বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় দিনদুপুরে গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী তাণ্ডব: চাঁদা না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুর, স্বর্ণালঙ্কার লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দিনদুপুরে গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী তাণ্ডব: চাঁদা না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুর, স্বর্ণালঙ্কার লুট
নিজস্ব প্রতিনিধি: ​সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জমি জবরদখল ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক গৃহবধূর নির্মাণাধীন বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে চিহ্নিত একদল সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীরা কেবল বাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট করেই ক্ষান্ত হয়নি, ওই নারী ও তাঁর ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা এবং প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর বউ বাজারের পাশে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ আরিফা খাতুন (৩৯) বাদী হয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী ১ নম্বর আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন (আরজি তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩৭৯, ৩০৭, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ (২য় অনুচ্ছেদ), ৩৪ ও ১১৪ ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
​অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—কামালনগর এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম (মন্টু) (৪২), মহাসিন আলী (৪০), মুজিবর রহমান (৪৫), আক্তার হোসেন (চঞ্চল) (৪০) এবং আব্দুস সবুর (৪৫)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী এ হামলায় অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
​ভুক্তভোগী আরিফা খাতুন জানান, তিনি ও তাঁর বোন ২০১৩ এবং ২০২২ সালে কামালনগর এলাকায় ৮.২৫ শতক জমি খরিদ করেন (কোবলা নং-১০৪৪ ও ৩০১৬)। স্বামী ব্যাংকে চাকরির সুবাদে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকায় উক্ত আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দিলে জমিতে ঘর তুলতে বা বসবাস করতে দেবে না বলে ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল তারা।
​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে আরিফা খাতুন তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িতে অবস্থানকালে আসামীরা মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ, খুঁটি ও কাঠ ভাঙচুর শুরু করে। ভুক্তভোগী বাধা দিলে রফিকুল ইসলাম, মহাসিন আলী ও আক্তার হোসেন সরাসরি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
​উগ্রমূর্তি দেখে আতঙ্কিত হয়ে আরিফা খাতুন ছাদের রড কেনার জন্য ব্যাগে থাকা ৮০,০০০ টাকা রফিকুল ইসলামের হাতে দিয়ে মিনতি জানান। তবে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রফিকুল ইসলামের নির্দেশে তাঁকে পিচের রাস্তার ওপর ফেলে অমানুষিক মারধর করা হয়। রফিকুল ইসলাম লোহার রড দিয়ে আরিফা খাতুনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে রডের আঘাত তাঁর পিঠের মেরুদণ্ডে লাগে। এরপর মহাসিন আলী বাঁশ দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
​এ সময় বোনকে বাঁচাতে ভাই মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে আক্তার হোসেন ও আব্দুস সবুর তাঁকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফোলা জখম করে। আহত আরিফা খাতুন কোনোমতে উঠে দাঁড়ালে আসামীরা তাঁকে আবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে মহাসিন আলী তাঁর বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায় এবং আব্দুস সবুর হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে।
​তাণ্ডব চলাকালে আসামীরা আরিফা খাতুনের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন (আনুমানিক মূল্য ২,০০,০০০ টাকা) এবং কানের ৮ আনার সোনার দুল (আনুমানিক মূল্য ৯০,০০০ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া মহাসিন আলী তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে এবং আসামীরা দড়ি দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে চরম নির্যাতন চালায়।
​পরে মনিরুজ্জামানের আর্তচিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয় যে—‘এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪,২০,০০০ টাকা চাঁদা না দিলে আরিফা খাতুন ও তাঁর সন্তানকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে’।
​ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরিফা খাতুন ও তাঁর ভাইকে রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গৃহবধূর মেরুদণ্ডের হাড়ে আঘাত লাগায় এক্স-রে এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত থাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হয়। মনিরুজ্জামান ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং আরিফা খাতুন ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
​হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার সাতক্ষীরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। সুস্থ হয়ে আরিফা খাতুন আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেন।
​বর্তমানে এ ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। আসামীরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আরিফা খাতুন ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। পরিবারটির জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।

Ads small one

আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): আইপি বা এনওসি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল করায় বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় ইলিশ আমদানি বানিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গতকাল থেকে ভারতীয় কোন ইলিশের চালান বাংলাদেশে আসেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দর মৎস্য পরিদর্শক আস ওয়াদুল আলম।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান. মঙ্গলবার বংলাদেশ মৎস্য অধিদফতর ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয কর্তৃপক্ষ ইলিশ রফতানিতে কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের একটি চিঠিতে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে অন্য সাদা মাছ আমদানি সচল থাকবে বলে জানান তিনি।

ইলিশ আমতানির সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

 

 

 

 

কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): খুলনার সুন্দরবনবেষ্টিত কয়রা উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়। অন্যরা চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও আটজন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে দু’জন। গেল আগস্ট মাসে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। মোট ৫৭ জন রোগীর মধ্যে ১০ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আর ৪৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এছাড়া অনেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন হাসপাতালে যেয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে হাত-পা ব্যবহার করছে রোগীর স্বজনরা। বারান্দায় ও কেবিনের সামনে কয়েকজন রোগীর দেখা মেলে।
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরে কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কয়রায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি কয়রায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে যেয়ে পাঁচজন রোগীর দেখা মেলে। ওইদিন একজনকে খুলনায় রেফার্ড করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি মদিনাবাদ গ্রামের শাহিন বলেন, ‘বাড়িতে থেকেই কাজকর্ম করি। পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে শয্যা সংকট থাকায় ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।’

সোহেল নামে এক রোগীর পিতা বলেন, হাসপাতালে প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। খাওয়ার পানিরও ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হচ্ছে। তাঁর প্লাটিলেট ৪৯ হাজারে নেমে গেছে বলেও জানান তিনি। দিনমজুরের কাজ করা ওই রোগী আক্ষেপ করে জানান, বাইরে থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও পানি কেনার খরচ জোগাড় করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কালনা গ্রামের মাসুরার ভাষ্য, সাড়ে চার বছরের শিশুকে নিয়ে দুইদিন আগে ভর্তি হয়েছি। শরীরে ১০৫ জ্বর; বাথরুম হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালের ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণের কাজ কয়েক বছর বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ও নারী রোগীদের আলাদা শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। জ্বরের রোগীদের পরীক্ষার জন্য ঘঝ১ টেস্টের কিট রয়েছে এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আইভি স্যালাইনও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।”

তিনি আরো জানান, ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। ১৯ শয্যার ভবনে কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। আর প্যাথলজিস্ট না থাকায় বাইরে থেকে রোগীদের অন্যান্য পরীক্ষা করা লাগছে।

 

 

সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ হলেও কমেনি দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ হলেও কমেনি দাম

এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরা শহর ও শহরতলীর হাট-বাজারগুলো এখন ইলিশে ভরপুর। পর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহের রমরমা খবর ছড়াতে শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদে চালানো হচ্ছে মাইক প্রচার। ইলিশের স্বাদ নিতে প্রচারাভিযানে আকর্ষণ বাড়ানো হচ্ছে ভোক্তাদের। বছরে একবার ইলিশের স্বাদ পেতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভোগতারা ছুটে আসছে শহরের মাছ বাজারে।

 

বিপুল পরিমাণ ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। মাছ কেনার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও অর্থাভাবে কিনতে পারছে না সাধারণ ক্রেতারা। সামর্থবানরা পছন্দের মাছ কিনলেও বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ। ওজন ও আকারভেদে ইলিশের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। দেশে ভরা মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার যোগান দিতে ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে পর্যাপ্ত ইলিশ। গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিকটন ইলিশ আমদানি হয়েছে। আরো ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা এসব ইলিশের বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছ বাজার হয়ে গুজরাটের ভরুচ থেকে দেশে এসেছে। ভারত থেকে আসা এসব ইলিশ দেশীয় বরিশাল ও পদ্মার ইলিশ দেখিয়ে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশি বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাম কম হওয়ার কথা থাকলেও কারসাজি আর অতি মুনাফা লাভের কারণে দামের স্থিতিশীল প্রভাব পড়েনি বাজারে। সুতরাং ইলিশের চড়া দামে নাকাল সাধারণ ক্রেতা। মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের ইলিশ ভারতের বাজারে বিশেষ আকর্ষণের পণ্য ছিল, সেই বাংলাদেশের বাজারে এখন ভারতীয় ইলিশ ডুকছে।

 

বাণিজ্যের এই বিপরীতমুখী প্রবাহ বিস্ময়কর হলেও গত দুই বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র বলছেন, ১৯৮৭ সাল থেকে ২০২২-২৩, অর্থবছর পর্যন্ত দেশে ইলিশ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো উৎপাদন প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যায়। ওই দুই অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে যথাক্রমে ৭ দশামিক ৩৩ শতাংশ এবং ৫ দশামিক ৫১ শতাংশ।

 

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উৎপাদনের তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি মৎস্য অধিদপ্তর। এদিকে ইলিশের উৎপাদন কমার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে জাটকা রক্ষায় দুর্বল আইন প্রয়োগ, নদী দূষণ ও পলি জমার বিষয় রয়েছে। জাটকা আহরণ বন্ধে আইন প্রয়োগ যথাযথ না হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন এর প্রভাব পড়েছে।