শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

১০ ট্রিলিয়ন ডলারের পুরস্কার! জিততে হলে করতে হবে উদ্ভট সব কাণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
১০ ট্রিলিয়ন ডলারের পুরস্কার! জিততে হলে করতে হবে উদ্ভট সব কাণ্ড

নোবেল পুরস্কার জিতলে মিলবে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার! শুনে চোখ কপালে উঠতেই পারে। তবে আনন্দে আত্মহারা হওয়ার আগে জেনে রাখুন, এই পুরস্কার নোবেল নয়, ‘ইগ নোবেল’। আর পুরস্কারের অর্থ মার্কিন ডলারে নয়, জিম্বাবুয়ের ডলারে! তাই অঙ্কটা যত বড়, তার আর্থিক মূল্য ততটা নয়। তবে এই পুরস্কার জেতার জন্য যে ধরনের গবেষণা করতে হয়, তা শুনলে হাসি চেপে রাখা কঠিন।

১৯৯১ সাল থেকে ‘অ্যানালস অব ইমপ্রোবাবল রিসার্চ’ নামের একটি পত্রিকা এই পুরস্কারের আয়োজন করছে। নোবেল পুরস্কারের প্যারোডি হিসেবে পরিচিত ইগ নোবেল দেওয়া হয় এমন গবেষণার জন্য, যা প্রথমে হাসায়, পরে ভাবায়। ২০২০ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের গবেষণার বিষয়গুলিও ছিল বেশ অদ্ভুত।

হিলিয়াম খেয়ে কুমিরের গলা চিকন!

হিলিয়াম গ্যাসে মানুষের গলার স্বর চিকন হয়ে যায়। এই গ্যাস কুমিরের স্বরে কী প্রভাব ফেলে, তা পরীক্ষা করেন জাপানের কয়েকজন গবেষক। কুমিরকে হিলিয়াম মেশানো বাতাসে রেখে তাঁরা দেখেন, তার ডাকও হয়ে উঠেছে তীক্ষ্ণ ও অদ্ভুত। এই গবেষণার জন্য ধ্বনিবিজ্ঞানে ইগ নোবেল পান তাঁরা।

ভ্রু দেখেই চিনবেন আত্মপ্রেমী!

মানুষের ভ্রুর আকার ও ঘনত্ব দেখে তার মধ্যে আত্মপ্রেমের প্রবণতা রয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করেন দুই গবেষক। এমনকি একজনের ভ্রু অন্যের ছবিতে বসিয়েও পরীক্ষা চালান তাঁরা। এই অভিনব গবেষণার জন্য মনোবিজ্ঞানে ইগ নোবেল জোটে তাঁদের।

কলিংবেল বাজিয়ে পালানোর কূটনীতি!

ছোটদের মতো কলিংবেল বাজিয়ে পালানোর ঘটনা ঘটেছিল ভারত ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গেও! দুই দেশের কূটনীতিকদের অভিযোগ, গভীর রাতে তাঁদের বাসার কলিংবেল বাজানো হতো, কিন্তু দরজা খুলে কাউকে পাওয়া যেত না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগও উঠেছিল। এমন পাল্টাপাল্টি ঘটনার জন্য শান্তি বিভাগে ইগ নোবেল দেওয়া হয় দুই দেশের সরকারকে।

শব্দের তালে নাচে কেঁচো!

উচ্চমাত্রার শব্দ তরঙ্গের প্রভাবে কেঁচোর নড়াচড়া নিয়ে গবেষণা করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই বিজ্ঞানী। তাঁদের পরীক্ষায় দেখা যায়, শব্দ তরঙ্গের কারণে পানিতে ঢেউ তৈরি হয়, আর কেঁচোর নড়াচড়াতেও দেখা যায় একই ধরনের প্রভাব। এই গবেষণার জন্য পদার্থবিদ্যায় ইগ নোবেল পান তাঁরা।

চুমুর সঙ্গে দেশের আয়ের সম্পর্ক!

একটি দেশের জাতীয় আয়ের সঙ্গে মানুষের চুমু খাওয়ার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করেন একদল বিজ্ঞানী। এমন অপ্রত্যাশিত বিষয় নিয়ে গবেষণার জন্য অর্থনীতি বিভাগে ইগ নোবেল জেতেন তাঁরা।

খুনের দায়িত্বও অন্যকে দিয়ে!

চীনের পাঁচ ভাড়াটে খুনির কাণ্ড ছিল আরও অদ্ভুত। একজন খুনের দায়িত্ব পেয়েও নিজে কাজটি না করে আরেকজনকে ভাড়া করেন। সেই ব্যক্তিও একই কাজ করেন। এ ভাবে একের পর এক দায়িত্ব হাতবদল হতে হতে শেষ পর্যন্ত পাঁচজনই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এই অদ্ভুত ব্যবস্থাপনার জন্য ইগ নোবেল পান তাঁরা।

মাকড়সা কিন্তু পোকা নয়!

কীটতত্ত্ববিদদের মধ্যে যারা মাকড়সাকে ভয় পান, তাদের আশ্বস্ত করেছেন বিজ্ঞানী রিচার্ড ভেটার। তাঁর বক্তব্য, মাকড়সা কীটপতঙ্গ নয়। কারণ, কীটপতঙ্গের পা ছয়টি হলেও মাকড়সার পা আটটি। এই গবেষণার জন্য কীটবিজ্ঞান বিভাগে ইগ নোবেল পান তিনি।

খাবার চিবোনোর শব্দেও অস্বস্তি!

অনেকে অন্যের খাবার চিবোনোর শব্দ সহ্য করতে পারেন না। এই সমস্যার নাম মিসোফোনিয়া। নির্দিষ্ট কিছু শব্দে কেন কারও তীব্র অস্বস্তি হয়, তা নিয়ে গবেষণা করেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁদের কাজের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইগ নোবেল দেওয়া হয়।

বিশ্বনেতাদেরও ইগ নোবেল!

২০২০ সালে চিকিৎসাশিক্ষা বিভাগে ইগ নোবেল পান একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদি, বরিস জনসন, ভ্লাদিমির পুতিনসহ আরও কয়েকজন। করোনা মহামারিতে মানুষের জীবন-মৃত্যুর উপর রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবের বিষয়টি ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরার জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

মল দিয়ে তৈরি ছুরি, কিন্তু কাজে এল না!

মানুষের জমাট মল দিয়ে ছুরি তৈরি করে তার কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন একদল গবেষক। পরীক্ষায় দেখা যায়, সেই ছুরি বিশেষ কাজে আসে না। এমন অদ্ভুত গবেষণার জন্যও জুটেছে ইগ নোবেল।

উদ্ভট সব গবেষণার আড়ালে ইগ নোবেলের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু বিজ্ঞানকে নিয়ে হাসাহাসি নয়। বরং এমন প্রশ্ন ও আবিষ্কারকে সামনে আনা, যা প্রথমে হাসির উদ্রেক করলেও পরে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

Ads small one

দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেবো।’ কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’

নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এই সময় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।

বিকেল ৩ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে।

নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবো।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।’

প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’

অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হলো পরীমণিকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হলো পরীমণিকে

সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে চট্টগ্রামের ‘ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠান থেকে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে বাদ দিয়েছেন আয়োজকরা। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।

আয়োজকরা জানান, ঢাকা আদালত চত্বরে সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমণির ঘটনার ১৭ দিন আগেই তার সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। তবে সংবাদমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ এবং চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর একটি পোস্টার শেয়ার করে পরীমণি লেখেন, ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম।’

পরে পোস্টারটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ফারুক মুনির।

ফারুক মুনির লেখেন, ‘এই প্রোগ্রামের আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের সহকর্মী দৈনিক সমকালের রবির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে, তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মিটমাট না করলে আপনারা বিকল্প অতিথি খুঁজে নিন।’

তার এই বক্তব্যের পর চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীমণিকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের নতুন পোস্টার প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের খুলশী থানার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
বিএনপির র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপির র‌্যালি। এতে অংশ নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে র‌্যালিটি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কর্মসূচি উপলক্ষে নয়াপল্টনে সকাল থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা।

খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে সকাল থেকেই নয়াপল্টনে আসে নেতা-কর্মীরা। এসময় তাদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে-স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে রেখেছেন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শোভাযাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখে এবং শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকেই এ সুসজ্জিত শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে। এরপর রাজধানীর নির্ধারিত সড়কগুলো পেরিয়ে সেটি গিয়ে থামে মানিক মিঞা অ্যাভিনিউতে। পুরো শোভাযাত্রা যেন সুশৃঙ্খল ও শান্ত পরিবেশেই সম্পন্ন হয়, সেজন্য দলের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে জোরালো প্রস্তুতি। রাস্তায় চলাচলের নিয়ম ও নিয়মশৃঙ্খলা ধরে রাখতে সচেষ্ট আছেন বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা।

পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আশপাশের পুরো এলাকাজুড়ে কড়া নজরদারিতে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

১৯৭৫ সালের আজকের দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে গিয়েছিল। দেশ ও জাতি পেয়েছিল নতুন দিশা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের এ দিনে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এরপর সেনাবাহিনীর ভেতর ও বাইরে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যেও জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন। নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন খালেদ। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসান। ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সেই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। সিপাহি-জনতার মিলিত সেই বিপ্লবে বন্দি অবস্থায় থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। অভূতপূর্ব এক সংহতির নজির সৃষ্টি হয় দেশের রাজনীতিতে। জিয়াউর রহমান চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।