শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

আধুনিক সাতক্ষীরা গঠনে সমন্বিত উন্নয়নের অপরিহার্যতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
আধুনিক সাতক্ষীরা গঠনে সমন্বিত উন্নয়নের অপরিহার্যতা

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরা। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে এর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি চিংড়ি শিল্প, কৃষি, মৎস্য, সীমান্ত বাণিজ্য ও পর্যটনের সম্ভাবনাও জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার মতো শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো-এই সম্ভাবনার বড় একটি অংশ এখনো পরিকল্পনার অভাব, দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কারণে অপূর্ণ রয়ে গেছে।

দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভাঙাচোরা সড়ক, নিরাপদ পানির সংকট এবং পরিবেশ দূষণ দিন দিন প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে জেলার উপকূলীয় ও গ্রামীণ অঞ্চলে নদীভাঙন, লবণাক্ততা, দুর্বল বেড়িবাঁধ এবং জলাবদ্ধতা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। ফলে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সময়ের দাবি হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় নাগরিক সমস্যা জলাবদ্ধতা। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের বহু এলাকা পানিতে ডুবে যায়, যার প্রভাব পড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক ড্রেন নির্মাণ, স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন পৃথকীকরণ, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করে নিয়মিত খনন, ড্রেন পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে পাম্পিং স্টেশন স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে। নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে শহর ও গ্রাম-দুই পর্যায়েই সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

উপকূলীয় জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পুনর্র্নিমাণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ, নদীশাসন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্যোগ-পরবর্তী দ্রুত পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। উপকূলের বাস্তবতায় দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত শহর গঠনে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। ঘরে ঘরে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, জৈব ও অজৈব বর্জ্য পৃথকীকরণ, আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল, কম্পোস্ট সার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও বাজারের বর্জ্য পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নগর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য। শহরের প্রধান ও উপ-সড়ক টেকসইভাবে সংস্কার, প্রশস্ত ফুটপাত, নিরাপদ পথচারী পারাপার, সাইকেল লেন, আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট এবং সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা একটি নিরাপদ ও আধুনিক নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্টের উন্নয়নও সমান গুরুত্ব পেতে হবে, যাতে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।

সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বাস্তবায়ন করা গেলে বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরার উপকূলীয় বাস্তবতায় লবণাক্ততা ও নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় আর্সেনিকমুক্ত ও নিরাপদ পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে। আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জেলার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি মৎস্য ও চিংড়ি শিল্প। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্যচাষ, রোগনিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পোনা উৎপাদন, ঠান্ডা সংরক্ষণাগার, হিমাগার ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে স্থানীয় উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সাতক্ষীরার মৎস্য ও চিংড়ি শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন বাড়াতে হবে।

উপকূলীয় জেলা হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সাতক্ষীরাকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথেই এগোতে হবে। সড়কের পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, নতুন পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সৃষ্টি, নদী-খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাস এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বা ‘সবুজ’ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে তরুণদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব কৃষি ও সবুজ ব্যবসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়ের খালও পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। খালটি দখল ও দূষণমুক্ত করে নিয়মিত খনন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দুই পাড়ে হাঁটার পথ, সবুজায়ন, বসার স্থান ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক অবকাঠামো গড়ে তুললে এটি একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নগরবাসীর বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবাও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য অংশ। অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, ই-গভর্ন্যান্স এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পৌরসেবা চালু হলে সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সাতক্ষীরায় আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একটি আধুনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে জেলার মানুষকে গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য বারবার রাজধানী বা অন্য বড় শহরের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরাকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা গেলে জেলার তরুণদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, মৎস্য, জলবায়ু ও উপকূলীয় উন্নয়নসহ স্থানীয় প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হবে। সরকারি বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার ও আইসিটি সুবিধা বৃদ্ধি এবং যুবকদের জন্য কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা স্থানীয় উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামোও প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার উপযোগী বিভিন্ন ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। শিশু ও তরুণদের সাঁতার শেখার সুযোগ তৈরি করতে একটি আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণও সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে। এসব অবকাঠামো শুধু ক্রীড়া উন্নয়ন নয়, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতেও ভূমিকা রাখবে।

সাতক্ষীরার পর্যটন সম্ভাবনাও যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সুন্দরবন, নদীকেন্দ্রিক প্রকৃতি, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে টেকসই ইকোট্যুরিজম গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত স্থানীয় গাইড, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র এবং নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানও বাড়বে। পর্যটন উন্নয়নে অবশ্যই সুন্দরবন ও স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাজার অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শহরের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে কৃষি, মৎস্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থান শক্তিশালী করার জন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের জন্য শিক্ষা, ক্রীড়া ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উন্নয়ন কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক কমিটি, নিয়মিত উন্মুক্ত নাগরিক সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

সাতক্ষীরাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই জেলায় রূপান্তর করতে হলে খণ্ডিত উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল। কার্যকর ড্রেনেজ, টেকসই বেড়িবাঁধ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক ও রেল যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর, বিশুদ্ধ পানি, আধুনিক মৎস্য অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ, ডিজিটাল সেবা, মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, ক্রীড়া অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, পর্যটন উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো— এসবকে একই উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

দূরদর্শী পরিকল্পনা, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরা শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, বরং বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে। এখন প্রয়োজন সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ, যা সম্ভাবনাময় সাতক্ষীরাকে সত্যিকার অর্থেই উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাংবাদিক, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী।

Ads small one

হাজী কল্যাণ সংস্থা সাতক্ষীরার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
হাজী কল্যাণ সংস্থা সাতক্ষীরার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা হাজী কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) সকালে শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে (লেক ভিউ) এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার সহস্্রাধিক পুরুষ ও নারী হাজী অংশগ্রহণ করেন। হাজী কল্যাণ সংস্থা সাতক্ষীরার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীন আলীর সভাপতিত্বে এবং সংস্থার সম্পাদক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

পাপমুক্তির চেতনা ধারণের আহ্বানসম্মেলনে অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, “হাজীগণ সমাজের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। হজ্জের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবন পরিচালনা করতে হবে। সমাজ থেকে অন্যায় ও অপরাধ দূর করতে হাজী সাহেবরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

”হজ্জের শিক্ষা ও সামাজিক ভূমিকাপ্রধান আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা নাজির মাহমুদ হজ্জের মূল তাৎপর্য তুলে ধরেন।

এছাড়া, কল্যাণকর সমাজ গঠনে হজ্জের শিক্ষা ও হাজী সাহেবদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন ঝাউডাঙ্গা মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী। তিনি বলেন, “হজ্জ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়, এটি একটি সামাজিক সংস্কারের শিক্ষা। হাজী সাহেবদের ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে।

”আল্লাহর মেহমান ও হজ্জের হাকিকতহাজীগণ আল্লাহর মেহমান এবং হজ্জের মাধ্যমে পাপমুক্তির ঘোষণার তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সাতক্ষীরা বড়বাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, “পবিত্র হজ্জ শেষে হাজীগণ যেভাবে নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফেরেন, সেই পাপমুক্ত জীবনের ধারা সারাজীবন বজায় রাখা প্রতিটি হাজীর দায়িত্ব।”

হজ্জের হাকিকতের উপর বিশেষ দারস প্রদান করেন মুফতি মাওলানা আব্দুল্লাহ। সম্মেলন শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক সঞ্চালনা করেন আলহাজ্ব শেখ নিজাম উদ্দীন।

শ্যামনগরে সরকারী কার্পেটিং রাস্তা ছিদ্র করে পাইপ স্থাপন, রাস্তার ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সরকারী কার্পেটিং রাস্তা ছিদ্র করে পাইপ স্থাপন, রাস্তার ক্ষতি

0-0x0-0-0-{}-0-0#

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী উত্তর পাড়ায় সরকারী কার্পেটিং রাস্তা ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে দেখা যায়, ব্যক্তিগত জায়গার পানি নিষ্কাষণের জন্য এলজিইডির কার্পেটিং রাস্তা ছিদ্র করে পাইপ বসানো হয়েছে। যার ফলে রাস্তায় গর্ত তৈরী হয়েছে এবং ধ্বস নামছে। যে কোন সময় বড় ধরনের ক্ষতি সাধন হতে পারে।

উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী উত্তর পাড়ার মৃত বাসুদেব যোদ্দারের পুত্র পরিমল যোদ্দার এই পাইপ বসিয়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তবে, পরিমল যোদ্দার বলেন, আমি পাইপটি নতুনভাবে বসায়নি। কার্পেটিং রাস্তা হওয়ার আগে পাইপটি ঘেরের পানি সরানোর জন্য বসানো ছিল। তার উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এম, আব্দুস সামাদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
তালায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবক আটক

তালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মহন্দী বাজারে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রবিন শেখ (৩০) নামে ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর মা জানান, তার মেয়ে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। প্রতিদিন ভোরে সে প্রাইভেট পড়তে যায়। আজও ভোর ছয়টায় বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে বের হয় সে। মহন্দী বাজারে পৌঁছালে মহন্দী গ্রামের হাজের শেখের ছেলে রবিন শেখ তাকে দোকানে ডাকে। সে সরল বিশ্বাসে দোকানের সামনে গেলে রবিন তার হাত ধরে দোকানের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

 

এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে এলে সে রক্ষা পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিন শেখকে আটক করে। ছাত্রীকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং রবিন শেখকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।