শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে “প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এর আয়োজনে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০ টায় নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। খেলায় উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালক ও বালিকা দল অংশগ্রহণ করে। মাঠজুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ হোসাইন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ এনামুল হক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উপজেলার সাংবাদিক ও বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলো চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে। বালক ও বালিকা উভয় বিভাগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যেই এ ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Ads small one

প্রকৃতির ক্যানভাসে বেগুনি আভা: বাংলার গর্ব জারুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির ক্যানভাসে বেগুনি আভা: বাংলার গর্ব জারুল

তারিক ইসলাম

নাম: জারুল (ইংরেজি নাম: Giant Crape-myrtle / Pride of India)
ফুল ফোটার সময়: এপ্রিল থেকে জুন (গ্রীষ্মকাল)
ফুলের রঙ: হালকা থেকে গাঢ় বেগুনি
উপযোগিতা: সৌন্দর্যবর্ধন, উন্নত মানের কাঠ ও ভেষজ গুণ।

গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে যখন চারদিকের প্রকৃতি তৃষ্ণার্ত ও বিবর্ণ হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই চোখের প্রশান্তি নিয়ে হাজির হয় জারুল। সবুজ পাতার বুক চিরে বের হওয়া থোকা থোকা বেগুনি ফুলের এই সমারোহ যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর আঁকা জলরঙের ছবি। গ্রাম-বাংলার আনাচে-কানাচে তো বটেই, যান্ত্রিক নগরের ইট-পাথরের মাঝেও জারুল তার সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে।

পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য:
জারুল একটি পর্ণমোচী উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। এটি সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। বছরের অন্য সময় গাছটি খুব একটা নজরে না এলেও গ্রীষ্মের শুরুতে যখন সবুজের ফাঁকে বেগুনি পাপড়িগুলো উঁকি দেয়, তখন এর সৌন্দর্য উপেক্ষা করা অসম্ভব। জারুলের ফুলে ছয়টি করে পাপড়ি থাকে এবং ফুলের মাঝখানে থাকে সোনালি রঙের পুংকেশর, যা ফুলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

বাংলার প্রকৃতি ও জারুল:
বাংলার ছয় ঋতুর আবর্তনে জারুলের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে যখন অন্যান্য ফুল প্রখর তাপে ম্লান হয়ে যায়, তখন জারুল সতেজ হয়ে ফোটে। কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কিংবা পল্লীগীতিতে এই ফুলের উপস্থিতি বাংলার চিরায়ত রূপকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। জলাশয়ের ধারে জারুলের প্রতিবিম্ব যখন টলটলে জলে পড়ে, তখন এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা হয়।

অর্থনৈতিক ও ঔষধি গুণাগুণ:
জারুল শুধু তার রূপ দিয়েই মুগ্ধ করে না, এর রয়েছে নানা কার্যকর গুণাগুণ:
কাষ্ঠল গুরুত্ব: জারুল কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকলেও এই কাঠ নষ্ট হয় না বলে নৌকা তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরিতেও এটি সমাদৃত।
ঔষধি ব্যবহার: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, জারুলের মূল, ছাল ও পাতার নানাবিধ ঔষধি গুণ রয়েছে। বিশেষ করে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগে জারুলের পাতার চা বেশ উপকারী বলে পরিচিত। এছাড়াও জ্বর ও পেটের পীড়া নিরাময়ে এর ছাল ব্যবহৃত হয়।

সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা :
এক সময় বাংলার গ্রামীণ জনপদে প্রচুর জারুল গাছ দেখা যেত। কিন্তু নগরায়ণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এই অপরূপ গাছটি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয় প্রজাতির বৈচিত্র্য ধরে রাখতে জারুল গাছ রোপণ করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে বড় বড় শহরগুলোর রাস্তার ডিভাইডারে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য জারুল গাছ লাগানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।

জারুল আমাদের মাটির সন্তান। এর বেগুনি আভা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। রুক্ষ গ্রীষ্মে এক চিলতে শীতলতা আর চোখের প্রশান্তি পেতে জারুলের কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃতিপ্রেমী প্রতিটি মানুষের উচিত এই বৃক্ষটির যতœ নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলার এই ‘বেগুনি রানী’কে টিকিয়ে রাখা।

তারিক ইসলাম, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক লেখক, সভাপতি সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

লোডশেডিংয়ে হুমকির মুখে দক্ষিণাঞ্চলের হিমায়িত চিংড়ি শিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
লোডশেডিংয়ে হুমকির মুখে দক্ষিণাঞ্চলের হিমায়িত চিংড়ি শিল্প

পত্রদূত ডেস্ক: একদিকে জ্বালানি সংকট অপরদিকে লাগাতার লোডশেডিংয়ে হিমায়িত চিংড়ি শিল্পে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। লোডশেডিংয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফ্যাক্টরি চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ডিজেল পেতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এসব চিংড়ি শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সহজ শর্তে সরাসরি ডিপো থেকে ডিজেল সরবরাহ করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন এ শিল্প সংশ্লিষ্টরা। তা-না হলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে।

রূপসার ইলাইপুরে অবস্থিত ফ্রেস ফুডস লিঃ কর্তৃপক্ষ জানায়, চিংড়ি মৌসুম পুরোপুরি এখন শুরু হয়নি। তারপরও চালু রাখতে হয় সব বিভাগ। দু’শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। কিন্তু বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে প্রতিষ্ঠান অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার সকাল থেকে রাত অবধি ৫ বারে ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়েছে। দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় যেখানে বিদ্যুৎ বিল আসতো ২৯ হাজার টাকা, সেখানে ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে জেনারেটরের জন্য ৫৫ হাজার ৩১৫ টাকার ডিজেল কিনতে হয়েছে। একদিনে ভর্তুকি গুনতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকার বেশি।

সাউদার্ণ ফুডস লিঃ এর এজিএম মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত বুধবার ২৬ ঘণ্টার মধ্যে ৫ বারে ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট লোডশেডিংয়ে ফ্যাক্টরি চালু রাখতে ৬৩ হাজার ৮৫০ টাকার ডিজেল কিনতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতি ঘণ্টায় জেনারেটরে ৭৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। একদিনে যেখানে বিদ্যুৎ বিল আসে ৩৫ হাজার টাকা সেখানে ডিজেল কিনতে হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৫০ টাকার।’

তিনি বলেন, ‘আগে পাম্পে গেলেই ডিজেল পাওয়া যেতো কিন্তু এখন পূর্বের মতো চাহিদা মোতাবেক ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া এই তেল পেতে ফ্রোজেন ফুডস এসোসিয়েশন, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বরাবর আবেদন করতে হচ্ছে। একদিকে লোডশেডিং অপরদিকে জ্বালানি তেল নিয়ে নানা সমস্যা; সব মিলিয়ে খুব ঝামেলায় আছি। উৎপাদন অনুযায়ী কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন উঠছেনা। ভর্তুকি দিয়ে ফ্যাক্টরি চালু রাখতে হচ্ছে।’

রূপসার রোজেমকো ফুডস লিঃ এর পরিচালক তদন্ত সেলিম রেজা ও ব্যবস্থাপক তদন্ত নাজমুল হুদা চৌধুরি বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে এখনো মাছের রমরমা হয়নি। তারপরও ফ্যাক্টরির ৪ শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকের প্রতিমাসে ৩৫ লাখ টাকা বেতন দিতে হচ্ছে। এরই মাঝে চলছে ঘন ঘন লোডশেডিং। গত বুধবার দিন ও রাতে ১০ ঘণ্টা ২৫ মিনিট লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।

 

আমাদের ৫টি হিমাগারে ৩৫ কোটি টাকার মাছ রয়েছে। যা বাঁচাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এক ঘণ্টায় যেখানে বিদ্যুৎ বিল আসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, সেখানে বিদুৎ না থাকলে ডিজেল কিনতে হচ্ছে ২৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৫শ টাকা ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে।’ এ দুই কর্মকর্তা গার্মেন্টসের মত চিংড়ি শিল্পকে শিল্প ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করে সহজ শর্তে সরাসরি ডিপো থেকে তেল সরবরাহের দাবি জানান।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ১৮২ মেগাওয়াট, আর দুপুর ১টায় ছিল ১৫৮ মেগাওয়াট। এর আগে বুধবার দুপুরে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২০৩ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ফিডার ভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ৭৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬১৯ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি ছিল ১৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এদিন দুপুর ১টায় ৮০১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬৪৩ মেগাওয়াট। আর ঘাটতি ছিল ১৫৮ মেগাওয়াট।

 

 

 

অবৈধ জ্বালানি মজুদ: মুনাফার লোভে জীবনের ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
অবৈধ জ্বালানি মজুদ: মুনাফার লোভে জীবনের ঝুঁকি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
দেশের অর্থনীতি, জনজীবন এবং নিরাপত্তা-এই তিনটি স্তম্ভকে একসঙ্গে নাড়িয়ে দিতে পারে এমন সংকট খুব বেশি দেখা যায় না। কিন্তু জ্বালানি তেলকে ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ঠিক সেই বিরল উদাহরণগুলোর একটি, যেখানে বাজারের অনিশ্চয়তা, সামাজিক মনস্তত্ত্ব এবং অসাধু চক্রের অপতৎপরতা মিলেমিশে এক জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। এই সংকটের দৃশ্যমান অংশটি হলো সরবরাহের ঘাটতি কিংবা মূল্যবৃদ্ধি; কিন্তু এর অদৃশ্য ও অধিক বিপজ্জনক দিকটি হলো-অবৈধ মজুদ, যা ধীরে ধীরে জননিরাপত্তার জন্য এক নীরব হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। প্রথমেই স্বীকার করতে হবে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজার দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধ, উৎপাদন হ্রাস কিংবা সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘœ-এসব কারণে তেলের দাম ওঠানামা করছে।

 

এই বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রভাব বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরও বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। কারণ, এসব দেশের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর এবং বাজার ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে সামান্য গুজব কিংবা অনিশ্চয়তাও এখানে দ্রুত আতঙ্কে রূপ নেয়। এই আতঙ্কের একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হলো ‘প্যানিক বায়িং’। সাধারণ মানুষ যখন আশঙ্কা করে যে সামনে জ্বালানি সংকট হতে পারে, তখন তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিনে মজুদ করতে শুরু করে।

 

এটি মানুষের স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া হলেও এর ফলাফল মোটেও নিরীহ নয়। কারণ, এই আচরণ বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করে, সরবরাহের ওপর অস্বাভাবিক চাপ ফেলে এবং স্বাভাবিক চাহিদা-যোগানের ভারসাম্যকে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু সমস্যার মূল উৎস কেবল সাধারণ মানুষের আতঙ্ক নয়; বরং এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরি করে এবং পরে উচ্চ দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে।

 

অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘হোয়ার্ডিং’ বা মজুদদারি-যা একটি গুরুতর বাজার বিকৃতি। এটি শুধু ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-অবৈধ মজুদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি। জ্বালানি তেল, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন, অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। এগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয় এবং বাতাসের সঙ্গে মিশে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করতে পারে।

 

একটি ছোট্ট স্ফুলিঙ্গ, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অসাবধানতাবশত আগুনের সংস্পর্শেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাস্তবতা হলো, যারা অবৈধভাবে তেল মজুদ করছেন, তাদের অধিকাংশেরই এ বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান বা প্রস্তুতি নেই। তারা ড্রাম, প্লাস্টিকের বোতল, এমনকি বসতবাড়ির অপ্রচলিত পাত্রে তেল সংরক্ষণ করছেন-যা সম্পূর্ণ অনিরাপদ। এতে শুধু মজুদকারীর নিজের জীবনই নয়, তার পরিবার, প্রতিবেশী এবং আশপাশের পুরো এলাকার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা এই বাস্তবতাকে নির্মমভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। কোথাও শিশু খেলতে গিয়ে ড্রামে রাখা ডিজেলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে, কোথাও তেলের ড্রাম পরিষ্কার করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে মানুষ। এসব ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়; এগুলো আমাদের সামাজিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার প্রতিচ্ছবি। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে-কেন মানুষ এত বড় ঝুঁকি জেনেও এই কাজ করছে? এর উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের সমাজের অর্থনৈতিক ও মানসিক বাস্তবতার দিকে তাকাতে হবে।

 

একদিকে রয়েছে অনিশ্চয়তার ভয়, অন্যদিকে রয়েছে দ্রুত লাভের প্রলোভন। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ মানুষকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় তারা নিত না। আমাদের সমাজে এখনো একটি প্রবণতা রয়েছে-আইনকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত লাভের পথ খোঁজা। জ্বালানি মজুদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অনেকেই মনে করেন, কিছু অতিরিক্ত তেল মজুদ করে রাখলে ভবিষ্যতে লাভবান হওয়া যাবে। কিন্তু তারা উপলব্ধি করেন না, এই ‘সামান্য’ সিদ্ধান্তই বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

 

আইনগত দিক থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। লাইসেন্স ছাড়া এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদ- অনুসরণ না করে জ্বালানি তেল মজুদ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান চালালেও বাস্তবতা হলো-এই সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। কারণ, এটি কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক সমস্যা।

 

যতক্ষণ না মানুষ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে, ততক্ষণ এই প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন। প্রশাসন হয়তো কিছু মজুদ জব্দ করতে পারবে, কিছু মানুষকে শাস্তি দিতে পারবে; কিন্তু সামগ্রিক আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা সৃষ্টি, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন এবং জনমত গঠনের মাধ্যমে গণমাধ্যম এই সমস্যার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় নেতৃত্বকেও এগিয়ে আসতে হবে।

 

সরকারের দায়িত্বও কম নয়। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল রাখা, বাজারে গুজব প্রতিরোধ করা এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও সময়ের দাবি। সবশেষে বলা যায়, অবৈধ জ্বালানি মজুদ একটি বহুমাত্রিক সংকট-যার মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি একসঙ্গে জড়িত। এটি কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়; এটি আমাদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধেরও একটি পরীক্ষা।

 

জ্বালানি তেলকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা আমরা সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যক্ষ করছি, তার পেছনে কেবল সরবরাহ ঘাটতি বা বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামা দায়ী-এমনটি ভাবলে বাস্তবতার একটি বড় অংশ অদেখাই থেকে যায়। প্রকৃতপক্ষে এই সংকটের গভীরে রয়েছে বাজার কাঠামোর দুর্বলতা, তথ্যের অসমতা এবং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের সক্রিয় উপস্থিতি। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের আলোকে দেখলে বোঝা যায়, অবৈধ মজুদদারি কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকা- নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার লক্ষণ।

 

প্রথমেই আসা যাক বাজারের মৌলিক নীতির কথায়। একটি সুস্থ বাজারব্যবস্থায় চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু যখন কোনো পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেয়-যেমন মজুদ করে রাখার মাধ্যমে-তখন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এর ফলে মূল্য বেড়ে যায়, এবং সেই বাড়তি দামের সুযোগ নিয়ে মজুদকারীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে। এই প্রক্রিয়াটি অর্থনীতিতে ‘মার্কেট ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে পরিচিত।

 

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এই ধরনের কারসাজির সুযোগ তৈরি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, জ্বালানি সরবরাহ একটি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত খাত হলেও এর বিতরণ ব্যবস্থায় রয়েছে বহুস্তরীয় মধ্যস্বত্বভোগী। ডিপো, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা-এই দীর্ঘ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরেই স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ফলে কোথায় কত তেল মজুদ আছে, কোথায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে-এই তথ্যগুলো সব সময় পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায় না। এই তথ্যের অসাম্য বা ‘ইনফরমেশন অ্যাসিমেট্রি’ই সিন্ডিকেটদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

 

তারা বাজারের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি জানে এবং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তা গুজব ও অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-গুজবের অর্থনীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি ভুল তথ্য বা অর্ধসত্য খবর মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

 

“তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে”, “আগামীকাল দাম বাড়বে”-এ ধরনের বার্তা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর ফলে তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করে, যা আবার বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি চাহিদা সিন্ডিকেটদের পরিকল্পনাকে সফল করে তোলে।

অর্থাৎ, এখানে একটি ‘সেল্ফ-ফালফিলিং প্রফেসি’ কাজ করে-গুজব থেকেই যে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়, সেই গুজবই শেষ পর্যন্ত সংকটকে বাস্তবে রূপ দেয়। এই চক্রটি ভাঙা না গেলে বাজার কখনোই স্থিতিশীল হতে পারে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতি। অনেক সময় সরকার জনগণের স্বার্থে জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে রাখে। কিন্তু যদি এই মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক কম হয়, তাহলে চোরাচালান ও মজুদদারির প্রবণতা বাড়ে।

 

কারণ, তখন ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির আশায় তেল ধরে রাখে বা অন্যত্র পাচার করার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে অর্থনীতির একটি পরিচিত ধারণা প্রযোজ্য-‘প্রাইস ডিস্টরশন’। যখন বাজারমূল্য বাস্তব চাহিদা-যোগানের প্রতিফলন না হয়ে প্রশাসনিকভাবে নির্ধারিত হয়, তখন বাজারে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও আমরা তার ব্যতিক্রম দেখি না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরেকটি সমস্যা হলো-বিকল্প জ্বালানি উৎসের সীমাবদ্ধতা।

 

যখন একটি অর্থনীতি একটি নির্দিষ্ট জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সেই জ্বালানির সরবরাহে সামান্য বিঘœও বড় সংকটে রূপ নেয়। এই নির্ভরশীলতা সিন্ডিকেটদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, কারণ তারা জানে-বাজারে চাহিদা যেকোনো পরিস্থিতিতেই থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন আসে-সিন্ডিকেট কীভাবে কাজ করে? সাধারণত তারা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত থাকে। তারা সমন্বিতভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে দেয়, মজুদ করে রাখে এবং নির্দিষ্ট সময়ে উচ্চ দামে বাজারে ছাড়ে।

 

অনেক ক্ষেত্রে তারা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমেও বাজারকে প্রভাবিত করে। এটি একধরনের ‘কার্টেল বিহেভিয়ার’, যেখানে কয়েকটি পক্ষ একসঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এই ধরনের কর্মকা- প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থার পরিপন্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তবে সমস্যার সমাধান খুঁজতে গেলে আমাদের কেবল সিন্ডিকেটকে দায়ী করলেই চলবে না। আমাদের বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোও স্বীকার করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বাড়ানো যায়, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং তথ্য সহজলভ্য করা যায়, তাহলে মজুদদারির সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।

 

এছাড়া প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। যদি বাজারে আরও বেশি অংশগ্রহণকারী থাকে এবং কোনো একক গোষ্ঠীর আধিপত্য না থাকে, তাহলে কার্টেল গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি, যাতে তারা গুজবের ফাঁদে না পড়ে। এখানে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারণ, তদারকি এবং আইন প্রয়োগ-এই তিনটি ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে, বাজারে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো অত্যন্ত জরুরি।

 

কারণ, তথ্যের অভাবই গুজবের জন্ম দেয়, আর গুজবই সংকটকে ত্বরান্বিত করে। সবশেষে বলা যায়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ একটি জটিল অর্থনৈতিক সমস্যা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাজার কাঠামো, মানব আচরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। এই সমস্যার সমাধানও তাই বহুমাত্রিক হতে হবে-শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং নীতি সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

লেখক: সংবাদ কর্মী