আলোচনার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
শান্তি আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নিজেদের বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে ‘আত্মরক্ষামূলক’ এই হামলা চালানো হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন পেতে চেষ্টা করা ইরানি নৌযান। তবে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি সেন্টকম।
ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সমুদ্রে একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। হামলায় আইআরজিসির কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার জানান, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
ফিশার বলেন, যুদ্ধবিরতির পর থেকেই এ ধরনের ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এসব ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন না।
এদিকে সোমবার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে থাকা জটিলতা নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁরা সেখানে গেছেন।
প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
একই দিনে ট্রাম্প বলেন, শান্তি আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বড় ধরনের সমঝোতা ছাড়া তিনি কোনো চুক্তিতে যাবেন না।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘এটি হয় সবার জন্য একটি বড় চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না। অন্যথায় আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে, এবং তা হবে আরও বড় ও শক্তিশালী।’
শান্তি আলোচনার সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের বিষয়টিও যুক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তানসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে।
২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সই হওয়া আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সুদানও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হলেও এখনো তা অনুমোদন দেয়নি।
সোমবার আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে অথবা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে ধ্বংস করা হতে পারে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা অগ্রসর হলেও এখনই কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করা যাবে না।
তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে চুক্তি সইয়ের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে না; বরং যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।











