মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত আশাশুনি: পরীক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমজীবীদের চরম দুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত আশাশুনি: পরীক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমজীবীদের চরম দুর্ভোগ

আশাশুনি সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী ও অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়া ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। গরমের তীব্রতার মধ্যে বিদ্যুতের এই সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।

 

উপজেলার কুল্যা, খাজরা, বুধহাটা, আনুলিয়া, প্রতাপনগর, দরগাপুর ও শোভনালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দিনে-রাতে মিলিয়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও একটানা ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে নেমে আসে চরম অস্বস্তি। আবার বিদ্যুৎ এলেও ভোল্টেজ এত কম থাকে যে ফ্যান ঘোরে ধীরগতিতে, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ঠিকমতো চলে না।

 

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বেড়েছে বহুগুণ। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে চোখের সমস্যা ও মানসিক চাপ বাড়ছে। খাজরা এলাকার এক শিক্ষার্থী জানায়, “রাতে যখন পড়তে বসি, তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার কখন আসবে তারও নিশ্চয়তা নেই। এতে করে পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে।”

 

অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আশাশুনি একটি কৃষিনির্ভর এলাকা হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকট সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষিতে। বর্তমানে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য সেচের প্রয়োজনীয় সময়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন, যা খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং লাভের পরিমাণ কমে আসছে।

 

বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কারিগরি পেশাজীবীরাও। ওয়েল্ডিং, রাইস মিল, আইসক্রিম কারখানা, ফ্রিজনির্ভর দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। অপর দিকে ইজি বাইক, ব্যাটারি চালিত ভ্যান শ্রমিকরা পড়েছে বিপাকে। তার ঠিকমত তাদের পরিবহন চার্জ করতে না পারায় আত্মমানবেতর ভিতর দিদয়ে জীবন যাপন করছে। শোভনালী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে কাস্টমারও কম আসে। ফ্রিজের জিনিস নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

 

এছাড়া সেলুন, মোবাইল সার্ভিসিং ও কম্পিউটার দোকানগুলোর কাজও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে করে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের আয় কমে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না, ফলে শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে। একই সঙ্গে পানি সরবরাহেও বিঘœ ঘটছে, কারণ অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে পানি তোলা হয়। স্থানীয় এক গৃহিণী বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে পানি ওঠে না। রান্না-বান্না সবকিছুতেই সমস্যা হয়। ছোট বাচ্চারা গরমে কষ্ট পাচ্ছে।”

 

পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই লোডশেডিং হচ্ছে। আশাশুনি এলাকায় ১৬/১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎের চাহিদা থাকলেও ৭/৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একাধিক বাসিন্দা বলেন, “যদি নির্দিষ্ট সময় জানানো থাকত, তাহলে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারতাম। এখন হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।”

 

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, অন্তত পরীক্ষার সময় এবং সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বা সহনীয় মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট লোডশেডিং সূচি প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও কার্যকর সমন্বয় ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। অন্যথায় শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হবে।

Ads small one

কয়রায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
কয়রায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়। সেটি উপজেলার সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মৃন্ময় কুমারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন অফিসার মোঃ আকবর হোসেন, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শহিদ সারোয়ার স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আমিন প্রমুখ।

৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর পৌরসভা ভবন সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরির পাশে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর দখলমুক্ত করেছে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ওই জমি উদ্ধার করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিটি বিভিন্ন দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের অভিযানের পর জমিটি দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর ভবন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পাবলিক লাইব্রেরি ও সরকারি প্রভাতি বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়। গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের দিকে প্রভাবশালী একটি মহল নামমাত্র ডিসিআর নিয়ে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দখল করে সেখানে মুরগি, মুদি, মিষ্টি ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিল। পরবর্তীতে নাগরিকদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট ডিসিআর বাতিল করে সরকার জমিটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ওই জমির একটি অংশ পুনরায় দখল করে পাঁচটি টিনশেড দোকান নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনকে এসব দোকান ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মুরগির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং পাশেই অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চা ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্য নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সুতারং দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং উপজেলা প্রশাসন প্রশাংসায় ভাষছে ।

কয়রায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত পাঁচ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও পুরুষ রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা ভালো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীরা হলেন-সোনালী (২০), শুহিনা (২২), ইকবাল (৩৫), জাহাঙ্গীর (২৬) ও রিয়াজ মোল্ল্যা (২৩)।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ওই পাঁচজনের রক্তে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বর্তমানে তাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, “জ্বর নিয়ে পাঁচজন চিকিৎসা নিতে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের রক্তে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। কারও অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হবে।”