শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দিনে আয় করছে ১৬ লাখ টাকা, কীভাবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দিনে আয় করছে ১৬ লাখ টাকা, কীভাবে?

দীর্ঘ দুই মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরে আটকে আছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। যেখানে আছেন ৩১ জন নাবিক। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পার হতে পারছে না জাহাজটি। তবে আটকে পড়া জাহাজের ৩১ নাবিক সুস্থ আছেন। জাহাজে পর্যাপ্ত মজুত আছে খাদ্য পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

তবে জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকলেও নেই লোকসানে। বরং প্রতিদিন আয় করছে ১৬ লাখ টাকা করে। এমন তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৪২ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’’ জাহাজটি নোঙর করে আছে। হরমুজ প্রণালি যখন উন্মুক্ত করা হবে কিংবা জয়যাত্রা জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি পাবে তখন চলে আসবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা তৎপরতা চলছে। আশা করছি শিগগিরই পার হওয়ার অনুমতি মিলবে।’

বিএসসির পরিচালক বলেন, ‘জাহাজে থাকা ৩১ নাবিক সুস্থ আছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তবে জাহাজটিতে ৩৭ হাজার টন সার বহন করে আছে। হরমুজ প্রণালি পার হতে পারলে জাহাজটি লোড করা সার নিয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। চুক্তি অনুযায়ী জাহাজে সার লোড করার কারণে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন বাংলাদেশি টাকায় ১৬ লাখ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে। জাহাজের ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। যতদিন আটকে থাকবে ততদিন এ টাকা পাওয়া যাবে। যে কারণে যুদ্ধের মধ্যেও জাহাজটির আয় বন্ধ হয়নি।’

এর আগে দুই দফা চেষ্টার পরও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি জয়যাত্রা জাহাজ। এর মধ্যে গত ১৭ এপ্রিল ইরান হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণার পর রাতে নোঙর তুলেছিল শারজাহ বন্দরের কাছে থাকা জাহাজটি। পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জাহাজটি আটকে দেয়।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল ভোরে যুদ্ধবিরতির পর আটকে থাকা জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য নোঙর তোলে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলার পর ১০ এপ্রিল জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়। হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে।’

বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে নোঙর করে সেটি। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। পরে গত ১১ মার্চ জেবেল আলি বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়।

এর আগে, ২০২২ সালের ১ মার্চ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের কাছে আটকে পড়া বিএসসির জাহাজ এমভি ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিএসসি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয় বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নির্মাণ করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি কেনা হয়েছিল।

Ads small one

ইরানে পালানো সেই মার্কিন নারী গোয়েন্দা কর্মকর্তার খোঁজে ২ লাখ ডলার পুরস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানে পালানো সেই মার্কিন নারী গোয়েন্দা কর্মকর্তার খোঁজে ২ লাখ ডলার পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিকা উইটকে ধরিয়ে দিতে ২ লাখ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ২০১৩ সালে তিনি ইরানে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে তিনি সেখানে বসেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এফবিআই বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ইতিহাসের এই ‘সংকটময় মুহূর্তে’ মনিকা উইটের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনও তথ্য থাকলে তা সংস্থাটিকে জানাতে। ওয়াশিংটনে এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ওয়াইরজবিকি বলেন, ‘এফবিআই তাকে ভুলে যায়নি। আমরা তাকে বিচারের আওতায় আনতে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি।’

মনিকা উইট যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর অফিস অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশনস-এ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডেমার্স অভিযোগ করেছিলেন, ইরান সুকৌশলে মনিকাকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে গেছে। এরপর তিনি ইরানে পালিয়ে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচি ফাঁস করে দেন। এমনকি তিনি একজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিচয়ও প্রকাশ করে দেন, যার ফলে ওই কর্মকর্তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মনিকা ইরান ও ইরানের বাইরের গোয়েন্দাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এমন সব নথি ও তথ্য সরবরাহ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি এবং ইরানের সুবিধায় ব্যবহৃত হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইরানে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশটির কর্মকর্তারা মনিকাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঘরবাড়ি, কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা প্রদান করেছেন। বর্তমানে মনিকা উইটের কোনও আইনি প্রতিনিধি বা আইনজীবী রয়েছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

কমলো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
কমলো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পাকা সোনার দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ মে সোনার দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মাত্র আট দিনের ব্যবধানে এখন একই পরিমাণ অর্থ কমানো হলো।

তবে সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দামে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামার প্রভাবেই দেশের বাজারে সোনার দামে এ সমন্বয় করা হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে মন্ত্রী-এমপিরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে মন্ত্রী-এমপিরা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন তারেক রহমান। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন—অভিযোগ পেলে যে যত বড় পদেই থাকুন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের বেলায়ও এ পদক্ষেপ আরও জোরালো হবে। তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে চায় সরকার। সর্বশেষ গত ১০ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে দলের এক কর্মসূচিতে সেই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হচ্ছে। আসলে কোন প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে একেকজন একেকভাবে বিশ্লেষণ করছেন।

জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে নির্বাচিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাৎ হোসেন সেলিম  বলেন, ‘‘আমাদের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অনেক বিষয়েই আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই আমাদের যেকোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বক্তব্য রাখেন। আবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মন্ত্রী-এমপিদের ত্রুটি-বিচ্যুতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব কাজ তদারকি করছেন। তিনি কাউকেই জবাবদিহির বাইরে রাখতে চান না। এ জন্য ইতোমধ্যে আমরাও যেকোনও কাজের আগে সতর্কতা অবলম্বন করছি।’’

প্রধানমন্ত্রী যা বলেছিলেন

জাতীয় সংসদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেও এমপি-মন্ত্রীদের জবাবদিহির বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১০ মে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি ও তিনটি সহযোগী সংগঠনের যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কাউকেই অন্যায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে মন্ত্রী-এমপিদের।’’

তিনি জানান, প্রতি তিন মাস অন্তর এধরনের সভার মধ্য দিয়ে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, অনিয়ম যেমন সামনে আনা হবে, তেমনই সরকারের নেওয়া উদ্যোগকেও দল ও নেতাকর্মীর সামনে তুলে ধরা হবে।

অতীতের পুনরাবৃত্তি নাকি যথাযথ বাস্তবায়ন?

সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে বারবার মন্ত্রী-এমপিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তবে এর প্রক্রিয়া বা সদিচ্ছা নিয়েও হচ্ছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকে বলেছেন, অতীতে এ ধরনের প্রতিশ্রুতির অভিজ্ঞতা তেমন ভালো নয়। তারপরও সরকারকে আরও সময় দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ  বলেন, ‘‘অতীতের সব সরকারই শুরুতে দুর্নীতিসহ যেকোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। মন্ত্রী-এমপিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তেমন দেখা যায়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। চাইলে প্রতি একবছর পরপর মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের বিবরণী চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমার দৃষ্টিতে সরকার-প্রধান অনেক কথাই রাখতে পারছেন না। সার্বিক বিষয়ে লক্ষণ ভালো মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে সরকার কোনও কিছু খোলাসা করছে না। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও এখন মনে হচ্ছে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র। এর বাইরেও কিছু মন্ত্রী-এমপির বিষয়ে নানা বিতর্ক দেখা গেছে। তবে সরকার যেহেতু ৬ মাস সময় চেয়েছে, তাই আমরা তাদের আরও সময় দিতে চাই।’’

একই কথা বললেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘‘পুরোনো জামানাতেও সরকার-প্রধানরা নিজেদের দলীয় মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির বিষয়ে অনেক কথা বলতেন। কিন্তু পরবর্তী অভিজ্ঞতা তেমন ভালো ছিল না। তারেক রহমান দলের মন্ত্রী-এমপিসহ নেতাদের বিষয়ে যা বলেছেন, তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই। অন্যথায়, জনগণ আগের সরকারগুলোর সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য খুঁজতে শুরু করবে। কথায় আছে, যেকোনও ভালো কাজ নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হয়।’’

কোন প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে সরকার?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকার মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছেন সরকারপ্রধান। এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রীর-এমপির ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর হাতে জমা হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু দুর্নীতিই নয় বরং যেকোনও পেশিশক্তি বা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর। তাদের বিশ্বাস—প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে দেশে সুশাসন এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ  বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। তিনি নিয়মিত মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রমের খোঁজ-খবর রাখছেন। সরকার সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। তাই কোনও অনিয়ম ও অন্যায়কারীকেই প্রধানমন্ত্রী ছাড় দেবেন না।’’