বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

তাপপ্রবাহ, বিদ্যুৎঘাটতি ও অন্ধকারের অন্তর্লিখন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
তাপপ্রবাহ, বিদ্যুৎঘাটতি ও অন্ধকারের অন্তর্লিখন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশে গ্রীষ্ম মানেই তাপদাহ, আর তাপদাহ মানেই বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ-এই বাস্তবতা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কেবল মৌসুমি চাপের সীমা অতিক্রম করে একটি গভীর কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজশাহী, খুলনা বিভাগসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সঙ্গে বিদ্যুৎঘাটতি যেভাবে একসঙ্গে প্রকট হয়েছে, তা আমাদের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, পরিকল্পনার অসামঞ্জস্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

 

এই সংকটকে বোঝার জন্য কেবল বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলেই হবে না; বরং এর পেছনের কাঠামোগত কারণ, নীতিগত সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব-সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে-এটি একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া। গরমে ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার, পানির পাম্প-সবকিছুর ব্যবহার বেড়ে যায়।

 

শিল্পকারখানায়ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন বাড়ে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা একধাক্কায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে তৈরি হচ্ছে ঘাটতি, যা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সামাল দেওয়া হচ্ছে।

 

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-এই চাহিদা কি সত্যিই অপ্রত্যাশিত? না, মোটেই নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতি বছরই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়। কাজেই পরিকল্পনা থাকলে এই চাহিদা মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো-উৎপাদন সক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের মধ্যে বিশাল ব্যবধান।

 

দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণগুলো হলো: গ্যাস, কয়লা ও তেলের সরবরাহে ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় বাধা। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো গ্যাস পাচ্ছে না, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো কয়লার অভাবে বন্ধ বা আংশিক চালু, আর তেলচালিত কেন্দ্রগুলো তেলের উচ্চমূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে সীমিত উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে উঠেছে।

 

কয়লা, এলএনজি, এমনকি বিদ্যুৎও আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহে বিঘœ ঘটলেই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হয়। বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু সংকটের সময় এসব ত্রুটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গত এক দশকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগের একটি বড় অংশ ছিল পরিকল্পনাহীন বা অসমন্বিত।

 

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে জ্বালানির স্থায়ী উৎস নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এখন কেন্দ্র আছে, কিন্তু চালানোর মতো জ্বালানি নেই। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্র চালু থাকুক বা না থাকুক, সরকারকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এতে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে পরিকল্পনা অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

 

বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো-গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব অনেক বেশি। শহরে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও গ্রামে দিনে ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এই বৈষম্যের কারণগুলো হলো:শহরে শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেশি, তাই সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। গ্রামীণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা সীমিত সরবরাহকে “লোড ম্যানেজমেন্ট” করার সময় গ্রামকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া কিন্তু এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

 

কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতি এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লোডশেডিং কেবল একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট। সেচব্যবস্থা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ না থাকলে কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারেন না। ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনা করতে পারে না। পরীক্ষা সামনে থাকলেও তারা প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়।

 

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটকে পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে প্রশ্ন হলো-এই ঝুঁকিগুলো কি আগে থেকে অনুমান করা যেত না? নিশ্চয়ই যেত। কিন্তু সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয়। জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করা, লোডশেডিং বণ্টনে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, পরিকল্পনা প্রণয়নে রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করা, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট কেবল একটি মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।

 

তাপপ্রবাহ সাময়িকভাবে এই সংকটকে তীব্র করেছে, কিন্তু এর মূল কারণ নিহিত রয়েছে নীতিগত দুর্বলতা ও পরিকল্পনার ঘাটতিতে। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ঘন ঘন ও তীব্র আকারে ফিরে আসবে। বিদ্যুৎ খাত একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মেরুদ-। সেই মেরুদ- যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে উন্নয়নের পুরো কাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়ে। অতএব, সময় এসেছে কাগুজে সক্ষমতার মোহ থেকে বেরিয়ে বাস্তবসম্মত, টেকসই ও জবাবদিহিমূলক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার। নইলে তাপপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারই হবে আমাদের নিত্যসঙ্গী।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

শ্যামনগরে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ব্যাহত পড়াশোনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ব্যাহত পড়াশোনা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ঘনঘন বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষা চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা ও রাতের সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অনেক এলাকায় দিনে ৫-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীরা আলো সংকটের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।

শিক্ষার্থী আব্দুস সাদী জানায়, “পরীক্ষার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। গরমের মধ্যে অন্ধকারে পড়তে খুব কষ্ট হয়, অনেক সময় পড়াই সম্ভব হয় না।” অভিভাবকরাও একই অভিযোগ করে বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে এবং অনেক স্থানে দৈনিক কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই এবারের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী প্রতিবেদককে জানান, এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, এবং পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা দরকার, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

 

তীব্র গরমে লোডশেডিং, শেষ ভরসা বাঁশবাগান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
তীব্র গরমে লোডশেডিং, শেষ ভরসা বাঁশবাগান

সাতক্ষীরায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। দুপুরের তীব্র রোদে গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে। প্রচ- গরমে ফ্যান-বিদ্যুৎহীন অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের একটি বাঁশ বাগানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও পাটি বা চাটাই বিছিয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।

বকচরা গ্রামের আলমগীর লস্কর বলেন, দিনে ও রাতে মিলেও ১৪ ঘন্টা কারেন্ট থাকে না। ফলে ইটের দালান বা টিনের ঘরের ভ্যাপসা গরমে থাকাটাই অসহনীয় ব্যাপার, তার চেয়ে দুপুরে কারেন্ট গেলে বাঁশবাগানের ভেতরের পরিবেশ অনেকটাই সহনীয় হয়ে ওঠে। বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়া একটু তো স্বস্তি দিচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাসিন্দা মুকুল বলেন, “ঘরের ভেতর গরমে থাকা যায় না, লোডশেডিং তো আছেই। তাই বিকেলে বাঁশবাগানে চলে আসি। এখানে বসলে একটু ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায় কিন্তু বাড়ি ঘরে মহিলাদের এই অসহনীয় গরম সহ্য করতে হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, ঘন সবুজ উদ্ভিদ এলাকাভেদে আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম অনুভব করাতে পারে, যা তাপদাহের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি দেয়।

চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দিনের তীব্র তাপদাহ এবং রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে খোলা ও গাছের ছায়াযুক্ত জায়গা বেছে নিচ্ছেন। দেশের চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমাধান চান দেশবাসী।

উল্লেখ্য যে, এই প্রতিবেদন তৈরি করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দুপুর ৩টা ৩৬ মিনিটে সংবাদটি ইমেইলে পাঠানোর সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে বিদ্যুৎ ফিরে এলে আবারও সংবাদটি পাঠাতে হয়। লোডশেডিংয়ের এই চক্র শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সংবাদকর্মীদের কাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদদাতা এসএম আশরাফুল ইসলাম

 

 

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শাড়ি ও আগরবাতি আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার কেরাগাছি হতে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে।

এছাড়াও, মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার চান্দা হতে ২৪ হাজার টাকার ভারতীয় আগরবাতি আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯৪ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।