সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

কলারোয়ায় ৯টি ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ, অংশ নিচ্ছেন ৪০ যুব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ৯টি ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ, অংশ নিচ্ছেন ৪০ যুব

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় নয়টি বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণার্থী যুবক ও ওস্তাদদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবির বাস্তবায়নে এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক কার্ক ইন অ্যাক্টির অর্থায়নে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মোট ৮৪ জন অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে কলারোয়া উপজেলার ৪০ জন।

সিসিডিবির প্রকল্প ব্যবস্থাপক পার্থ প্রতিম সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল হক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার আক্তার, সাংবাদিক ও প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, সিসিডিবির কারিগরি কর্মকর্তা একরামুল কবীর এবং মাঠ সংগঠক সুদীপ্ত বিশ্বাসসহ অন্যরা।

Ads small one

বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস: অতীত সংরক্ষণ, দৃশ্য-শ্রব্য দলিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস: অতীত সংরক্ষণ, দৃশ্য-শ্রব্য দলিল

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৭ অক্টোবর বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস। ইউনেসকোর উদ্যোগে পালিত এ দিবসের মূল লক্ষ্য চলচ্চিত্র, বেতার, টেলিভিশন, অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মতো দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং এগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘আপনার বিশ্বকে দেখার জানালা’। এ প্রতিপাদ্য বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংযোগ তৈরিতে দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্যের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরে।

১৯৮০ সালের ২৭ অক্টোবর ইউনেসকোর ২১তম সাধারণ সম্মেলনে ‘চলমান চিত্রের সুরক্ষা ও সংরক্ষণবিষয়ক সুপারিশমালা’ গৃহীত হয়। ঐতিহাসিক এ ঘটনাকে স্মরণ করে ২০০৫ সালে ইউনেসকোর ৩৩তম সাধারণ সম্মেলনে ২৭ অক্টোবরকে বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিবসটি দৃশ্য-শ্রব্য দলিলের গুরুত্ব তুলে ধরা, এগুলো সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ কাজে নিয়োজিত পেশাজীবীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে পরিণত হয়েছে।

অডিওভিজ্যুয়াল আর্কাইভ মানবজাতির সম্মিলিত স্মৃতির এক অমূল্য ভান্ডার। চলচ্চিত্র, ঐতিহাসিক ভাষণ, বেতার অনুষ্ঠান, টেলিভিশনের সংবাদ, লোকসংগীত ও প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে অতীতের ঘটনা এবং মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা পাওয়া যায়। লিখিত দলিলের পাশাপাশি এসব রেকর্ড ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্য, ঐতিহাসিক ভাষণ এবং বিভিন্ন সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানতে সহায়তা করে। একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও সামাজিক আন্দোলনের দৃশ্য-শ্রব্য দলিল ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এসব আর্কাইভের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ইতিহাস, লোককথা, গান, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মৌখিকভাবে প্রচলিত হয়ে আসছে। অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা আঞ্চলিক ভাষা, উচ্চারণ ও লোকসংগীতের রেকর্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণার উপাদান হিসেবেও কাজ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানুষকে অন্য সমাজের জীবনধারা সম্পর্কে জানতে এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করে। শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায়ও এসব উপাদান গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস।

তবে দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। পুরোনো ফিল্ম রিল, চৌম্বকীয় অডিও টেপ, গ্রামোফোন রেকর্ড ও ভিডিও ক্যাসেট সময়ের সঙ্গে তাপ, আর্দ্রতা, ছত্রাক এবং রাসায়নিক অবক্ষয়ের কারণে নষ্ট হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব রেকর্ড চালানোর যন্ত্রও আর সহজলভ্য নয়। ফলে মূল উপাদান অক্ষত থাকলেও সেখান থেকে তথ্য উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। পুরোনো রেকর্ডের বারবার অনুলিপি তৈরির ফলে শব্দ ও ছবির মান কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই উপযুক্ত সংরক্ষণাগার, দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।

এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে পুরোনো শব্দ রেকর্ড ও চলচ্চিত্র ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত রেকর্ডের শব্দ ও ছবির মান উন্নত করেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। ডিজিটাল ফাইলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুরক্ষিত সার্ভার, তথ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত মাধ্যম এবং একাধিক অনুলিপি রাখার ব্যবস্থা কার্যকর। তবে ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি মূল উপাদানগুলো উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল ফাইলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্য চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বাংলাদেশে দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ। ১৯৭৮ সালের ১৭ মে তৎকালীন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভ’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষণাগারে চলচ্চিত্র ও ঐতিহাসিক দৃশ্যচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন উপাদান সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব সংগ্রহের যথাযথ সংরক্ষণ, ডিজিটাল রূপান্তর, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইউনেসকোর ‘আমাদের সম্মিলিত ইউনেসকো ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটির ঐতিহাসিক নথি ও দৃশ্য-শ্রব্য সংগ্রহের একটি অংশ ডিজিটাল করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এ প্রকল্পে জাপান সরকারের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক ঐতিহাসিক নথি, চলচ্চিত্র, ভিডিও, আলোকচিত্র ও শব্দ রেকর্ডিং ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে এসব উপাদান সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষা ও জনসাধারণের ব্যবহারের সুযোগও সম্প্রসারিত হয়েছে। এ উদ্যোগ প্রমাণ করে, ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস কেবল অতীতের দৃশ্য ও শব্দ স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; এসব উপাদান ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের পরিচয়ের মূল্যবান দলিল। তাই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্কাইভ পেশাজীবী, গবেষক ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এসব সম্পদ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। পুরোনো রেকর্ড দ্রুত ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, দক্ষ সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো সহজলভ্য করাই হোক দিবসটির অঙ্গীকার। কারণ, দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য রক্ষা মানে শুধু অতীতকে বাঁচিয়ে রাখা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য জ্ঞান, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জানালা খোলা রাখা।

সাতক্ষীরায় হ্যাচারির রং ব্যবহারে কার্যকারিতা নিয়ে মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় হ্যাচারির রং ব্যবহারে কার্যকারিতা নিয়ে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় হ্যাচারিতে ব্যবহৃত কার্যকরী রং ও এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে হ্যাচারিমালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে জতুন বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে লেক ভিউয়ের যমুনা হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (সেব) খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের সভাপতি ও সমাজসেবক আলহাজ ডা. আবুল কালাম বাবলার সভাপতিত্বে সভায় হ্যাচারিকে ব্যাকটেরিয়া ও মরিচা থেকে সুরক্ষা এবং অল্প রং ব্যবহার করে বেশি জায়গা রং করার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন জতুন বাংলাদেশ লিমিটেডের টেকনিক্যাল সার্ভিস বিভাগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।

সভায় বক্তব্য দেন জতুন বাংলাদেশ লিমিটেডের সেলস ম্যানেজার চয়ন মুখার্জি, খুলনা হ্যাচারির শেখ তানজিম কালাম তমাল, জে স্টার হ্যাচারির শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, আল আকসা হ্যাচারির মনিরুল ইসলাম, খাজা হ্যাচারির জাকির হোসেন, পদ্মা হ্যাচারির বকুল, সাইফুল ইসলাম, কক্সবাজার হ্যাচারির শিবপদ, সোনারগাঁ হ্যাচারির বাবুল মোল্লা এবং চিংড়ি বাংলা হ্যাচারির তোতা প্রমুখ।

সভায় বিভিন্ন হ্যাচারির মালিক ও জতুন বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ নয়, জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ নয়, জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

যে সমাজে সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষমতাবানরা অস্বস্তি বোধ করেন, সেখানে সত্য আড়াল করার প্রবণতা বাড়ে। আর সত্য প্রকাশের জবাব যখন আসে অপমান, হুমকি কিংবা বুলেটের মাধ্যমে, তখন বিপন্ন হয় মানুষের জানার অধিকার, দুর্বল হয়ে পড়ে জবাবদিহি এবং সংকুচিত হয় গণতন্ত্রের পরিসর। সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে সাময়িকভাবে নীরব করা যায়, কিন্তু তাতে অনিয়মের দায় মুছে যায় না, সত্যের প্রয়োজনও ফুরিয়ে যায় না।

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনা তাই শুধু সাংবাদিকসমাজের প্রতিবাদের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সত্য বলার অধিকার কি ক্ষমতাবানদের ইচ্ছার কাছে জিম্মি থাকবে, নাকি সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে?

এ প্রশ্ন সামনে রেখে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য এবং নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন দ্য ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাংবাদিক মহিদার রহমান, আসাদুজ্জামান সরদার ও আবু সাঈদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন।

মানববন্ধনে বক্তারা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বিতর্কিত বক্তব্যের সমালোচনা করে তা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন। নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্যে সাংবাদিকতার মর্যাদা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের অধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানদের প্রশংসা করা নয়। তাঁর দায়িত্ব তথ্য অনুসন্ধান, অসংগতি চিহ্নিত করা, অনিয়মের প্রশ্ন তোলা এবং জনস্বার্থে সত্য তুলে ধরা। কোনো প্রতিবেদন কারও স্বার্থে আঘাত করতে পারে, কোনো প্রশ্নে বিব্রত হতে পারেন কোনো কর্মকর্তা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি। কিন্তু সেই অস্বস্তি থেকে সাংবাদিকদের অবজ্ঞা করা কিংবা পুরো পেশাকে হেয় করার প্রবণতা তৈরি হলে তা উদ্বেগজনক।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের নিয়ে ঢালাও ও আপত্তিকর মন্তব্য করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বক্তব্যের সামাজিক প্রভাব রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে মানুষ সংযম, পেশাগত শালীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। সাংবাদিকদের কোনো প্রতিবেদনে ভুল থাকলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রতিবাদ জানানো, সংশোধন চাওয়া কিংবা আইনসম্মত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের সামগ্রিকভাবে অপমান করা কোনো সমস্যার সমাধান নয়।

সাংবাদিকের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। সাংবাদিকেরাও আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাঁদের কেউ অনৈতিক কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো পেশার ওপর চাপানো যেমন অন্যায়, তেমনি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়ম করাও গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাগত স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।

সাতক্ষীরার মানববন্ধনে চিকিৎসাসেবার মান, অনিয়ম ও বাণিজ্যিকীকরণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বক্তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের একটি অংশ সেবার চেয়ে ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। প্রমাণ ছাড়া পুরো চিকিৎসকসমাজকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি পেশাগত মর্যাদার অজুহাতে চিকিৎসাসেবায় অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করাও সমর্থনযোগ্য নয়।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবন ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক উপস্থিত থাকছেন কি না, রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন কি না, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে কি না কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের প্রতিকার মিলছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। সংবাদমাধ্যম এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করবে, তথ্য প্রকাশ করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব চাইবে। এটাই তার দায়িত্ব।

কোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগের জবাব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে তদন্তের ব্যবস্থা করা। সাংবাদিকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ কিংবা তাঁর পেশাকে হেয় করে স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা দূর করা যায় না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হয়। একইভাবে ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অধিকার দেয় না।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে যা খুশি বলার অবাধ অনুমতি নয়। এ স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধও যুক্ত। একজন নাগরিক নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন, অন্যের মতের বিরোধিতা করতে পারেন, এমনকি কঠোর সমালোচনাও করতে পারেন। কিন্তু মতের অমিলের কারণে কাউকে অপমান করা, ভয় দেখানো কিংবা সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা জরুরি। সমালোচনার জবাব যুক্তি, তথ্য ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে দেওয়াই প্রকৃত শালীনতা।

নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা আরও ভয়াবহ বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি ফেরায়। একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হলে একটি পরিবার তার প্রিয়জনকে হারায়। একই সঙ্গে সাংবাদিকসমাজে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। অন্য সাংবাদিকেরাও ভাবতে বাধ্য হন, কোনো অনিয়ম প্রকাশ করলে তাঁদেরও কি একই পরিণতি ভোগ করতে হবে?

হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে যে কারণেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকুক, এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার অপরিহার্য। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকলে বিষয়টি আরও গভীর উদ্বেগের। কারণ, এমন ঘটনা অন্য সাংবাদিকদেরও ভয় দেখানোর ঝুঁকি তৈরি করে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি কিংবা হত্যার ঘটনায় বিচারহীনতা অপরাধীদের সাহস বাড়াতে পারে। এতে শুধু সংবাদমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্যও আড়ালে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মানুষ তখন সরকারি সেবা, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা প্রভাবশালী মহলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোনো বিশেষ পেশার বাড়তি সুবিধা নয়; এটি আইনের শাসন ও নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার রক্ষার অংশ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। হামলার অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সাতক্ষীরার মানববন্ধন ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রকাশ। কিন্তু মানববন্ধন শেষ হওয়ার পরও যদি অভিযোগগুলো অনিষ্পন্ন থেকে যায়, তবে প্রতিবাদের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের যথাযথ যাচাই এবং নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেও পেশাগত ঐক্য, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে দৃঢ় থাকতে হবে। সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে পেশাগত সততাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও বুঝতে হবে, সংবাদমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ মনে করলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান হয় না। বরং সাংবাদিকদের সঙ্গে তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ, অভিযোগের স্বচ্ছ নিষ্পত্তি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়েই আস্থা তৈরি হয়।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সাংবাদিক বনাম চিকিৎসক, কর্মকর্তা কিংবা কোনো সামাজিক ব্যক্তিত্বের নয়। মূল প্রশ্ন হলো, সমাজে ক্ষমতার ব্যবহার কতটা জবাবদিহিমূলক হবে এবং সাধারণ মানুষ সত্য জানার সুযোগ কতটা পাবে। সাংবাদিকেরা ভুল করলে তাঁদেরও জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে তাঁদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। সমালোচনা বন্ধ করে ক্ষমতার মর্যাদা রক্ষা করা যায় না; বরং ন্যায়সংগত সমালোচনা গ্রহণ করার মধ্য দিয়েই দায়িত্বশীলতার পরিচয় মেলে।

সাংবাদিককে অপমান করে প্রশ্ন থামানো যায়, গুলি করে একজন সাংবাদিকের জীবন কেড়ে নেওয়া যায়; কিন্তু তাতে সত্যের প্রয়োজন শেষ হয় না। যে সমাজ সত্য প্রকাশের অধিকার নিরাপদ রাখতে পারে না, সে সমাজে অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সাংবাদিকের মর্যাদা রক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচার করা কোনো গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত।

লেখক: সংবাদকর্মী