অনাবৃষ্টিতে পুড়ছে জনপদ: দেবহাটায় তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
Oplus_131072
কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টিতে যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। উপকূলীয় জনপদ দেবহাটায় বইছে তপ্ত লু হাওয়া, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যেন একপ্রকার কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সূর্যের তীব্র তাপ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। খেটে খাওয়া মানুষ-বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী-পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অনেকেই কাজের প্রয়োজনে বের হলেও খুঁজছেন ছায়া আর স্বস্তির সামান্য আশ্রয়।
উপজেলার সখিপুর এলাকার রাজমিস্ত্রির শ্রমিক রবিউল ও শফিকুল, এবং কৃষি শ্রমিক রশিদ, ওসমান ও বাজ্জাক বলেন, “এই তীব্র গরমে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এদিকে, তীব্র গরমের কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত তাপদাহে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও মারাত্মক হতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ অনাবৃষ্টির ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক স্থানে নলকূপে পানি উঠছে না, ফলে দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এ পরিস্থিতিতে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরামর্শ দিয়েছেন-প্রচন্ড রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যতœ নেওয়া জরুরি।
প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি দ্রুত বৃষ্টিপাতের আশায় দিন গুনছেন দেবহাটার মানুষ।









