শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা, অবসরকালীন আনুতোষিকসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবসরকালীন আনুতোষিক, থানায় যাতায়াত ভাতা ও মোবাইল ফোনের খরচও বাড়ানো হয়। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে এসব ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব ও গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা রক্ষায় গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের কোথায় কী ঘটছে, কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে কিংবা কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, এসব বিষয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সুবাদে আগাম তথ্য পেতে পারেন। এসব তথ্য দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন নিরাপদ থাকলে পুরো বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি বজায় রাখা গেলে তার ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় পর্যায়েও পড়বে। শহরায়ন ও নগরায়ন বাড়লেও দেশের অধিকাংশ মানুষের শিকড় এখনও গ্রামকেন্দ্রিক। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গ্রামাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সমাজেও ব্যাপক অবক্ষয় ঘটেছিল। বিভিন্ন স্বার্থ ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বকে উসকে দিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছিল। এর প্রভাব পরিবার থেকে শুরু করে তৃণমূল সমাজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে সমাজকে বের করে আনতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। এসব মূল্যবোধ সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের অবশ্যই আইনসম্মত, মানবিক, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব হতে হবে। একটি নিরাপদ ইউনিয়ন বা গ্রাম গড়ে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ এবং সচেতন জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই তিন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় যত ভালো হবে, গ্রাম ও ইউনিয়নগুলো তত বেশি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে।

তিনি আরও বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তাদের অনেক কাজ সংবাদপত্রের শিরোনাম হয় না। কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নেওয়া একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্তও স্থানীয় পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে প্রথমবারের মতো গ্রাম পুলিশের জন্য ঈদ বোনাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং তা কার্যকর হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও সারা দেশের ৪০ হাজারের বেশি গ্রাম পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের মাসিক বেতন বেড়েছে ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে গ্রাম পুলিশ প্রধানদের মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অবসরকালীন আর্থিক সুবিধাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অবসরের পর আগে ৭০ হাজার টাকা আনুতোষিক পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে গ্রাম পুলিশ প্রধানদের অবসরকালীন আনুতোষিক ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মোবাইল ফোনের খরচ বাবদ মাসে ১৫০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে স্থানীয় থানায় যাতায়াতের ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। আগে সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যরা থানায় সাপ্তাহিক হাজিরার জন্য ৩০০ টাকা পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এই ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের বিষয়েও নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে আরও দুইজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নারী গ্রাম পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটি নির্ধারণের ঘোষণাও দেন তিনি।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কাজের স্বীকৃতি ও কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দিতে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়কের নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ রাখার সিদ্ধান্তের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব সড়কে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় গাছ লাগানো হবে। পরবর্তী সময়ে গাছগুলো বড় হলে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাইকেল সরবরাহের সময়সীমা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচ বছর পরপর তাদের একটি করে বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এই সময়সীমা কমিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যাতায়াত সুবিধা আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Ads small one

দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেবো।’ কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’

নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এই সময় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।

বিকেল ৩ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে।

নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবো।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।’

প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’

অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হলো পরীমণিকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হলো পরীমণিকে

সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে চট্টগ্রামের ‘ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠান থেকে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে বাদ দিয়েছেন আয়োজকরা। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।

আয়োজকরা জানান, ঢাকা আদালত চত্বরে সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমণির ঘটনার ১৭ দিন আগেই তার সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। তবে সংবাদমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ এবং চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর একটি পোস্টার শেয়ার করে পরীমণি লেখেন, ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম।’

পরে পোস্টারটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ফারুক মুনির।

ফারুক মুনির লেখেন, ‘এই প্রোগ্রামের আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের সহকর্মী দৈনিক সমকালের রবির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে, তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মিটমাট না করলে আপনারা বিকল্প অতিথি খুঁজে নিন।’

তার এই বক্তব্যের পর চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীমণিকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের নতুন পোস্টার প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের খুলশী থানার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
বিএনপির র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপির র‌্যালি। এতে অংশ নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে র‌্যালিটি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কর্মসূচি উপলক্ষে নয়াপল্টনে সকাল থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা।

খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে সকাল থেকেই নয়াপল্টনে আসে নেতা-কর্মীরা। এসময় তাদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে-স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে রেখেছেন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শোভাযাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখে এবং শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকেই এ সুসজ্জিত শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে। এরপর রাজধানীর নির্ধারিত সড়কগুলো পেরিয়ে সেটি গিয়ে থামে মানিক মিঞা অ্যাভিনিউতে। পুরো শোভাযাত্রা যেন সুশৃঙ্খল ও শান্ত পরিবেশেই সম্পন্ন হয়, সেজন্য দলের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে জোরালো প্রস্তুতি। রাস্তায় চলাচলের নিয়ম ও নিয়মশৃঙ্খলা ধরে রাখতে সচেষ্ট আছেন বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা।

পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আশপাশের পুরো এলাকাজুড়ে কড়া নজরদারিতে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

১৯৭৫ সালের আজকের দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে গিয়েছিল। দেশ ও জাতি পেয়েছিল নতুন দিশা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের এ দিনে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এরপর সেনাবাহিনীর ভেতর ও বাইরে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যেও জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন। নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন খালেদ। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসান। ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সেই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। সিপাহি-জনতার মিলিত সেই বিপ্লবে বন্দি অবস্থায় থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। অভূতপূর্ব এক সংহতির নজির সৃষ্টি হয় দেশের রাজনীতিতে। জিয়াউর রহমান চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।