শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

৩৫ হাজার মুক্তায় সেজেছে দুর্গাপ্রতিমা, দেখতে ভিড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
৩৫ হাজার মুক্তায় সেজেছে দুর্গাপ্রতিমা, দেখতে ভিড়

মিলন বিশ্বাস: প্রতিমার শরীরে মাটির প্রলেপ ও রঙের নিখুঁত ছোঁয়ার ওপর বসানো হচ্ছে হাজার হাজার মুক্তা। আলো পড়তেই প্রতিমা জুড়ে ফুটে উঠছে নান্দনিক আভা। দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আগেই ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম দেখতে ম-পে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে চলছে এই আয়োজন।
বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত মন্দিরটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমাশিল্পী ও কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ১৩টি প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা। পুরো প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা।

দক্ষিণ বড়দল গ্রামের প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ ম-ল জানান, গত ৫ জুলাই চারজন কারিগরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন। দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্য ও প্রতিমার নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এটি তৈরি করছেন। মুক্তার নিখুঁত কাজের জন্য সময় বেশি লেগেছে। দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রয়াস।

বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু ম-ল জানান, প্রতিবারই ম-পে নতুনত্ব আনার চেষ্টা থাকে। দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে সিসি ক্যামেরা ও নিজস্ব সেচ্ছাসেবক দল দিয়ে নিরাপত্তার জোরদার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ম-ল বলেন, পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই দর্শনার্থীদের আগ্রহ সবাইকে নতুন উদ্দীপনা দিচ্ছে।
আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীবোধনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। বিজয়া দশমীতে বুড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী আড়ং মেলার আয়োজন থাকবে, যেখানে আশপাশের অন্তত ১০টি মন্দিরের প্রতিমা একত্র করে বিসর্জন দেওয়া হবে।

আশাশুনি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৌদ্দ জানান, চলতি বছর উপজেলায় ১০৬টি ম-পে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বুড়িয়ায় মুক্তাখচিত প্রতিমা, ঘুঘুমারীতে ঝরনার আদলে ম-প সাজানো ও বুধহাটায় ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির মতো নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।