শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

ডিসির নির্দেশে রাতারাতি বদলে গেল সাতক্ষীরার আলোচিত দেশলাই কাঠির প্রতিমা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
ডিসির নির্দেশে রাতারাতি বদলে গেল সাতক্ষীরার আলোচিত দেশলাই কাঠির প্রতিমা
মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি দিয়ে তৈরি আলোচিত দুর্গাপ্রতিমার সাজসজ্জা রাতারাতি বদলে গেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রতিমা থেকে দেশলাই কাঠি অপসারণ করে নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু করেছেন আয়োজকেরা। পূজার ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিবর্তনে হতাশ হয়ে পড়েন মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ। অন্যদিকে, রাতভর পরিশ্রম করে দেশলাই কাঠির পরিবর্তে কিসমিস ও তিল দিয়ে প্রতিমার সাজসজ্জা করছেন শিল্পীরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে দেশলাই কাঠি অপসারণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার মধ্যে কাঠিগুলো সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।
প্রশাসনের নির্দেশনার পর বুধবার রাতেই প্রতিমা থেকে দেশলাই কাঠি অপসারণের কাজ শুরু করেন আয়োজকেরা। রাতভর প্রতিমাশিল্পীরা সাজসজ্জা পরিবর্তনের কাজ করেন। দেশলাই কাঠি সরিয়ে কিসমিস ও তিল দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকার নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা চলছে। পূজার প্রস্তুতির শেষ সময়ে এমন পরিবর্তন সামাল দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কমিটির সদস্যরা।
আয়োজক কমিটির সদস্যদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও অর্থ ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা। দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি প্রতিমাটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের মধ্যেও এটি দেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পূজার একেবারে শেষ সময়ে সাজসজ্জা পরিবর্তনের নির্দেশ আসায় তাঁদের সেই আয়োজন ও প্রত্যাশায় ধাক্কা লেগেছে।
আয়োজকদের দাবি, সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশলাই কাঠির বারুদ অপসারণের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রতিমাটি পরিদর্শন করেছিলেন। মণ্ডপে বালু ও পানি রাখা হয়েছিল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দায়দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারও দেওয়া হয়েছিল। এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দেশলাই কাঠি অপসারণের নির্দেশ আসায় হতাশ হয়েছেন তাঁরা।
জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। সরকারি নির্দেশনা নাগরিক হিসেবে সবার পালন করা দায়িত্ব। দেশলাই কাঠি অপসারণ করে প্রতিমাটি নতুনভাবে সাজানোর জন্য শিল্পীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ‘সাতক্ষীরায় দেড় লাখ দেশলাই কাঠিতে দুর্গাপ্রতিমা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রহ্মরাজপুরের এই প্রতিমাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। প্রতিমার পোশাক ও অলংকার তৈরিতে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার ভারতের একটি মন্দিরে এ ধরনের শিল্পকর্ম দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেন বলে আগে জানিয়েছিলেন।
পূজার আর মাত্র এক দিন বাকি থাকতে প্রতিমার সাজসজ্জা বদলে যাওয়ায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশের মধ্যেও মন খারাপের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের কাছে প্রতিমাটি ছিল এবারের দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশলাই কাঠি সরিয়ে নতুনভাবে প্রতিমা সাজিয়ে পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কাজ করছেন আয়োজকেরা।
সব মিলিয়ে ব্রহ্মরাজপুরের আলোচিত প্রতিমাকে ঘিরে উৎসবের আমেজের মধ্যেই যুক্ত হয়েছে হতাশা ও ব্যস্ততা। রাতভর শিল্পীদের পরিশ্রমে প্রতিমা নতুন রূপ পেলেও দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় তৈরি আগের সাজসজ্জা হারিয়ে যাওয়ায় আক্ষেপ রয়ে গেছে আয়োজক ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশের মধ্যে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, ১০ জনের নামে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, ১০ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জিয়ালা এলাকায় ঘেরে মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডল (৫৩) নামের এক মাছ চাষীকে গাছে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সুলেখা মন্ডল বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামী করে তালা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। এদিন ভোর রাতে জিয়ালা গ্রামের উত্তর খোলা বিলে ক্ষিতিশ মন্ডলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত হয়। বেলা ১২ টার দিকে তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার ।

নিহত ক্ষিতিশ মন্ডল তালা সদরের জেয়ালা গ্রামের মৃত মনিন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে। তিনি নিজেও একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জেয়ালা উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরি সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডলকে আটক করা হয়। আটকের পর স্থানীয় বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষ, ইব্রাহিম খাঁ, হাবিবুর গাজী, গফফার শেখসহ ১০-১৫ জন তাকে জেয়ালা শ্মশান ঘাট এলাকায় নিয়ে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়। নির্যাতনকারীরা তার হাত-পা ভেঙে দেয়, মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। ভোর পর্যন্ত তার ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালানো হয়।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মন্ডল বলেন, আমার চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মন্ডলের নিজেরই চার বিঘা জমির মাছের ঘের রয়েছে। চুরি সন্দেহে একটা মানুষকে রাতভর এভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলবে? আমরা এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার চাই।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ চুরির অপবাদে পিটিয়ে ক্ষিতিশ মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা পৃথক অভিযানে দুই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা পৃথক অভিযানে দুই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদর ও তালায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুটি বাল্যবিবাহ সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটি ঘটনায় বরের পিতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদরের বাঁকাল এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে তৎপর হয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহারের নির্দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার আজিবর রহমান, করবী সুলতানা এবং প্রশিক্ষক তাসরিনা খাতুন ঘটনাস্থলে যান। তাদের সঙ্গে সদর থানা পুলিশের একটি দলও উপস্থিত হয়।

পুলিশ ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বর পালিয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপপরিচালক নাজমুন নাহার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় মেয়ের চাচার বাড়িতে বরের পিতা ও উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজনকে পাওয়া যায়।

বাল্যবিবাহের আয়োজন করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের বরের পিতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে মুচলেকা দিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ছাড়া মেয়ের পিতা ও চাচার কাছ থেকেও মুচলেকা নেওয়া হয় এবং মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

অপরদিকে, একই দিনে তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নে আরেকটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তালার কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার প্রসেনজিৎ ঘোষ ও প্রশিক্ষক রাজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের খবর পেয়ে বরের গাড়ি মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। পরে মেয়ের পিতার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

 

কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও পছন্দের পণ্য গুড়পুকুর মেলায় নারীদের অভিজ্ঞতা 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও পছন্দের পণ্য গুড়পুকুর মেলায় নারীদের অভিজ্ঞতা 

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস : শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবমুখর পরিবেশে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায় বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিমা দর্শনে আসা মানুষও ঘুরে দেখছেন গুড়পুকুর মেলা। এতে মেলার প্রাণচাঞ্চল্য বাড়ার পাশাপাশি বেচাকেনায় গতি ফিরছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মেলার মাঠজুড়ে সাজানো হয়েছে নানা ধরনের পণ্যের পসরা। পোশাক, প্রসাধনী, গৃহস্থালির সামগ্রী, শিশুদের খেলনা ও বাহারি সাজসজ্জার পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গেছে। বিশেষ করে নারীরা পছন্দের পণ্য বেছে নিতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন। কেউ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলা ঘুরে উপভোগ করছেন উৎসবের আনন্দ।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি মেলায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে গুড়পুকুর মেলায় আসছেন। কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও পছন্দের খাবার উপভোগের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা। এতে মেলায় দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে বিক্রিও বাড়ছে।

মেলায় কেনাকাটা করতে আসা তালা উপজেলার জেয়ালা এলাকার কাকুলী ঘোষ বলেন, “গুড়পুকুর মেলায় এসে বেশ ভালো লাগছে। বিভিন্ন দোকানে ঘুরে পছন্দের জিনিস দেখেছি এবং কিছু প্রসাধনী কিনেছি। দামও সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। সব মিলিয়ে কেনাকাটা করে আমি খুশি।”
খুলনার ডুমুরিয়া এলাকা থেকে আসা অরণ্য সাবিহা বলেন, “মেলায় অনেক ধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘুরে ঘুরে পছন্দের কিছু পোশাক ও সাজসজ্জার সামগ্রী কিনেছি। দাম মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে মেলায় ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটা দুটিই উপভোগ করছি।”

আশাশুনির মানিকখালি এলাকা থেকে আসা বীথি রানী বলেন, “মেলায় এসে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালির সামগ্রী দেখেছি। প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের কিছু জিনিস কিনেছি। দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় কেনাকাটা করতে সুবিধা হয়েছে। সব মিলিয়ে মেলায় এসে ভালো সময় কাটিয়েছি।”
এদিকে মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। ভিড়ের মধ্যে যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো। দুর্গাপূজার আনন্দ, পরিবারের সঙ্গে ঘোরাঘুরি এবং পছন্দের পণ্য কেনার সুযোগ সব মিলিয়ে মেলাটি হয়ে উঠেছে মানুষের মিলনমেলা। দর্শনার্থীদের বাড়তি উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।