ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টা ৭ মিনিটে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
বিল উত্থাপনের আগে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলের দাবির কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য শেষে বিল উত্থাপনের পরবর্তী কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে বিরোধী জোটের অন্য সদস্যরাও ওয়াকআউট করেন।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি দিবসে (বৃহস্পতিবার) তিনটি সরকারি বিল উত্থাপন করার কার্যক্রম শুরু করলে সংসদে দাঁড়িয়ে যান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শেষ পার্যায়ে বিল, সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা এটাই জানতাম যে, বেসরকারি দিবসটা বেসরকারি সদস্যদের জন্য। কিন্তু সবকিছুতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সংসদকে ঠেলে একতরফাভাবে একপেশে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা নীতিগতভাবে এ ধরনের বিলে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছি না। আমরা মনে করি, এ ধরনের কাজের মাধ্যমে সংস্কারের যে মূল দাবি, সেটাকেই চাপা দেওয়া হবে। আমরা সেই চাপা দেওয়ার পক্ষে নই।’
সংস্কারের দাবিতে দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংস্কারের মূল দাবির পক্ষে জোরালো ও স্পষ্ট অবস্থানে আছি। আমরা এখান থেকে সরিনি—অফিশিয়ালি, নন-অফিশিয়ালি।’
সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে আপত্তি
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই পার্লামেন্টের ভেতরে এবং বাইরে অনেকবারই অনুরোধ করা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের কমিটিতে আসেন। একটা কমিটি এখানে পাস হয়েছে। আমাদের প্রতিবাদ ছিল। আমরা অংশগ্রহণ করিনি। ’
তিনি বলেন, ‘পরে আমরা যখন বললাম, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনও কমিটি হওয়ার কোনও বিধান নেই, তখন আমরা শুনলাম যে, এর আগে একটা বিশেষ শব্দ বসানো হয়েছে। সেই বিশেষটা এখানে পাস করা হয়েছে কি না, আমি জানি না।’
কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘একটা কমিটি যদি আসলে এই হাউস থেকে পাস করানো হয়, তাহলে তার প্রত্যেকটি অক্ষরও এখান থেকে পাস করাতে হবে। সেটা তো হয়নি। ওইটার পক্ষে আমরা ছিলাম না। বড় কথা এটা নয়। আমি বলছি, এখানে প্রসিডিউরটা মেইনটেইন করা হয়নি।’
‘আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই’
স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এখন যে বিষয়টা আপনি উত্থাপনের দিকে যাচ্ছেন, আমরা যেহেতু বৃহত্তর স্বার্থে পুরো সংস্কার চাই, আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং আমরা এভাবে কোনও প্রসেসের অংশ হতে চাই না।’
এর পরই সংসদ অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা এখন আর এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করবো না। এ পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমরা আবার ওয়াকআউট করছি। আমরা আবার যখন উপযুক্ত মনে করবো, তখন ইনশাআল্লাহ আমরা আসবো, অংশগ্রহণ করবো, জনগণের পক্ষে কথা বলবো।’
‘ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা আপনার আছে’
ওয়াকআউট ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা আপনার আছে। বাট সংসদের ভেতরে সবকিছু আলোচনা করা দরকার। না হলে জাতি কী পাবে?’
বিরোধীদলীয় নেতাকে অধিবেশনে থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো, আপনারা বসেন, আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক থাকবে। বিতর্কের মধ্য দিয়েই তো জাতি পরিচালিত হবে আপনাদের নেতৃত্বে।’
এরপর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
Oplus_131072
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় রোগাক্রান্ত ও মৃতপ্রায় গরু কিনে নেওয়ার অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার ছয় ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। ২৬ আগস্ট ভোররাত চারটার দিকে সদর উপজেলার মাগুরা বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি পিকআপ, একটি মোটরসাইকেল ও অসুস্থ গরুটি জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবতলা মাছখোলা গ্রামের আবুল বাসার কারিগর (৩০), তৈয়েবুর রহমান (১৯) ও মো. শাহিন ইসলাম (২০); খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার মো. ইব্রাহিম শেখ (২৫) ও রাব্বি হোসেন আকাশ (২৫) এবং যশোর জেলার কেশবপুর থানার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা বউবাজার সংলগ্ন একটি খামার থেকে অসুস্থ ফ্রিজিয়ান জাতের গরু নামমাত্র দামে কিনে পিকআপে খুলনার গল্লামারি এলাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা পিকআপসহ ৬ জনকে আটক করে মিল বাজারে নিয়ে যান। পরে সকালে তাঁদের সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে গরু, পিকআপ ও মোটরসাইকেলসহ ৬ জনকে উদ্ধার করে আটক করে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা থানায় গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গরুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, রোগাক্রান্ত গরু সংগ্রহ ও জবাই করে মাংস বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাঁদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠালে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বর্ষাকালে সুন্দরবন এবং এর সংলগ্ন নদ-নদীতে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ম্যানগ্রোভ বনের বাস্তুতন্ত্রের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষার তীব্র বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন শহর, হাট-বাজার এবং লোকালয়ের জমাকৃত প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেন ও নদী হয়ে সরাসরি সুন্দরবনে এসে প্রবেশ করছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমে সুন্দরবনের মোহনা অঞ্চলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব প্রায় ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঢলের কারণে নদ-নদী হয়ে সুন্দরবনে টন টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য প্রবেশ করছে। সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন জনপদ ও বাজারের অপচনশীল বর্জ্য জোয়ারের পানির সঙ্গে বনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির পানির তোড়ে শহরের ড্রেন ও খালের পলিথিন পশুর, রূপসা, শিবসা ও কপোতাক্ষ নদীর মাধ্যমে সুন্দরবনে ভেসে আসে। সুন্দরবন সংলগ্ন প্রায় ৮০টি গ্রাম ও স্থানীয় বাজারগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব থাকায় তা জোয়ারের পানিতে বনে ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যটকবাহী জাহাজ এবং যাত্রীবাহী ট্রলার থেকে ফেলা ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক প্লেট, কাপ ও বোতল নদী দূষণ তীব্র করছে।
জোয়ারের পর পলিথিন ও প্লাস্টিক সুন্দরীসহ বিভিন্ন গাছের শ্বাসমূলে আটকে যায়, যা উদ্ভিদের অক্সিজেন গ্রহণ ব্যাহত করে এবং বনের স্বাভাবিক পুনরুৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। নদীর তলদেশে প্লাস্টিকের আস্তরণ পড়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে। হরিণ, বানর ও কচ্ছপের মতো প্রাণীরা ভুলবশত প্লাস্টিক ও পলিথিন খেয়ে ফেলছে, যা তাদের পাকস্থলীতে জমে মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। প্লাস্টিক কণা ভেঙে তৈরি হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক হরিণা চিংড়িসহ অন্তত ১৭ প্রজাতির মাছের শরীরে পাওয়া গেছে, যা মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসার ও লিভারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়ে মাছের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেডএম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অধীনে সুন্দরবনে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ করা হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ বা সচেতনতামূলক প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়ার মানসিকতা তৈরি করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের মতো অন্যান্য রেঞ্জেও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক নিষিদ্ধের আইন ও জরিমানা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। খুলনা ও মংলাসহ আশেপাশের শহরগুলোতে উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং ড্রেনে আধুনিক ফিল্টার নেট ব্যবহার করা প্রয়োজন। পলিথিনের পরিবর্তে চটের ব্যাগ এবং মাটির পাত্রের ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের উদ্বুদ্ধ করা জরুরি।