বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় সরকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও জেলেদের নিয়ে।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোছাঃ মাহমুদা খানম, ইউপি সদস্য মোছাঃ ফাতেমা খাতুন, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম এবং সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আব্দুর রশিদ।

সভাপতির বক্তব্যে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী বলেন, “সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা শুধু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষ প্রয়োগের ফলে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যায়, যা পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

প্রধান অতিথি মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে জেলেদের বিষমুক্ত পদ্ধতিতে মাছ আহরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”

বিশেষ অতিথি মাহমুদা খানম বলেন, “সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে হলে বন ও নদীর পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আব্দুল হালিম বলেন, “গণমাধ্যম সমাজকে সচেতন করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারণার মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে হবে, তাহলে সুন্দরবনে বিশদিয়ে মাছ ধরা বন্ধ হবে।

ইউপি সদস্য ফাতেমা খাতুন বলেন, “সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যক্তি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের নিরুৎসাহিত করতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
খতিব ও ইমাম হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করা ইসলামের দৃষ্টিতেও অনুচিত। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।”

সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল বলেন, “বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হলে নিয়মিত প্রচারণা, নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”

সভায় উপস্থিত বক্তারা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নদী ও জলজ সম্পদ রক্ষা এবং বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জেলে, বননির্ভর জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

Ads small one

সংবাদ সম্মেলনে রাস্তা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করলেন জামায়াত নেতা ওমর ফারুক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
সংবাদ সম্মেলনে রাস্তা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করলেন জামায়াত নেতা ওমর ফারুক

সংবাদদাতা: নিজের বিরুদ্ধে আনা পারিবারিক রাস্তা দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক।

বুধবার বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্থানীয় মো. শরিফুল আলম (মনু) তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন বলে জানান।

লিখিত বক্তব্যে জামায়াত নেতা ওমর ফারুক দাবি করেন, ইফতা হাউজিং লিমিটেডের পক্ষে তিনি ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা ক্রয় করেছেন, যার উল্লেখ সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত দলিলে সুস্পষ্টভাবে রয়েছে।

তিনি জানান, ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে সম্পাদিত পারিবারিক রেজিস্ট্রি বণ্টননামা অনুযায়ী মো. শরিফুল আলম (মনু) সাবেক দাগ নং-২০৪৯, হাল দাগ নং-৬৩৫২-এর ২৫.৬০ শতক জমির একক মালিক হন। পরে তিনি নিজের সম্পত্তি থেকে ইফতা হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ৫.৮৪ শতক জমি বিক্রয়ের চুক্তি করেন।

ওমর ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল ২০১৬ তারিখের ২৭৮১ নম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ৬ ফুট এবং বিক্রিত অংশ থেকে আরও ৪ ফুটসহ মোট ১০ ফুট প্রশস্ত ও ২৬৭ ফুট দীর্ঘ রাস্তা হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া ১৯ জুলাই ২০১৬ তারিখের ৪৯৫৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমেও খোরশেদ আলম গং-এর নামে জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ওই ১০ ফুট রাস্তার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, নিবন্ধিত দলিলসমূহে ১০ ফুট রাস্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় এটিকে পারিবারিক রাস্তা হিসেবে দাবি করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, এটি মো. শরিফুল আলম (মনু)-এর নিজস্ব সম্পত্তি থেকে নিবন্ধিতভাবে বিক্রয়কৃত রাস্তা।

সংবাদ সম্মেলনে ওমর ফারুক বলেন, তিনি কারও পারিবারিক রাস্তা দখল করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য, বিভ্রান্তিকর এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা বলে তিনি দাবি করেন।

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি নিবন্ধিত দলিল, ভূমি-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানান

 

 

শাল্যে-বেড়াডাঙ্গায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নামলেন এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
শাল্যে-বেড়াডাঙ্গায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নামলেন এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাল্যে ও বেড়াডাঙ্গা গ্রামের প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ পরিস্থিতিতে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমেছেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছ।

বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে তিনি শাল্যে এলাকায় গিয়ে জলাবদ্ধতার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বেতনা নদীর ঘোলের কান্দা এলাকায় পাইপ বসানোর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম শুরু করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।

অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষা এবং মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল হুদা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শাহিনুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ডবলু, শিক্ষক ফিরোজ হোসেন, শেখ আব্দুল ওহাব, বেলাল হোসেন রিপন, সাংবাদিক মো. জামাল উদ্দিন খান, মো. আইয়ুব আলী, জিয়াউর রহমান, আব্দুর রকিব, আব্দুল বারী, আশুতোষ মহালদার, নিতাই, প্রসেনজিৎ, সাকিব, তৌহিদুজ্জামানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে সাতক্ষীরায় সচেতনতামূলক রোড শো অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে সাতক্ষীরায় সচেতনতামূলক রোড শো অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: “মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি কমবে জীবন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে সচেতনতামূলক সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই ‘২৬) বিকালে শহরের কেন্দীয় বাসটার্মিনালে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিআরটিএ সাতক্ষীরার যৌথ আয়োজনে ঘরেফেরা/ঘরমুখো মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এ রোড শো আয়োজন করা হয়।

বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিয়াউর রহমান এর দিক নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত রোড শোতে পথচারী ও চালকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

সকলের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক মাইকিং সঞ্চালনা করেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি) উসমান সরওয়ার আলম।

রোড শো তে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিআরটিএ’র সাতক্ষীরার সার্কেলের মেকানিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ ওবায়দুর রহমান, উচ্চমান সহকারী মোঃ নাসির উদ্দিন।

রোড শোতে বাসটার্মিনাললে চালক/শ্রমিক ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও সাধারণ জনগণ এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।