে সরেজমিনে তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্ত ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদের তীর পুনর্র্নিমাণ এবং বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করতে দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো মুহূর্তে পুরো এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।