শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস: বিচারহীনতার অন্ধকার দূর করার বৈশ্বিক অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস: বিচারহীনতার অন্ধকার দূর করার বৈশ্বিক অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ১৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস, যা আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার দিবস নামেও পরিচিত। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করা।
১৯৯৮ সালের ১৭ জুলাই রোম সম্মেলনের মাধ্যমে ‘রোম সংবিধি’ গৃহীত হয়, যা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে। ২০০২ সালের ১ জুলাই নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আদালতটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১০ সালে কাম্পালা সম্মেলনে ১৭ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ আদালতের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী বিচারিক প্রতিষ্ঠান।
ন্যায়বিচার কেবল আন্তর্জাতিক আইনের বিষয় নয়, বরং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের মৌলিক ভিত্তি। পবিত্র কোরআনে একে সমাজ পরিচালনার অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচার করবে’ (সূরা আন-নিসা: ৫৮)। এমনকি স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়ের পক্ষে সাক্ষী হওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা আন-নিসা: ১৩৫) এবং শত্রুর প্রতিও ন্যায়পরায়ণ আচরণের নির্দেশ রয়েছে (সূরা আল-মায়েদাহ: ৮)।
ইসলামের ইতিহাসে ন্যায়বিচার বাস্তবায়নে রয়েছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—মসজিদ নির্মাণের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম দেখে খলিফা ওমর (রা.) তা অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া প্রভাবশালী গোত্রের এক নারীর অপরাধের প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছিলেন, আইনের বিচারে কোনো ছাড় নেই। এমনকি তাঁর নিজের মেয়ে ফাতেমা (রা.)-ও অপরাধ করলে তিনি একই শাস্তি নিশ্চিত করতেন। এসব দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে, প্রকৃত ন্যায়বিচারে অপরাধীর পরিচয় নয়, বরং অপরাধের ধরনই মুখ্য।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংস্থা বিশ্বজুড়ে কাজ করছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা World Justice Project (WJP)–এর ২৮ অক্টোবর ২০২৫ প্রকাশিত জঁষব ড়ভ খধি ওহফবী অনুযায়ী, ১৪৩টি দেশের মধ্যে ডেনমার্ক (স্কোর ০.৯০) আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে নরওয়ে (০.৮৯), ফিনল্যান্ড (০.৮৭), সুইডেন (০.৮৫) এবং নিউজিল্যান্ড (০.৮৩)। অপরদিকে সূচকের সর্বনি¤œ অবস্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা, এরপর আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া, হাইতি ও নিকারাগুয়া। সরকারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারসহ ৮টি সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের প্রায় ৬৮ শতাংশ দেশে আগের বছরের তুলনায় আইনের শাসনের অবনতি ঘটেছে, যা বৈশ্বিকভাবে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের সংবিধানও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ১০২ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তবে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, বিচারাধীন মামলার জট এবং প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীনে ২০০১ সালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ (লিগ্যাল এইড) গঠিত হয়। পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংস্থাটিকে পুনর্গঠন করে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়া ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। একই বছর বাংলাদেশ রোম সংবিধি অনুসমর্থন করে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে বিচার অস্বীকার করাÑএই উক্তিটির মূল কথা হলো, ন্যায়বিচার কেবল সঠিক হলেই চলে না, তা সঠিক সময়ে হওয়াও জরুরি। বিচার পেতে যদি অহেতুক দেরি হয়, তবে তা ভুক্তভোগীকে সুবিচারের পরিবর্তে অনিশ্চয়তা ও হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রমাণের সংকট দেখা দেয়, বিচারপ্রার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আইন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারান। তাই একটি সুশৃঙ্খল সমাজে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে মামলার দ্রুত ও সময়মতো নিষ্পত্তি করা অপরিহার্য, কারণ বিলম্বে পাওয়া ন্যায়বিচার অনেক সময় প্রকৃত বিচারের মর্যাদা হারায়।
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস নিছক কোনো প্রতীকী দিবস নয়, বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিপরীতে জবাবদিহিতার এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার। রাজনৈতিক বা সামরিক ক্ষমতার দোহাই দিয়ে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়; বরং অপরাধীর পরিচয়ের চেয়ে অপরাধের ধরনই বিচারের মূল ভিত্তি। বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও মানব মর্যাদা রক্ষায় ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই, কারণ এর অনুপস্থিতিতেই বৈষম্য ও সহিংসতা ঘনীভূত হয়। তাই স্থানীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

Ads small one

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

তালা প্রতিনিধি: খুলনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তালা প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক যৌথ বিবৃতিতে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দ্দার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংগঠনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম জাতিসংঘ পার্কসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। এতে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মোড় কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নিদিষ্ট স্থানে নির্মাণ কল্পে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর কুলিয়া কাঁচা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ মোড় চত্বরে মসজিদ নির্মাণ কল্পে এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুলিয়া কাঁচা বাজারে ও ইউনিয়ন পরিষদে আসা বহু মুসল্লি উক্ত মসজিদে নামাজ পড়ত। মসজিদটি ভেঙে দেওয়ার কারণে মুসল্লীদের নামাজ পড়তে দুভোর্গে পড়তে যাচ্ছে। সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে পাকা না হলেও এখনি একটি টিন সেটের মসজিদ নির্মাণ করার দরকার। মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুঠিত হয়।

সভায় বক্তব্যে রাখেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. জাহাঙ্গীর কবির বাবু, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন বাবলু, জামায়াত নেতা মাছুম খান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকন, মোসফিকুর রহমান, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইয়াকুব আলী প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদ নির্মাণ কল্পে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আমিনুর রহমানকে আহবায়ক ও অন্যান্য সদস্যরা যথাক্রমে মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান সবুজ, মাসুম খান চৌধুরী, মাওলানা রুহুল আমিন, দেলোয়ার হোসেন বাবলু, সাংবাদিক রুহুল আমিন, আব্দুস সামাদ গাজী, সিরাজুল ইসলাম মোড়ল,এ্যাডঃ আল আমিন, রওশন সরদার, আবুল কাশেম ও মাওলানা ইয়াকুব আলী।

 

 

 

বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের প্রথম এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত।

খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক রাড়ুলী গ্রাম। ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তাঁরও জন্মের ১১ বছর আগে ১৮৫০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুধু তাইনা, এটি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মের প্রায় ৩০ বছর আগের ঘটনা।

দেশের প্রথম ও ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালী নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়। তৎকালীন সময়ে একবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রাড়ুলী গ্রামে বেড়াতে আসেন। তিনি তখন আচার্য পিসি রায়ের বাবা হরিশ চন্দ্রকে নারী শিক্ষার উন্নয়নে একটি আলাদা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য তাগিদ দেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় হরিশ্চন্দ্র নিজ গ্রাম রাড়ুলীতেই তাঁর স্ত্রীর নামে ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি বিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্রী হিসেবে তাঁর স্ত্রী ভুবন মোহিনীকেই ভর্তি করেন। এটিই বাংলাদেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন অনেক জ্ঞানী গুণি মানুষ।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুই শ এর উপরে জন ছাত্রী, ১৫ জন শিক্ষক- শিক্ষিকা এবং ৪জন কর্মচারী রয়েছেন। ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা জাতীয়করণ হয়নি। এটি জাতীয়করণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।

ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষ, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদ মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও জাতীয়করণ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়টি তার গৌরবময় ইতিহাসকে ধারণ করে দেশের নারী শিক্ষায় আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।