মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলে বাড়ি ফিরলেন ৫৪ বছর পর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলে বাড়ি ফিরলেন ৫৪ বছর পর

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সাগরে ৫৪ বছর আগে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া এক জেলে হঠাৎ বাড়ি ফিরে এসেছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাগরে যার সলিল সমাধি হয়েছিল ভেবে স্বজনরা অপেক্ষার প্রহর গোনা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই ছৈয়দ আহাম্মদ (৮৩) বৃদ্ধ বয়সে আবারও ফিরে এসেছেন নিজের ভিটেমাটি ও স্বজনদের কাছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর ফিরে আসা ব্যক্তিকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজির হচ্ছেন অনেকে।

শুক্রবার (৮ মে) এ ঘটনায় ফিরে আসা বৃদ্ধের ছেলে আকরাম (৫৩) হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবিঘা গ্রামের ফজলি বাড়িতে তিনি ফিরে আসেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ দশক আগে কুতুবদিয়া উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন ছৈয়দ আহাম্মদ। দীর্ঘদিন তার কোনও খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ধরে নেয় তিনি আর বেঁচে নেই। পরে স্বজনরা স্বাভাবিক জীবনেও ফিরে যান।

পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর কোনোভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন এলাকায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাটান তিনি। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

গত ৫ মে দুপুরে হাতিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন ছৈয়দ আহাম্মদ। বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দিলে প্রথমে অনেকে বিস্মিত হন। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা তাকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। তবে দীর্ঘদিন পর ফিরে আসার এই ঘটনায় পরিবারে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।

ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ও টাকাপয়সা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন বলে মন্তব্য করেছেন। হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ ৫৪ বছর পর জীবিত ফিরে আসবেন, এটা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। তবে বাড়িতে ফেরার পর তাকে ঘিরে পারিবারিক টানাপোড়েনও সৃষ্টি হয়েছে।

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, বৃদ্ধের ছেলে আকরাম জানিয়েছেন তার বাবা ফেরত আসার পর তার চাচাতো ভাইদের কাছে উঠেছেন। পরে সামাজিক সিদ্ধান্তে তার কাছে থাকার জন্য বলেছেন। তবে তার চাচাতো ভাইয়েরা তার কাছে থাকতে দিচ্ছেন না।

Ads small one

কয়রায় যথাযোগ্য মর্যাদায় কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় যথাযোগ্য মর্যাদায় কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী পালিত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা, আবৃত্তি, সংগীত ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে খুলনার কয়রায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে উপজেলা প্রশাসন।
দুপুর একটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল্লাহ আল বাকী। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা জাতীয় কবির জীবন ও সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম মাওলা বকস, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ, কয়রা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াছাদ আলী, সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান মনু এবং শিক্ষার্থী তাহসিন তাবাসসুম জাইমা ও মেহেদী হাসান।
জাতীয় কবির অমর সৃষ্টিকে স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলচর্চা বাড়ানোর ওপর জোর দেন বক্তারা। আলোচনা সভা শেষে দিনভর অনুষ্ঠিত কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, নৃত্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শ্যামনগরে পিপিআর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে পিপিআর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ কুলতলীতে গৃহপালিত পশুর অতিসংক্রামক রোগ পিপিআর (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধে বিনামূল্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টায় কুলতলী গ্রামের হরি মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় শতাধিক পরিবারের গবাদিপশুকে এই প্রতিরোধক টিকা দেওয়া হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘লিডার্স’ ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপকূলীয় কৃষিভিত্তিক অঞ্চলের মানুষের জীবিকার বড় অংশ আসে গরু, ছাগল ও ভেড়া পালনের মাধ্যমে। তবে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে এ অঞ্চলে প্রচুর গবাদিপশু মারা যাওয়ায় প্রান্তিক খামারিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন।
টিকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভ্যাকসিনেটর সুদীপ্ত বিশ্বাস, মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের এআইটি প্রতিনিধি উত্তম কুমার গাইন, লিডার্সের প্রকল্প সমন্বয়কারী (কল প্রকল্প) মৃণাল কুমার সরকার, প্রকল্প কর্মকর্তা সুব্রত কুমার গাইন, নেলসন সুমন ম-ল, কানিজুর রহমান ও অনুপ কুমার ম-ল।
সময়োপযোগী এ টিকাদান কর্মসূচির ফলে উপকূলের প্রান্তিক খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

দেবহাটায় ২৫ এতিম শিশু পেল খাদ্য, পোশাক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় ২৫ এতিম শিশু পেল খাদ্য, পোশাক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী

দেবহাটা প্রতিনিধি: সীমান্তবর্তী দেবহাটা উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জন এতিম শিশুর মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। চলতি বছরের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন মাসের খাদ্যসামগ্রী, নতুন জামাকাপড়, জুতা-মোজা ও হাইজিন প্যাক (স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী) পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিশুরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন সংস্থা ‘ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর ‘অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রাম’-এর অধীনে এই সহায়তা বিতরণ করা হয়। দেশে মোট ৪০০ এতিম শিশুকে এ প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিশুদের হাতে উপহার তুলে দেন সংস্থার অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রামের জুনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মো. সাজিদ আল আহাদ, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. শরিফুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রবীর হ্যাজারী, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডা. অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।
সহায়তা হিসেবে প্রতি শিশুর জন্য ছিল ৩০ কেজি চাল, ৬ কেজি সয়াবিন তেল, ৩ কেজি মসুরের ডাল, ৩ কেজি চিনি, ১.৫ কেজি গুঁড়ো দুধ, ৩ জার হরলিক্স, ৩ প্যাকেট নুডুলস, ১.৫ কেজি বাদাম, ৩ জার বিস্কুট, ৩ বক্স চকলেট ও ৬ কেজি মৌসুমি ফল।
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেওয়া হয় ৪টি টুথপেস্ট, ৪টি ব্রাশ, ৬টি গায়ে মাখার সাবান, ১২টি কাপড় কাচার সাবান, ৪টি হ্যান্ডওয়াশ, ৪টি বডি লোশন, ৪টি পেট্রোলিয়াম জেলি, চিরুনি ও নেল কাটার। নতুন পোশাক ও জুতা পেয়ে আগামীর দিনগুলোতে আরও ভালোভাবে থাকার স্বপ্ন বুনছে এই শিশুরা।