সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ কাম্য নয়
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া ‘কেবিএস’ প্রকল্পের বর্তমান স্থবিরতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ীÑপ্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর (বিশেষ করে বালু) তীব্র অভাবের কারণে কাজ মাঝপথে থমকে গেছে। রাস্তা খুঁড়ে রাখা ও সেতুর সংযোগ সড়ক অসম্পূর্ণ থাকায় বর্ষার শুরুতেই তিন জেলার কয়েক লাখ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এখন চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। উন্নয়ন যেখানে আশীর্বাদ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং উপাদানের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ অপরিহার্য। কেবিএস প্রকল্পের ক্ষেত্রে এর বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। একদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও যন্ত্রপাতি চালানোর খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে নদী থেকে বালু উত্তোলনে বিধিনিষেধের কারণে দেবহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ প্রায় বন্ধ। এর ওপর যোগ হয়েছে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রশাসনিক চাপ। ঠিকাদারদের দাবি অনুযায়ী, লোকসানের আশঙ্কায় কাজ বন্ধ রাখা বা ধীরগতি করার প্রবণতা কোনো সুসংবাদ নয়। কারণ, তাড়াহুড়ো করে বা লোকসান ঠেকাতে গিয়ে কাজের গুণগত মানের সঙ্গে আপস করার একটি বড় ঝুঁকি থেকে যায়। উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয় জনগণের সুবিধার জন্য। কিন্তু সেই কাজ অনির্দিষ্টকাল ঝুলে থাকলে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছায়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই বাস্তবতায় নতুন কোনো বিলাসী বা বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার চেয়ে চলমান অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্যরা যে স্থানীয় সরকার বিভাগে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়ে অসমাপ্ত কাজ আগে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষ যে জ্বালানি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে সময় বাড়ানোর কথা ভাবছে, তা ইতিবাচক। তবে কেবল সময় বাড়ানোই সমাধান নয়, বরং নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহ কীভাবে স্বাভাবিক করা যায়, সেই সংকটও দ্রুত সমাধান করতে হবে।
আমরা মনে করি, শুধু প্রশাসনিক চাপ দিয়ে বা চোখ বন্ধ করে নিয়ম রক্ষার কাজ শেষ করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব সংকটগুলোকে সমন্বয় করে একটি মধ্যপন্থা বের করতে হবে। জনভোগান্তি আর এক দিনও না বাড়িয়ে, কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কেবিএস প্রকল্প সম্পন্ন করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এলজিইডি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।









