বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই শনিবার অনুষ্ঠেয় আলোচনায় দূত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী।

রবিবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইসলামাবাদে আলোচনার দ্বিতীয় পর্বের এই বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার কোনও ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াটি সঠিক পথেই রয়েছে।’

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা রাতারাতি কমানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় ‘উভয় পক্ষকেই প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।’

সৈয়দ মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। এতে উত্থান-পতন থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে আশার কথা হলো, যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে এবং উভয় পক্ষই এমনভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায়, যাতে তা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।’

Ads small one

শতবর্ষী আছিয়া বেগমের পাশে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদকর্মীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
শতবর্ষী আছিয়া বেগমের পাশে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানো সাতক্ষীরার ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামের শতবর্ষী অসহায় বৃদ্ধা আছিয়া বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। মানবিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন সকালে তাঁর বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একটি জীর্ণ কুঁড়েঘরে আছিয়া বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর তাঁর নির্দেশনায় সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহিনুল ইসলাম এই খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় সংবাদকর্মী একরামুজ্জামান জনি ও রকিবের মাধ্যমে আছিয়া বেগমের বাড়িতে ১০ কেজি চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী ময়েজউদ্দিন ঢালীর মৃত্যুর পর থেকে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন আছিয়া বেগম। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও তাঁরা নিজেরাও চরম অভাব-অনটন ও অসুস্থতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের নেই। বর্তমানে সরকারের দেওয়া মাত্র ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতাই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
গত ২০ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, নাথপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় ভাঙাচোরা ও মরিচাধরা টিনের চালের ঘরে চরম কষ্টে বাস করছেন তিনি। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। প্রশাসনের এই আকস্মিক সহায়তায় আছিয়া বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা বৃদ্ধার জীবনের শেষ দিনগুলো স্বস্তিতে কাটানোর জন্য একটি স্থায়ী ঘর ও নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

শ্যামনগরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের কর্মপরিকল্পনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের কর্মপরিকল্পনা সভা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ভিটামিন-এ খাওয়ান, মৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ২৪ জুন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
সভায় চিকিৎসকেরা জানান, মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্করা বিভিন্ন ফলমূলের মাধ্যমে এই উপাদানটি পেলেও শিশুরা তা থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে তারা অপুষ্টি ও হামসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। এই ঘাটতি পূরণে সরকারি উদ্যোগে আগামী ২৮ জুন (রবিবার) উপজেলার ১৮৯টি কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
শ্যামনগর হাসপাতাল সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় মোট ৩৯ হাজার ২৯৮ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ২৯৮ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৫ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
সভায় প্রতিটি শিশুর কাছে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। তিনি বলেন, সরকারি এই কর্মসূচির আওতা থেকে যেন কোনো শিশু বাদ না পড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তরিকুল ইসলাম ও উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি এস কে সিরাজ উপস্থিত ছিলেন।

হারানো নস্টালজিয়া: প্রযুক্তির জোয়ারে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
হারানো নস্টালজিয়া: প্রযুক্তির জোয়ারে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও

আশাশুনি সংবাদদাতা: এক সময় যা ছিল দেশ-বিদেশের খবর জানার প্রধান বাতায়ন, বিনোদনের একচ্ছত্র সঙ্গী—সময়ের আবর্তে সেই রেডিও আজ বিলুপ্তির পথে। সাতক্ষীরার আশাশুনিসহ উপকূলীয় অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখন আর আগের মতো দলবেঁধে রেডিও শোনার চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কাছে হার মেনে বাঙালির বৈঠকখানা থেকে এই ঐতিহ্যবাহী বেতার যন্ত্রটি যেন একপ্রকার বিদায় নিয়েছে।
মাত্র তিন দশক আগেও গ্রামীণ জনপদে বিয়ের উপহার হিসেবে নামী-দামী ব্র্যান্ডের রেডিও দেওয়া ছিল আভিজাত্য ও গর্বের প্রতীক। যার ঘরে রেডিও ছিল, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কিংবা রাতের খবরের সময়ে সেখানে জমত পাড়ার মানুষের আসর। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, গানের ডালি, সুখী সংসার কিংবা ছায়াছবির গানের অনুষ্ঠান শুনে কাটত তরুণদের অবসর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই রেডিওই ছিল স্বাধীনতাকামী মানুষের আশার আলো। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ও খবর শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিসংগ্রামে।
সময়ের বদলে রেডিওর জায়গা প্রথমে নিয়েছিল টেপ রেকর্ডার, এরপর সিডি প্লেয়ার এবং সবশেষে স্মার্টফোন। বর্তমানের ডিজিটাল ও ইন্টারনেটের যুগে আলাদা করে রেডিও কেনার চল প্রায় উঠে গেছে। মোবাইল ফোনের এফএম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এখন অনায়াসে সব শোনা যায়। তবে এই আধুনিকতার আড়ালে হারিয়ে গেছে দলবেঁধে অনুষ্ঠান শোনার সেই সামাজিক আবহ।
এই পরিবর্তনের বড় ধাক্কা লেগেছে রেডিওর কারিগর বা মিস্ত্রিদের জীবনে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই এখন পেশা বদলে টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেডিও শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের অংশ। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের উপযোগী ডিজিটাল অনুষ্ঠান নির্মাণ করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই গণমাধ্যমটিকে হয়তো আবারও নতুন রূপে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।