ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি
বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে প্রথমবারের মতো ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ফ্রান্স সরকার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৩ হাজার বাড়তি বদলি শিক্ষক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ প্রস্তাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের আরও একদিনের সহিংস বিক্ষোভ শেষে এ ঘোষণা এল। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে আরও বেশি বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ৮৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের ৮৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম।
ছাত্র ইউনিয়নগুলো তিন সপ্তাহের এই আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব বলে অভিহিত করা বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে সারা দেশে প্রায় ৭১ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। প্যারিসের বাস্তিলে জড়ো হন ২৪ হাজার মানুষ। পুলিশের ওপর পাথর ও হাতে তৈরি আতশবাজি নিয়ে হামলা চালানো দলগুলোকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। বোর্দোতে বিক্ষোভকারীরা একটি হাইস্কুলে ভাঙচুর চালায়। মার্সেইয়ে একজন উপপ্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়।
শুক্রবার ৩ হাজার ৫০০ হাইস্কুলের মধ্যে প্রায় ১৪০টি পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিলো, যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেক কম। তবে আগামী মঙ্গলবার আবার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের বিষয়ে জেফ্রের ঘোষণাই প্রথম বাস্তব ছাড়। শিক্ষকের অনুপস্থিতি এবং বদলি কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাদের জায়গায় কাউকে না দেওয়ায় অনেক ক্লাসের সময় নষ্ট হচ্ছে। ফরাসি শিক্ষাঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবাই দীর্ঘদিন ধরেই এটি স্বীকার করে আসছেন।
মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে নতুন সফটওয়্যার চালু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের তালিকায় থাকা প্রায় ৫০০ হাইস্কুলে ৩ হাজার বদলি শিক্ষক পাঠানো সম্ভব হবে। এর অনেকগুলোই অভিবাসী-অধ্যুষিত শহরতলিতে, যেখানে শিক্ষকের সংকট সবচেয়ে তীব্র।
জেফ্রে আরও জানান, ঘাটতি পূরণে যেসব শিক্ষক বাড়তি সময় কাজ করতে চান, তাদের জন্য বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় আরও অর্থ বরাদ্দ করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ২০২৭ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটে শিক্ষাখাত নিয়ে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থী নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অন্তত সতর্ক। তিনটি প্রধান হাইস্কুল ইউনিয়নের সবচেয়ে মধ্যপন্থী রনুভো স্কুলের প্রতিনিধি নাথানায়েল কমবারি বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কীভাবে পালিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন শিক্ষার্থীরা। তার ভাষ্য, আমাদের দাবির একটি অংশের সঙ্গে মেলে, এমন কিছু ঘোষণা এসেছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ অর্থ ও আরও সুনির্দিষ্ট ফল দেখতে চায়।
কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সে এটিই সবচেয়ে গুরুতর শিক্ষার্থী অন্দোলন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ ও কৃষি খাতের দুর্দশাও বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, এমন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন চলছে। আগামী শনিবার ১৭ অক্টোবর পুনরুজ্জীবিত ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন বিক্ষোভের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।






