শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

তালায় ২০০ মন্ডপে সাজ সাজ রবে দুর্গোৎসবের রং তুলিতে আঁকা শেষ প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
তালায় ২০০ মন্ডপে সাজ সাজ রবে দুর্গোৎসবের রং তুলিতে আঁকা শেষ প্রস্তুতি

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে পাটকেলঘাটা ও তালায় শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ১২ ইউনিয়নে এবার ২০০ মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। প্রতিমা নির্মাণ শেষ। এখন চলছে রঙের কাজ, মন্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি উৎসব নির্বিঘ্নে করতে নেয়া হচ্ছে নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকের বাদ্য আর দেবীর আগমনের অপেক্ষায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও কারিগররা।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, ধানদিয়া ইউনিয়নে ২০, নগরঘাটা ইউনিয়ন ১০, সরুলিয়া ইউনিয়ন ২১, কুমিরা ইউনিয়ন ১৪, তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ১০, তালা সদর ইউনিয়ন ২০, ইসলামকাটি ইউনিয়ন ২১, মাগুরা ইউনিয়ন ১১, খলিষখালী ইউনিয়ন ২০, খেশরা ইউনিয়ন ১৩, জালালপুর ইউনিয়ন ১৪ ও খলিলনগর ইউনিয়নে ২৬টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকরা। কোথাও প্রতিমায় চলছে রঙের শেষ আঁচড়, আবার কোথাও চলছে মন্ডপ সাজানোর কাজ। কারিগরদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করছেন তারা। পাশাপাশি মন্ডপে চলছে আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণের কাজ। কুমিরা ও পাটকেলঘাটা হরিসভা মন্ডপের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার মন্ডপগুলোতেও চলছে সাজসজ্জার শেষ প্রস্তুতি।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কেনাকাটায় ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে শহরের বিপণি বিতান ও মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। বিক্রেতারাও বলছেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে শেষ সময়ে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার বললেন- এ বছর সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে সামনে রেখে প্রতিটি মন্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এজন্য এবার সন্ধা ৭ টার মধ্যে সব প্রতিমা দেওয়া হবে বিসর্জ্জন।

থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেনের ভাষ্য, দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিটি পূজামন্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পূজামন্ডপ, মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। পুলিশ, আনসার মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন কৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম সোমবার উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানালেন, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোরদের বেপরোয়া চলাচল ঠেকাতে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

Ads small one

সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলীর আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলীর আহ্বান

সাতক্ষীরার মায়ের বাড়ি মন্দিরে আলোচনা সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার মায়ের বাড়ি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের ধারা বজায় রাখতে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শের আলী, সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ, জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা, সাতক্ষীরার জিপি অসীম কুমার ম-ল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল মামুন রাজু, জেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক আহসানুল কাদির স্বপন, জেলা বিএনপির সদস্য প্রভাষক আতাউর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সিকদার, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক দুদায়াভ মাসুদ অর্ঘ্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি সোমনাথ ব্যানার্জি।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনবসতি ও পৌরসভার অভ্যন্তরে বেআইনি ইটভাটা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনবসতি ও পৌরসভার অভ্যন্তরে বেআইনি ইটভাটা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার সোনারমোড় এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি ব্যতিরেকেই বহাল তবিয়তে দুটি বৃহৎ ইটভাটা গড়ে তোলার খবর উদ্বেগজনক। ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী, পৌরসভা এলাকা, জনবসতি, কৃষিজমি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি স্থানে ইটভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ সব আইনি বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনবসতি, বাজার, মাদ্রাসা ও কলেজের অতি সন্নিকটে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট যে, স্থানীয় অধিবাসীরা অতীতেও এই ইটভাটাগুলোর কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি, কৃষিজমির ক্ষতি এবং পরিবেশদূষণের নির্মম শিকার হয়েছেন। নতুন করে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই জিগজ্যাগ ইটভাটা দুটি নির্মাণের প্রক্রিয়া স্থানীয় জনজীবন, কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং আশপাশের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল পৌরসভার একটি ট্রেড লাইসেন্সকে পুঁজি করে কীভাবে ছাড়পত্র ছাড়া এমন পরিবেশবিনাশী কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের অজ্ঞাতে পৌরসভার অভ্যন্তরে এ ধরনের মেগা স্থাপনা তৈরি হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইটভাটা দুটিকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ বা ‘অবৈধ’ আখ্যা দিলেও সেগুলোর নির্মাণকাজ সচল থাকা প্রমাণ করে যে তদারকির ক্ষেত্রে বড় ধরনের শৈথিল্য রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শুধু আইনি পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া যথেষ্ট নয়, বরং দৃশ্যমান ও কঠোর উচ্ছেদ অভিযান এখন সময়ের দাবি।

পৌরসভা এলাকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেকোনো মূল্যে এই অবৈধ নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেÑএমনটাই প্রত্যাশা।

কলারোয়ায় পূজাম-পে শাড়ি বিতরণ করলেন জেলা যুবদল নেতা চন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় পূজাম-পে শাড়ি বিতরণ করলেন জেলা যুবদল নেতা চন্দন

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজাম-পে নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন।
দুর্গাপূজার সপ্তমীতে উপজেলার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃ পূজা মন্দিরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহযোগিতায় নারীদের হাতে শাড়ি তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া উপজেলার গোপীনাথপুর দক্ষিণ ও মুরারিকাটি দক্ষিণ পূজাম-পেও অনুরূপভাবে শাড়ি বিতরণ করেন মমতাজুল ইসলাম চন্দন। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত এ শাড়ি বিতরণকালে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মমতাজুল ইসলাম চন্দন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ নয়, এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তাও বহন করে। তিনি সবাইকে আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।
শাড়ি বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস (দেবু), স্বপন কুমার পাল, নিশীত রায় চৌধুরী, প্রদীপ পাল (ঝুনি), চয়ন কুমার কু-ু, সরজিত, জয়ন্ত, শম্ভু, রঞ্জিত, দীপক ঘোষ, অমিত চৌধুরী ও অসিত ঘোষসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।