সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি, আবারও ‘দাম বাড়াতে’ শুনানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি, আবারও ‘দাম বাড়াতে’ শুনানি

বাজারে নির্ধারিত দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই আবারও দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর এলপিজির দাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে এলপিজির বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউশন ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে চার্জ বা মুনাফা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে এতেও সন্তুষ্ট নন আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতারা। সম্প্রতি ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতারা দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক দিলে সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। ওই বৈঠকে তাদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।

গণশুনানি ছাড়া এলপিজির বোতলজাতকরণ চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মার্জিন বাড়ানোর সুযোগ নেই বিইআরসির। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব দিতে বলা হয়।

প্রস্তাবে এলপিজি কোম্পানিগুলো বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করার কথা বলেছে। একই সঙ্গে ডিস্ট্রিবিউটরদের চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ডিস্ট্রিবিউটররা প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে তাদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন।

বিইআরসির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের মূল্য পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে বেসরকারি এলপিজির মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের বর্তমান দাম পরিবর্তনের জন্য এলপি গ্যাস লিমিটেড এবং বেসরকারি এলপিজির মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, বিতরণ চার্জ ও খুচরা বিক্রয় চার্জসহ ভোক্তাপর্যায়ের দাম পরিবর্তনের জন্য কয়েকটি বেসরকারি এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ লাইসেন্সি বিইআরসিতে প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এ ছাড়া বিতরণ চার্জ পরিবর্তনের জন্য কয়েকটি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর লাইসেন্সিও প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির আয়োজন করা হচ্ছে।

কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম সমন্বয়ের আবেদন

গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। এর আগে সেপ্টেম্বরে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়। লিটারপ্রতি অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯১৩ টাকা, ১৫ কেজির ২ হাজার ২৯৬ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৭৫৫ টাকা, ২০ কেজির ৩ হাজার ৬১ টাকা, ২২ কেজির ৩ হাজার ৩৬৭ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৮২৭ টাকা, ৩০ কেজির ৪ হাজার ৫৯২ টাকা, ৩৩ কেজির ৫ হাজার ৫১ টাকা, ৩৫ কেজির ৫ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং ৪৫ কেজির ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বিইআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের লাইসেন্সিরা আবেদন করেছে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা শুনানি করতে যাচ্ছি। শুনানি হলেই যে দাম বাড়বে, বিষয়টা এমন নয়। তাদের দাবিগুলো, যুক্তিগুলো আমরা শুনবো। সবাই মতামত দেওয়ার জন্যই শুনানি করা হচ্ছে।’

ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর আবারও শুনানি

গত ১২ অক্টোবর এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে দুই দিন সারা দেশে গ্যাসের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সমিতির সভাপতি সেলিম খান সে সময় বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও সরবরাহ নিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিম অভিযোগ করেন, মাত্র পাঁচটি কোম্পানির হাতে এলপি সিলিন্ডার গ্যাসের বিপণন জিম্মি। তাদের মাধ্যমে স্বৈরাচারী কায়দায় এলপিজির দাম বাড়ানো হচ্ছে বলেও ক্ষোভ জানান তিনি।

এরপর ১৪ অক্টোবর বিইআরসি তাদের দাবির বিষয়ে শুনানি করার ঘোষণা দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সেলিম খান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা জানি, দেশের বড় পাঁচটি কোম্পানির হাতে এলপিজি জিম্মি। এই মুহূর্তে প্রায় তিন কোটি সিলিন্ডার এমনিতেই পড়ে আছে। এর মধ্যে ১ কোটি বসুন্ধরার। প্রায় ১৫টির মতো কোম্পানি নানা জটিলতায় এলসি করতে পারছে না, এলপিজি আনতে পারছে না। এই ৩ কোটি সিলিন্ডার যদি এলপিজি পেতো, তাহলে সংকট অনেকটা কেটে যেতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাসের শুরুতে বিইআরসি একটা দাম নির্ধারণ করে। এরপর কোম্পানিগুলো একবারের জায়গায় অনেক সময় মাসের মধ্যে দুইবারও দাম নির্ধারণ করে। এতে করে আমরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করি। আমাদের দাবি, কোম্পানিগুলো যেন বিইআরসির অনুমতি ছাড়া দাম নির্ধারণ করতে না পারে।’

Ads small one

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা: উপকূলীয় জনপদে নিঃসঙ্গ দিন কাটছে প্রবীণদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা: উপকূলীয় জনপদে নিঃসঙ্গ দিন কাটছে প্রবীণদের

আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ির জলোচ্ছ্বাসের ফলে সৃষ্ট খালপাড়ের ছোট এক খুপরি ঘরের সামনে চুপচাপ বসে থাকেন সত্তরোর্ধ্ব শাহজাহান ও তাঁর ষাটোর্ধ্ব স্ত্রী রাবেয়া বেগম। চারিদিকে শুধু বিশাল জলরাশি কিন্তু লবণাক্ততা কারণে সে কোন কাজেই লাগে না। জীর্ণ আশ্রয়ে বসে এই জলরাশির পানে চেয়ে থাকেন রাবেয়া বেগম, পাশে বার্ধক্যে নুয়ে পড়া তাঁর স্বামী।

একসময় এই বাড়িতে শাহজাহান-রাবেয়া দম্পতির ছিল কানায় কানায় ভরা সংসার। দুই বিঘা জমির সবুজ আমবাগান, ধানক্ষেত আর পরিপাটি বসতঘর আর সবকিছু নিয়েই ছিল আনন্দময় জীবন।
কিন্তু ২০২০ সালের মে মাসে সবকিছু তছনছ করে দিয়ে যায় সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’। প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুঁড়িকাহুনিয়া ও হাওলাদার বাড়ি সংলগ্ন বাধ ভেঙে খোলপেটুয়া আর কপোতাক্ষের নোনা জল ঢুকে অল্প সময়ের মধ্যে ভাসিয়ে নিযে যায় তাঁদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্নের সংসার। টানা কয়েক বছর ধরে ঘরবাড়িতে চলেছে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা। ভিটেমাটি, ফসলি জমি থেকে শুরু করে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু গ্রাস করেছে প্রমত্তা খোলপেটুয়া।

আম্পান তাঁদের কাছ থেকে শুধু ঘরবাড়ি, আমবাগান আর ফসলি জমিই কেড়ে নেয়নি; কেড়ে নিয়েছে স্বজনদের সান্নিধ্যও। নদীভাঙন আর নোনা পানির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে ভিটেমাটি হারিয়ে কাজের খোঁজে এলাকা ছেড়েছে তাঁদের জোয়ান ছেলেরা, সঙ্গে নিয়ে গেছে পোতা-পুতিœ হুমায়ুন কবির, মরিয়াম আর আফরোজাকেও। অসুস্থ রাবেয়া বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, পোতা-পুতিœদের জন্য খারাপ লাগবে না? কষ্ট হয় না? কিন্তু কি করবো, কাজের খোজে তারা দুরে চলে গেছে কিন্তু এই বয়সে আমরা কোথায় যাবো?’’


অথচ আগে সবকিছু ছিল, স্বজনেরা ছিল, এখন কেউ নেই। মাসের পর মাস একা একা রান্না-বাড়া করি।
একাকী জীবনের সঙ্গী প্রবীণ শাহজাহান আলী দীর্ঘশ্বাস ফেলে আক্ষেপ করে বলেন, “ওর বাপের (রাবেয়া) প্রায় তিন-চার শত বিঘা জমি ছিল। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো সেই মেয়ে আজ নোনা জলের তোড়ে নিঃস্ব। অসুস্থতার কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। ছেলে যেটুকু দেয়, তাতে সংসার চলে না; খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটে। ক’দিন আগে বাজারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, অন্য লোকেরা বাড়ি পৌঁছে দিয়ে গেছে। কি আর করবো, এই একাকী জীবন আর ভালো লাগে না। এখন শুধু মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছি।
রাবেয়া-শাহজাহান দম্পতির এই গল্প কেবল কোনো একক পরিবারের করুণ কাহিনী নয়; এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের হাজার হাজার বিলুপ্তপ্রায় পরিবারের এক বিষাদময় বাস্তবতা।

 

 

জলবায়ু সংকট ও মাটিতে লবণক্ততা
পরিবেশ গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী অভিঘাত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ধারাবাহিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব। এসব কারণে এঅঞ্চলের মাটির উর্বরতা ও মিষ্টি পানির উৎসগুলো ক্রমান্বয়ে লবণাক্ত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের ‘মাটির লবণাক্ততা মানচিত্র ২০২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলের ১৭ লাখ ৩ হাজার ৭৫৯ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমি মারাত্মক লবণাক্ত হয়ে পড়েছে (প্রায় ৬৮ শতাংশ)।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শামসুন নাহার রতœা এ বিষয়ে উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “সাধারণত বর্ষা মৌসুমে লবণাক্ততার তীব্রতা কম থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে শুরু করে জুন মাস পর্যন্ত মাটির ও পানির লবণাক্ততা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ২০১৯ সালে সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা যেখানে ২২ থেকে ২৫ ডেসিসিমেন্স/মিটার ছিল, ২০২৬ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ ডেসিসিমেন্সে পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পুরো উপকূলীয় পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, উজানের নদীর প্রবাহ ও নাব্যতা হ্রাস পাওয়ার কারণে সাগরের নোনা পানি ভেতরে চলে আসছে। এর পাশাপাশি অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলের মাটির তলদেশ থেকে লবণাক্ত পানি উপরের স্তরে উঠে আসছে। এর ফলে কৃষিজমিতে একাধিক ফসল ফলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা কৃষকদের মাছ বা চিংড়ি ঘেরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে অন্যান্য কৃষিজ উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে।
জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরের রূপরেখা
ভৌগোলিক নাজুকতার কারণে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত বন্যা, তীব্র ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও দ্রুত বিস্তারমান লবণাক্ততার মুখোমুখি হচ্ছে। নাজুক সামাজিক কাঠামোর কারণে এসব দুর্যোগ প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষকে ভিটেমাটি হারিয়ে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করছে। সরকারি হিসাবে কেবল ২০২০ সালের সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’-এর সময়েই দেশের উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছিল।


অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং বাংলাদেশ সরকারের তথ্যে দেখা গেছে, বন্যা, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের ভেতরেই বর্তমানে ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। আর বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত টেকসই পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ জলবায়ু-অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ছুঁয়ে ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের একক বৃহত্তম মানবিক ও সামাজিক প্রভাব হতে যাচ্ছে এই ‘বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন’। সাতক্ষীরার গাবুরা বা প্রতাপনগর থেকে ভিটেমাটি হারিয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো মূলত এই বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটেরই প্রত্যক্ষ শিকার।

 

জেলা শহরে বাড়ছে বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপ ও বস্তিতে মানবেতর জীবন
সাতক্ষীরা পৌরসভা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’-এর যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে জেলা শহরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
সমীক্ষার তথ্যমতে, সাতক্ষীরা পৌরসভায় ২২ বছরে প্রকৃতিক দুযোর্গের কারনে ১০ হাজার ১৩৩টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে ৮৪ শতাংশই নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র লবণাক্ততার শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে ২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যবর্তী দশকে সবচেয়ে বেশি স্থানান্তর ঘটে, যা শহরটির ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বস্তিতে ঘনবসতি তৈরি করেছে। নোনা জল আর নদী ভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে শহরে আসা এই জলবায়ু উদ্বাস্তুরা বর্তমানে অপরিসর কাঁচা ঘর, নোংরা ও প্লাবিত রাস্তাঘাট এবং ভঙ্গুর স্যানিটেশন ব্যবস্থার মধ্যে বস্তিতে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
নোনা জলের দীর্ঘশ্বাস ও নারীর জীবন
আশাশুনির হাওলাদার বাড়ির দৃশ্যপট যেমন করুণ, প্রতিবেশী শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের বাস্তবতাও সমান নিষ্ঠুর। উপকূলীয় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানীয় জলের হাহাকার এবং মারাত্মক লবণাক্ততা এখানকার নারীদের জীবনকে চরম বিপন্ন করে তুলেছে।


গাবুরার ৬০ বছর বয়সী ফজিলা খাতুন তাদেরই একজন। স্বামী হারা এই নারী পক্ষাঘাতগ্রস্ত । ছেলে মেয়েরা কাজের সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। অসুস্থ শরীরে চরম কষ্টে কষ্টে দিন কাটে এই নারীর।

 

ফজিলা খাতুন জানান, আগে আমরা কৃষিকাজ করে খেতাম, কিন্তু এখন চতুর্দিকে শুধু লবণ আর লবণ। ধান চাষ তো দূরের কথা, একটা শাকসবজির গাছও বাঁচে না। খাবার পানির জন্য আমাদের মাইলকে মাইল হাঁটতে হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই অদৃশ্য ক্ষতি সামাজের বিভিন্ন জাতী গোষ্ঠী, বয়স ভিত্তিক নারী ও পুরুষের উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলছে। যেমন-পুরুষেরা কাজের সন্ধানে এলাকা ছাড়ায় নারীদের ওপর পারিবারিক দায়িত্ব ও একাকীত্বের বোঝা বহুগুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, চেনা জীবিকা হারিয়ে পুরুষরাও সামাজিক আত্মপরিচয় সংকটে ভুগছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে মানসিক অবসাদ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

(দুই পর্বের প্রথম পর্ব প্রতিবেদনটি ইন্টারনিউজের আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের ফেলোশিপের অন্তর্ভুক্ত)।

 

 

শ্যামনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মা ও ছেলে আহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মা ও ছেলে আহত

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মা ও ছেলে আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহত হাফেজ হাবিবুল্লাহ জানান, একই গ্রামের মৃত নুর আলী গাজীর ছেলে আকবর আলী এবং করিম বক্সের ছেলে রবিউল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা তাঁর সম্পত্তিতে জোরপূর্বক মাটি কেটে গাছপালার ক্ষতি করে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিতে গেলে উল্লেখিত ব্যক্তিরাসহ একই এলাকার জামিরুল, করিম বক্স, ইব্রাহিম, করিমন ও আয়েশাসহ ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্রÑদা, কুড়াল, রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর মা ঠেকাতে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এ ছাড়া তিনি ও তাঁর বাড়িতে বেড়াতে আসা খালাতো ভাইও পিটুনিতে আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজেকে শেষ করো দিল স্কুলছাত্রী, বিয়ের কাবিননামা আটকে রেখে টাকা দাবির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
নিজেকে শেষ করো দিল স্কুলছাত্রী, বিয়ের কাবিননামা আটকে রেখে টাকা দাবির অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং কাবিননামা আটকে রেখে টাকা দাবির অভিযোগের মধ্যে এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রেমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা ও হুমকির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সেতু আক্তার বন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বন্যার সঙ্গে একই এলাকার মৃত সেলিম হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বাবুল হোসেনসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় গোপনে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামা বাবুল নিজের কাছে রেখে দেন। পরে ইমরান বন্যাকে স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। বন্যা ও তাঁর মা রেহেনা খাতুন কাবিননামা ফেরত চাইলে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে কাবিননামা দেওয়া হবে না জানিয়ে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের দাবি, বিষয়টি ইমরান ও তাঁর স্বজনদের জানানো হলেও বন্যাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান তাঁরা। শনিবার রাত ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বিষপান করে বন্যা। তাঁকে দ্রুত সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
বন্যার বাবা আনিসুর রহমান জানান, মৃত্যুর আগে মেয়ে তাঁকে বলেছিল, সবাই মিলে তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি যেন এ ঘটনার বিচার চান।

পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বন্যাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল।

অভিযুক্ত ইমরান হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।