সম্পাদকীয়: শিশু ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রকোপ ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ৫০ দিনে জেলা সদরের তিনটি প্রধান হাসপাতালে ১ হাজার ৭১৮ জন শিশুর ভর্তির পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্যের এক চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে সদর হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে যে হারে ভিড় বাড়ছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্চ-এপ্রিলের এই অস্বাভাবিক গরম শিশুদের শরীরের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। তীব্র গরমে পানিশূন্যতা থেকে শুরু করে জ্বর, বমি এবং ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। তবে কেবল আবহাওয়া নয়, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং পচা-বাসি খাবারের অসতর্ক ব্যবহার এই সংক্রমণকে আরও ত্বরান্বিত করছে। শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি ওরস্যালাইন ও তরল খাবারের পরামর্শ চিকিৎসকরা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।
শুক্রবার দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংকট প্রকট। ডায়রিয়ার মতো একটি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ওপর সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকা এবং রোগীদের প্রায় সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হওয়া দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য “মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা” হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে স্যালাইন ছাড়া অন্য ওষুধ না পাওয়া গেলে সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর আস্থা যেমন কমে, তেমনি দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার যে শয্যা সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন, তা নিরসনে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী ওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার অধিকার সাধারণ মানুষের আছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ডায়রিয়া প্রতিরোধে প্রচার চালাতে হবে। শিশুদের খাবার ও পানির বিশুদ্ধতা রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, ডায়রিয়া প্রতিরোধযোগ্য রোগ। যদি সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা না যায়, তবে এর দায় প্রশাসন এড়াতে পারবে না। আমরা আশা করি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সাড়া দেবেন এবং শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরাবাসীকে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবেন।






