বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে এবার স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে ১৯০ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত সভায় নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কত হলো স্বর্ণের দাম

বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৮ হাজার ৮৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১৬ হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৩ হাজার ২৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৮১ টাকা। এর সঙ্গে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যোগ হবে।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা। সে হিসাবে এক ভরিতে দাম বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ২১৪ টাকা।

তবে এর আগের কয়েক দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। ২৮ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারও আগে ২৬ সেপ্টেম্বর একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৯৭০ টাকা।

ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে স্বর্ণের বাজারে একাধিকবার দাম পরিবর্তন করেছে বাজুস।

রুপার দামও বাড়লো

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার অলংকারের দামও বাড়িয়েছে বাজুস।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার অলংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ছিল ৩৫৫ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে ১৫ টাকা।

আলাদা করে ভ্যাট নেওয়া যাবে না

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে বিক্রয়মূল্যের বাইরে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে অলংকার তৈরির মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে।

পুরোনো স্বর্ণের অলংকার বদলের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত এ দাম কার্যকর থাকবে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বর্ণের দাম কয়েক দফা পরিবর্তন করেছে বাজুস। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

Ads small one

বাজারের চাপে জনজীবন, জ্বালানি সংকটে অর্থনীতি, নিরাপত্তাহীন জনগণ: সমাধান কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
বাজারের চাপে জনজীবন, জ্বালানি সংকটে অর্থনীতি, নিরাপত্তাহীন জনগণ: সমাধান কোথায়?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত আগস্টের হিসাবে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

 

খাদ্য মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে। তবে একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে। এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পূর্বাভাসে বাংলাদেশের ২০২৭ সালের মূল্যস্ফীতি নিয়ে আগের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী চাপের কথা বলা হয়েছে। এডিবি বলছে, বাংলাদেশে খাদ্যদামের চাপ কিছুটা কমলেও অ-খাদ্য ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ মূল্যস্ফীতিকে ঝুঁকির মধ্যে রাখছে। তাই মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় শুধু পরিসংখ্যানের হার কমানোর দিকে তাকালে হবে না, মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা, বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

জনজীবনের ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আরেকটি বড় বিষয় হলো জ্বালানি তেলের দাম। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সরকার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা লিটার দরে রেখেছিল। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দরে ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, অকটেন ১৬৫ এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু গাড়ির মালিকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন, কৃষি, পণ্য পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে এর একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে।

 

একই সাথে ‎২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর সমস্যার পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। আগস্টে কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের খবর প্রকাশিত হয়, ১২ আগস্ট জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী কোনো কোনো সময়ে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেয়।

‎পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গ্যাস সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও সংকট পুরোপুরি দূর হয়নি। ১৫ সেপ্টেম্বর দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হয়ে মোট সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছিল। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর মহেশখালী এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হলে সরবরাহ আবার প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যায় এবং মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সুশাসন ও জননিরাপত্তার বিষয়টিও জনজীবনের স্বস্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

 

সেপ্টেম্বর মাসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ চাঁদাবাজি, দখল ও সহিংসতার কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে।
‎অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সন্ত্রাসী, সশস্ত্র অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।

‎‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, গবেষক ও উদ্যোক্তা

 

কয়রায় ঐতিহ্যবাহী ঘুগরাকাটী লঞ্চঘাটের জেটি নির্মাণ কাজ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
কয়রায় ঐতিহ্যবাহী ঘুগরাকাটী লঞ্চঘাটের জেটি নির্মাণ কাজ উদ্বোধন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঘুগরাকাঠি লঞ্চঘাটে বিআইডব্লিউটিএ পল্টনের জেটি নির্মাণ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে জেটিটির উদ্বোধন করেন সুইমিং একাডেমির পরিচালক ও বাগালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব জি এম আজগর আলীর বড় ছেলে জি এম রেজাউল ইসলাম।

এ সময় ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান, সমাজ সেবক এস এম সুমন রহমান, মো. ওয়াহিদুজ্জামান, মো. জাহিদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, জেটিট নির্মাণের ফলে এখন আর লঞ্চে যাত্রীদের উঠানামায় আর কোন অসুবিধা হবে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সুধীমহল।

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে পাইকগাছার জেলে পল্লীতে ব্যাপক প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে পাইকগাছার জেলে পল্লীতে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য পাইকগাছার জেলে পল্লীগুলোতে এখন ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। দিন রাত কাজ আর ব্যস্ততায় মালোপাড়ায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নতুন ট্রলার তৈরি এবং পুরাতন ট্রলার মেরামত, জাল বুনা ও জাল শুকানোর কাজের ধুম পড়ে গেছে। জেলে পল্লীর নারী-পুরুষ ও শ্রমিকরা সুন্দরবনের দুবলার চরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গোছাতে কর্মব্যস্ত দিন কাঁটাচ্ছে।

মহাজনের চড়াসুদে ও দাদনে টাকা নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিতে আশা-হতাশায় সাগর যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলেরা।

মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে তারা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সাগরে ধরা মাছ বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে জেলেরা জানায়।
পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া, হিতামপুর, মাহমুদকাটী, নোয়াকাটি, কপিলমুনি, কাটিপাড়া, রাড়লী, শাহাপাড়া, বাঁকাসহ বিভিন্ন গ্রামের জেলে পল্লী থেকে প্রায় ২৫০টি ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সব কাজে বাড়ীর ছোট বড় সবাই সহযোগীতা করছে। নতুন ট্রালার তৈরি, পুরাতন ট্রলারগুলো সংস্কার, জালবুনা, লোহার নোঙ্গর/গ্রাফি, ট্রলারের রং করা, জালে গাবকুটে তার রস লাগানো সহ সমুদ্রে যাওয়ার বিভিন্ন কাজ কর্ম নিয়ে জেলে পল্লীর নারী-পুরুষরা ব্যস্ত দিন কাঁটাচ্ছে।

উপজেলার বোয়ালিয়া মালোপাড়া সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলাপাড়ার নারী-পুরুষ সকলেই সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। মালোপাড়ার দিপঙ্কর, অশোক বিশ্বাস নতুন ট্রলার তৈরী করছে। তাছাড়া সিতেরাম বিশ্বাস, তাপস বিশ্বাস,শংকর বিশ্বাস, বিশ্ব বিশ্বাস, দয়াল মন্ডল তাদের পুরাতন ট্রলারগুলি মেরামত করছে। কপোতাক্ষ নদের তীরে বোয়ালিয়া ব্রীজের দুই পাশে ট্রলার তৈরী ও মেরামতের কাজ চলছে। বোয়ালিয়া মালোপাড়ার বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানায়, সমুদ্রে মাছ ধরতে য়েতে নতুন ট্রলার তৈরী করতে সর্বমোট খরচ পড়ছে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। পুরাতন ট্রলার মেরামত করতে ২০-৭০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একটি নতুন ট্রলারে প্রায় ৩ মন পেরেক, এক শত কেজি জলই/পাতাম প্রয়োজন হয়।

 

ট্রালার তৈরি পর ইঞ্জিন বসাতে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিটি ট্রলারে জাল ধরার জন্য ২টি করে নোঙ্গর প্রয়োজন হয়। লোহার তৈরী নোঙ্গর তৈরী করতে খরচ পড়ছে ২৮ হাজার টাকা। প্রতিটি মাছ ধরার জাল তৈরি করতে তাদের খরচ হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে ১লাখ টাকা। সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য প্রতি ট্রলারে ২টি জাল প্রয়োজন হয়। প্রতি ট্রলারে জাল ধরার জন্য ৮/১০ জন কর্মচারীর প্রয়োজন হয়। তাদের থাকা-খাওয়া বাদে প্রতি মাসে ১৫/২০ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য ট্রলার প্রতি ৫/৬ মাসে সব কিছু মিলে খরচ পড়ে প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা।

মালোপাড়ার সিতেনাথ বিশ্বাস জানান, শীত মৈসুমে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়। ৫ থেকে ৬ মাসের জন্য দুবলার চরে অস্থায়ী জেলে পল্লীতে বাসা বেধে থাকা ও মাছ শুকানোর আড়ত তৈরী করতে হয়। এর জন্য অনেক টাকার দরকার পড়ে। সব টাকা নিজের না থাকায় এলাকার বিভিন্ন মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা দাদন নিতে হয়। ৫ থেকে ৬ মাসের জন্য তারা দাদন নিলেও ১ বছরের হিসাবে টাকা দিতে হয়। প্রতি ১ লাখ টাকায় মহাজনদের প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা সুদ দিতে হয়।

 

জেলেপাড়ার অজয় বিশ্বাস জানান, সরকার আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে লোনের ব্যবস্থা করত তাহলে মাছ ধরে উপার্জিত টাকা ঘরে ফিরে আনতে পারতাম।তা না হলে মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া চড়া সুদের টাকা শোধ করার পর উপার্জিত টাকা ঘরে ফিরে আসে না। তাই জেলে পরিবাররা সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে, শীত মৌসুমে মাছ ধরতে যাওয়া সময় জেলেদেরকে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করলে তারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে।

জেলেরা বিভিন্ন মহাজনের অধীনে থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। মহাজনরা জেলেদের পাস পারমিট করে রাখে। মংলা থেকে পাস নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য দুবলার চরে রওনা দেয়। মংলা হয়ে বলেশ্বর নদী দিয়ে দুবলার চরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মোংলা ঘুরে দুবলার চরে যেতে পাইকগাছার জেলেদের প্রায় ৩ দিন বাড়তি সময় লাগে এবং খরচ অনেক বেড়ে যায় বলে জেলেরা জানায়।

দূর্গা পূজার পরে জেলেরা মাছ ধরার জন্য সুন্দরবনের দুবলার চরের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। সূত্রে জানাগেছে, বন সুরক্ষার জন্য বনের ১৩টি চর নিয়ে জেলেরা যে মৎস্য পল্লী তৈরি করে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর উপকূলে মাছ ধরার মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। পূর্ব বন বিভাগের অধিনে দুবলা তাই জেলেদের পূর্ব বন বিভাগ থেকে পাশ পারমিট নিতে হবে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে বন বিভাগ সে মত সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ।

দূর্গাপূজার পর উপজেলার বোয়ালিয়া জেলে পল্লীর জেলেরা সকল ট্রলার এক সঙ্গে রওনা দিবে। মংলা হয়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে গিয়ে বাসা বেঁধে অবস্থান নিবে। জীবিকার জন্য প্রতি বছর সুমুদ্রে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বনদস্যু ও জলদস্যুদের সাথে জেলেদের জীবন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে ভয়ংকর,বিক্ষুদ্ধ উত্তাল ঢেউয়ের সংগে যুদ্ধ করে জেলেদের জাল ফেলে মাছ ধরতে হয়।

এতো বিপদের সংগে লড়াই করে তাদের জীবিকা অর্জন করতে হয়। জেলে পল্লী মানুষের আয়ের প্রধান উৎস্য সমুদ্রে মাছ ধরা। তবে এটা যেন তাদের নেশা ও পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জেলে পল্লীর নারী-পুরুষ সবাই মিলে প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র তৈরী ও গোছাতে দিন রাত কাজ করছে। এই নিয়ে জেলে পল্লীগুলোতে সাগর যাত্রার মহাকর্মযজ্ঞর প্রস্তুতি চলছে।