শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়লো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়লো

অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরান যুদ্ধ বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এই দুই যুদ্ধের সময় সরকার জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু এবার বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশীয় মূল্যের সমন্বয়হীনতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশে দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি পণ্য পরিবহন, কৃষি এবং শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

বৈশ্বিক বাজার বনাম দেশীয় মূল্য

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারিত হয় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামের ওপর ভিত্তি করে। ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের আন্তর্জাতিক বাজারে কখন কেমন দাম তার ওপর বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর জ্বালানির দাম কত হতে পারে তার একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে কোনও কোনও দেশের নিজস্ব শুল্ক হার, তেল বিক্রির কমিশন এবং তেল পরিবহন ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ জ্বালানির বাজারের দামকে প্রভাবিত করে।

এর আগের দফায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ ডলার। বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের শুরুতেই তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারে দাঁড়ায়। মার্চে দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১৩৯ ডলারে দাঁড়ায়। বছরের মাঝামাঝি সময়ে আবার তেলের দাম কমে ১১০ ডলারে দাঁড়ায় এবং একেবারে বছরের শেষে আবার দাম ৮৫ ডলারে নেমে আসে।

ওই বছর অর্থাৎ আগস্টে তেলের দাম একবারে অনেকটা বৃদ্ধি করা হয়। সরকারের যুক্তি ছিল—বিপিসির লোকসান কমানো এবং প্রতিবেশী দেশে তেল পাচার রোধ করা। ওই সময় ২০২২ সালে ডিজেল এবং কেরোসিনের দাম ৮০ টাকা থেকে ৪২ ভাগ বাড়িয়ে করা হয় ১১৪ টাকা। অকটেনের দাম ৫১ ভাগ বাড়িয়ে ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা একই হারে অর্থাৎ ৫১ ভাগ বাড়িয়ে পেট্রোলের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়।

সে সময়ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে। এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সমালোচনার মধ্যে দাম কমানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে তেলের দাম কমেছে ঠিক ওই হারে কমানো হয়নি। সব ধরনের তেলের লিটারপ্রতি কমানো হয় মাত্র ৫ টাকা।

এরপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর দীর্ঘদিনের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধ্য হয় বাংলাদেশে। ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। এতে দেশের বাজারে তেলের দাম খানিকটা কমে যায়। বিপিসি লোকসানের কবল থেকে বের হয়ে আসে। এমনকি বিপুল পরিমাণ মুনাফাও করে।

দেখা যায়, ২০২৪ সালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। গত বছর ২০২৫ সালেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৫ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যেই ছিল। এই সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। এমনকি বিপিসির তরফ থেকে বলাও হয়নি যে তারা লোকসান করছে বা সরকারকে তেলে কোনও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের পর দেখা যায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলারে উঠে যায়। কিন্তু তা খুব সীমিত সময়ের জন্যে। আজও ব্রেন্ট ক্রুড ৯০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতারা এক হতে শুরু করেছে। ফ্রান্স এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

কিন্তু বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেই দেশে আজ থেকে তেলের নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছে রবিবার থেকে। নতুন দাম অনুযায়ী ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা লিটার করা হয়েছে।

এতে প্রশ্ন উঠছে, এখনও যদি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একই থাকে তাহলে কেন তেলের দাম বাড়ানো হলো। সরকার অবশ্য বলছে লোকসান কমানোর জন্যই এই কাজ করেছে।

তেলের পর এলপিজি, সামনে বিদ্যুৎ

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে রান্নার গ্যাস এলপিজির দাম। নতুন সিদ্ধান্তে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগে ছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা।

একই সময়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও। পিডিবি’র উৎপাদন খরচ ও আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল গঠিত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ দিলেই বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে।

বাজার ও জনজীবনে প্রভাব

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। ইতোমধ্যে বাস ও ট্রাক ভাড়া বাড়তে শুরু করেছে। কৃষি খাতে সেচ এবং শিল্প খাতে কাঁচামাল পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অতিরিক্ত খরচের চূড়ান্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাঁধেই চাপছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, “তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের প্রতি সুবিচার করেনি। একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে তারা জনগণের দিক দেখবে। সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিল কোনও পণ্যের দাম বাড়াবে না, ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম নিম্নমুখী, তখন দেশে দাম বাড়ানো হলো। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রতি জনআস্থার সংকট তৈরি হবে।” তিনি একে ‘লুণ্ঠনমূলক’ প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

অপরদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মনে করেন, সরকার কতদিন ভর্তুকি দিয়ে যাবে সে প্রশ্নও রয়েছে। তিনি বলেন, “দাম কিছুটা বাড়ানো ভালো। অন্যান্য দেশও দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে—সংকট আছে, ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। তবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন একশ্রেণির অসাধু চক্র একে পুঁজি করে পরিবহন ভাড়া বা পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে অতি মুনাফা করতে না পারে। এতে জনগণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে।”

Ads small one

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান-মার্কিন চুক্তির ১ সপ্তাহ: সুফল পাচ্ছে কারাইরান-মার্কিন চুক্তির ১ সপ্তাহ: সুফল পাচ্ছে কারা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইনে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি পুনর্গঠন এবং কুয়েত ও সৌদি আরবে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার কথা ভাবছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দুজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন তাদের কিছু ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে। এতে ঘাঁটিটির কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্তত এক ডজন অন্যান্য ভবনসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পেন্টাগন এখনও এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত মাত্রা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন জনগণের মনোভাবে তীব্র পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের শর্তাবলি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা করার সময়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য সব ধরনের শত্রুতা ও লড়াই বন্ধ থাকবে।

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির একটি জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান ‘যৌক্তিক ছিল না’।

তৃণমূল ছাড়া বিধায়করা বিদ্রোহী নয়, গাদ্দার: মহুয়া মৈত্রতৃণমূল ছাড়া বিধায়করা বিদ্রোহী নয়, গাদ্দার: মহুয়া মৈত্র
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর আসন্ন হুমকি দূর করতে’ ইরানের বিরুদ্ধে এই যৌথ যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল তাদের ঘোষিত প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।

চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেনচিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেন
তবে নতুন জরিপটি দেখাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে হওয়া এই চুক্তিটি প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রতি জনমানুষের ধারণাকে দুর্বল করে দিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেই তেমন কোনও মতভেদ নেই। দুই রাজনৈতিক দলেরই অধিকাংশ সমর্থক বিশ্বাস করেন, ইরানের পক্ষে এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ রয়ে গেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখার রহস্য কী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখার রহস্য কী

বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে লক্ষ্য করলে একটি বিশেষ সংখ্যা চোখে পড়ে ‘১৮৯৩’। ফুটবল বিশ্বকাপের যাত্রা যেখানে শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে, সেখানে বিশ্বকাপ শুরুরও ৩৭ বছর আগের এই সালটি জার্সিতে থাকার কারণ নিয়ে অনেকের মনেই কৌতুহল রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিশ্বকাপেরও বহু বছর আগের এই সালটির গুরুত্ব কী?

আসলে জার্সিতে থাকা ‘১৮৯৩’ কোনো রহস্যময় সংখ্যা নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রতিষ্ঠাবর্ষ। দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শেকড় এবং দীর্ঘ ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই জার্সিতে এই সালটি ব্যবহার করা হয়।

উনিশ শতকের শেষভাগে আর্জেন্টিনায় ফুটবল ছিল একেবারেই নতুন একটি খেলা। ব্রিটিশ অভিবাসী, ব্যবসায়ী ও রেলওয়ে কর্মীদের হাত ধরে দেশটিতে ফুটবলের প্রচলন শুরু হয়।

সেই সময় স্কটল্যান্ডের শিক্ষক আলেকজান্ডার ওয়াটসন হাটন আর্জেন্টিনায় এসে খেলাটির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া এই শিক্ষক স্কুলপর্যায়ে ফুটবল চালু করেন এবং তরুণদের মধ্যে খেলাটির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন।

তারই উদ্যোগে ১৮৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় আর্জেন্টাইন অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল লীগ। পরবর্তীতে এই সংস্থাই রূপ নেয় বর্তমানের আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এ। দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম জাতীয় ফুটবল সংস্থা।

আজকের দিনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দেশ হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার সংগঠিত ফুটবল যাত্রার আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছিল সেই বছরেই। এই কারণেই ‘১৮৯৩’ সালটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পায়।

দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শিকড় ও দীর্ঘ পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় দলের জার্সিতে এই সংখ্যাটি ব্যবহার করা হয়। জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসও বিভিন্ন সংস্করণের জার্সিতে ‘১৮৯৩’ যুক্ত করে সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে তুলে ধরেছে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন হিসেবেও এএফএর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের ফুটবল ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা সংগঠিত ফুটবল কাঠামো গড়ে তুলেছিল। ফলে ‘১৮৯৩’ শুধু একটি সাল নয়, এটি দেশটির দীর্ঘ ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক।

মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা। কীভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লায়ন্স ক্লাব।
তিনি আজ (শুক্রবার) খুলনা লায়ন্স আই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কাজ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে হলে দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতার কখনো অভাব হবে না। তিনি চক্ষু সেবার পাশাপাশি লায়ন্স ক্লাবের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং অটিজম বিষয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। মানবতার সেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, লায়ন্স এ কে এম গোলাম ফারুক, সাবিনা সিদ্দিকা ও ডা. মো: বোরহান উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র লায়ন্স ড. রনঞ্জিত কুমার নাথ। স্বাগত বক্তৃতা করেন লায়ন্স ডা. মনোজ কুমার দাস। তথ্যবিবরণী