শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

অবৈধ জ্বালানি মজুদ: মুনাফার লোভে জীবনের ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
অবৈধ জ্বালানি মজুদ: মুনাফার লোভে জীবনের ঝুঁকি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
দেশের অর্থনীতি, জনজীবন এবং নিরাপত্তা-এই তিনটি স্তম্ভকে একসঙ্গে নাড়িয়ে দিতে পারে এমন সংকট খুব বেশি দেখা যায় না। কিন্তু জ্বালানি তেলকে ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ঠিক সেই বিরল উদাহরণগুলোর একটি, যেখানে বাজারের অনিশ্চয়তা, সামাজিক মনস্তত্ত্ব এবং অসাধু চক্রের অপতৎপরতা মিলেমিশে এক জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। এই সংকটের দৃশ্যমান অংশটি হলো সরবরাহের ঘাটতি কিংবা মূল্যবৃদ্ধি; কিন্তু এর অদৃশ্য ও অধিক বিপজ্জনক দিকটি হলো-অবৈধ মজুদ, যা ধীরে ধীরে জননিরাপত্তার জন্য এক নীরব হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। প্রথমেই স্বীকার করতে হবে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজার দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধ, উৎপাদন হ্রাস কিংবা সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘœ-এসব কারণে তেলের দাম ওঠানামা করছে।

 

এই বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রভাব বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরও বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। কারণ, এসব দেশের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর এবং বাজার ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে সামান্য গুজব কিংবা অনিশ্চয়তাও এখানে দ্রুত আতঙ্কে রূপ নেয়। এই আতঙ্কের একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হলো ‘প্যানিক বায়িং’। সাধারণ মানুষ যখন আশঙ্কা করে যে সামনে জ্বালানি সংকট হতে পারে, তখন তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিনে মজুদ করতে শুরু করে।

 

এটি মানুষের স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া হলেও এর ফলাফল মোটেও নিরীহ নয়। কারণ, এই আচরণ বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করে, সরবরাহের ওপর অস্বাভাবিক চাপ ফেলে এবং স্বাভাবিক চাহিদা-যোগানের ভারসাম্যকে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু সমস্যার মূল উৎস কেবল সাধারণ মানুষের আতঙ্ক নয়; বরং এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরি করে এবং পরে উচ্চ দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে।

 

অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘হোয়ার্ডিং’ বা মজুদদারি-যা একটি গুরুতর বাজার বিকৃতি। এটি শুধু ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-অবৈধ মজুদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি। জ্বালানি তেল, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন, অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। এগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয় এবং বাতাসের সঙ্গে মিশে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করতে পারে।

 

একটি ছোট্ট স্ফুলিঙ্গ, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অসাবধানতাবশত আগুনের সংস্পর্শেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাস্তবতা হলো, যারা অবৈধভাবে তেল মজুদ করছেন, তাদের অধিকাংশেরই এ বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান বা প্রস্তুতি নেই। তারা ড্রাম, প্লাস্টিকের বোতল, এমনকি বসতবাড়ির অপ্রচলিত পাত্রে তেল সংরক্ষণ করছেন-যা সম্পূর্ণ অনিরাপদ। এতে শুধু মজুদকারীর নিজের জীবনই নয়, তার পরিবার, প্রতিবেশী এবং আশপাশের পুরো এলাকার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা এই বাস্তবতাকে নির্মমভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। কোথাও শিশু খেলতে গিয়ে ড্রামে রাখা ডিজেলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে, কোথাও তেলের ড্রাম পরিষ্কার করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে মানুষ। এসব ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়; এগুলো আমাদের সামাজিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার প্রতিচ্ছবি। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে-কেন মানুষ এত বড় ঝুঁকি জেনেও এই কাজ করছে? এর উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের সমাজের অর্থনৈতিক ও মানসিক বাস্তবতার দিকে তাকাতে হবে।

 

একদিকে রয়েছে অনিশ্চয়তার ভয়, অন্যদিকে রয়েছে দ্রুত লাভের প্রলোভন। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ মানুষকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় তারা নিত না। আমাদের সমাজে এখনো একটি প্রবণতা রয়েছে-আইনকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত লাভের পথ খোঁজা। জ্বালানি মজুদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অনেকেই মনে করেন, কিছু অতিরিক্ত তেল মজুদ করে রাখলে ভবিষ্যতে লাভবান হওয়া যাবে। কিন্তু তারা উপলব্ধি করেন না, এই ‘সামান্য’ সিদ্ধান্তই বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

 

আইনগত দিক থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। লাইসেন্স ছাড়া এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদ- অনুসরণ না করে জ্বালানি তেল মজুদ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান চালালেও বাস্তবতা হলো-এই সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। কারণ, এটি কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক সমস্যা।

 

যতক্ষণ না মানুষ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে, ততক্ষণ এই প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন। প্রশাসন হয়তো কিছু মজুদ জব্দ করতে পারবে, কিছু মানুষকে শাস্তি দিতে পারবে; কিন্তু সামগ্রিক আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা সৃষ্টি, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন এবং জনমত গঠনের মাধ্যমে গণমাধ্যম এই সমস্যার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় নেতৃত্বকেও এগিয়ে আসতে হবে।

 

সরকারের দায়িত্বও কম নয়। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল রাখা, বাজারে গুজব প্রতিরোধ করা এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও সময়ের দাবি। সবশেষে বলা যায়, অবৈধ জ্বালানি মজুদ একটি বহুমাত্রিক সংকট-যার মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি একসঙ্গে জড়িত। এটি কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়; এটি আমাদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধেরও একটি পরীক্ষা।

 

জ্বালানি তেলকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা আমরা সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যক্ষ করছি, তার পেছনে কেবল সরবরাহ ঘাটতি বা বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামা দায়ী-এমনটি ভাবলে বাস্তবতার একটি বড় অংশ অদেখাই থেকে যায়। প্রকৃতপক্ষে এই সংকটের গভীরে রয়েছে বাজার কাঠামোর দুর্বলতা, তথ্যের অসমতা এবং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের সক্রিয় উপস্থিতি। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের আলোকে দেখলে বোঝা যায়, অবৈধ মজুদদারি কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকা- নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার লক্ষণ।

 

প্রথমেই আসা যাক বাজারের মৌলিক নীতির কথায়। একটি সুস্থ বাজারব্যবস্থায় চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু যখন কোনো পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেয়-যেমন মজুদ করে রাখার মাধ্যমে-তখন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এর ফলে মূল্য বেড়ে যায়, এবং সেই বাড়তি দামের সুযোগ নিয়ে মজুদকারীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে। এই প্রক্রিয়াটি অর্থনীতিতে ‘মার্কেট ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে পরিচিত।

 

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এই ধরনের কারসাজির সুযোগ তৈরি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, জ্বালানি সরবরাহ একটি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত খাত হলেও এর বিতরণ ব্যবস্থায় রয়েছে বহুস্তরীয় মধ্যস্বত্বভোগী। ডিপো, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা-এই দীর্ঘ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরেই স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ফলে কোথায় কত তেল মজুদ আছে, কোথায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে-এই তথ্যগুলো সব সময় পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায় না। এই তথ্যের অসাম্য বা ‘ইনফরমেশন অ্যাসিমেট্রি’ই সিন্ডিকেটদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

 

তারা বাজারের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি জানে এবং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তা গুজব ও অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-গুজবের অর্থনীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি ভুল তথ্য বা অর্ধসত্য খবর মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

 

“তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে”, “আগামীকাল দাম বাড়বে”-এ ধরনের বার্তা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর ফলে তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করে, যা আবার বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি চাহিদা সিন্ডিকেটদের পরিকল্পনাকে সফল করে তোলে।

অর্থাৎ, এখানে একটি ‘সেল্ফ-ফালফিলিং প্রফেসি’ কাজ করে-গুজব থেকেই যে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়, সেই গুজবই শেষ পর্যন্ত সংকটকে বাস্তবে রূপ দেয়। এই চক্রটি ভাঙা না গেলে বাজার কখনোই স্থিতিশীল হতে পারে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতি। অনেক সময় সরকার জনগণের স্বার্থে জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে রাখে। কিন্তু যদি এই মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক কম হয়, তাহলে চোরাচালান ও মজুদদারির প্রবণতা বাড়ে।

 

কারণ, তখন ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির আশায় তেল ধরে রাখে বা অন্যত্র পাচার করার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে অর্থনীতির একটি পরিচিত ধারণা প্রযোজ্য-‘প্রাইস ডিস্টরশন’। যখন বাজারমূল্য বাস্তব চাহিদা-যোগানের প্রতিফলন না হয়ে প্রশাসনিকভাবে নির্ধারিত হয়, তখন বাজারে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও আমরা তার ব্যতিক্রম দেখি না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরেকটি সমস্যা হলো-বিকল্প জ্বালানি উৎসের সীমাবদ্ধতা।

 

যখন একটি অর্থনীতি একটি নির্দিষ্ট জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সেই জ্বালানির সরবরাহে সামান্য বিঘœও বড় সংকটে রূপ নেয়। এই নির্ভরশীলতা সিন্ডিকেটদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, কারণ তারা জানে-বাজারে চাহিদা যেকোনো পরিস্থিতিতেই থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন আসে-সিন্ডিকেট কীভাবে কাজ করে? সাধারণত তারা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত থাকে। তারা সমন্বিতভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে দেয়, মজুদ করে রাখে এবং নির্দিষ্ট সময়ে উচ্চ দামে বাজারে ছাড়ে।

 

অনেক ক্ষেত্রে তারা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমেও বাজারকে প্রভাবিত করে। এটি একধরনের ‘কার্টেল বিহেভিয়ার’, যেখানে কয়েকটি পক্ষ একসঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এই ধরনের কর্মকা- প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থার পরিপন্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তবে সমস্যার সমাধান খুঁজতে গেলে আমাদের কেবল সিন্ডিকেটকে দায়ী করলেই চলবে না। আমাদের বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোও স্বীকার করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বাড়ানো যায়, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং তথ্য সহজলভ্য করা যায়, তাহলে মজুদদারির সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।

 

এছাড়া প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। যদি বাজারে আরও বেশি অংশগ্রহণকারী থাকে এবং কোনো একক গোষ্ঠীর আধিপত্য না থাকে, তাহলে কার্টেল গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি, যাতে তারা গুজবের ফাঁদে না পড়ে। এখানে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারণ, তদারকি এবং আইন প্রয়োগ-এই তিনটি ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে, বাজারে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো অত্যন্ত জরুরি।

 

কারণ, তথ্যের অভাবই গুজবের জন্ম দেয়, আর গুজবই সংকটকে ত্বরান্বিত করে। সবশেষে বলা যায়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ একটি জটিল অর্থনৈতিক সমস্যা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাজার কাঠামো, মানব আচরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। এই সমস্যার সমাধানও তাই বহুমাত্রিক হতে হবে-শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং নীতি সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

লেখক: সংবাদ কর্মী

 

Ads small one

দেবহাটায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলায় চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষা চলাকালীন এবং দিন রাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। অনেক এলাকায় দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আলো সংকটের পাশাপাশি তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।

পরীক্ষার্থীরা জানায়, “পরীক্ষার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। গরমের মধ্যে অন্ধকারে পড়তে খুব কষ্ট হয়, অনেক সময় পড়াই সম্ভব হয় না।”

অভিভাবকরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও একই ধরনের লোডশেডিং পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই এবারের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম ও দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ রেজাউল করিম বাপ্পা জানান, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা দরকার, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

শ্যামনগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে বহিস্কৃত যুবদল কর্মীদের তান্ডব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে বহিস্কৃত যুবদল কর্মীদের তান্ডব

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘জামান ট্রেডিং ব্রিকস’ নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে যুবদলের নেতাকর্মীরা তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বড়কুপোট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৮)কে মারপিটসহ হামলায় জড়িতরা প্রায় তিন লাখ টাকা মুল্যের ইট, খোয়া, বালু লুট করে বলে অভিযোগ।

 

এর আগে তারা ঐ প্রতিষ্ঠানে ঢুকে সিসি ক্যামেরাসহ মুল ফটকের তালাগুলো একে একে ভেঙে ফেলে তারা। খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক মোরসালিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জামান ট্রেডিং ব্রিকস এর মালিক মোঃ কামরুজ্জামানের ভাষ্য বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব (বহিস্কৃত) আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০/১২ জন যুবক তার প্রতিষ্ঠানে যায়। এসময় নিজেদের বালুভর্তি ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য তারা জামান ট্রেডিং ব্রিকস এর মুল ফটকের তালাগুলো খুলে দিতে বলে।

 

তবে ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের নির্দেশ না মানায় কিছুক্ষণ পরে যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান, আলমগীর, রোকনুজ্জামান, বিল্লাল ও মহসীনসহ অপরিচিত সাত/আটজন সেখানে পৌছে গালিগালাজ শুরু করে।

 

একপর্যায়ে তারা হুইল রেন্স ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মুল ফটকের তালাগুলো একে একে ভেঙে ফেলে এবং ইঞ্জিন ভ্যানযোগে ইট, বালু, খোয়াসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এসময় বেশকিছু গাছ-গাছালি কাটার পাশাপাশি তারা বাধা দিতে যাওয়া ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বেপরোয়া মারপিট করে। এঘটনায় শুক্রবার দুপুরে তিনি পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন/চারজনকে আসামী করে এজাহার জমা দিয়েছেন।

কামরুজ্জামানের অভিযোগ, গত ৫ আগষ্টের দুই সপ্তাহ পর মিজান ও আলমগীরের নেতৃত্বে তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট করা হয়। সে ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাইরে সরবরাহ করায় পরবর্তীতে পুনরায় তারা হামলা চালিয়ে সিসি ক্যামেরাগুলো ভাংচুর করে হুমকি দিয়েছিল।

 

পরবর্তীতে ২১ জুন ২০২৫ তারিখে দলবল নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বদখলীয় প্রায় ১৭ শতক জায়গা দখল করে নিয়েছে। সে ঘটনায় আদালতে মামলা (১০৯৫/২৫) চলমান থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পুনরায় একই দুবৃর্ত্তরা তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। এর আগে একই গ্রুপের সদস্যরা ব্যাংকের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা চাঁদা গ্রহনের পাশাপাশি তার ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবদলের (বহিস্কৃত) সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান কল রিসিভ করেননি।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক এসআই মোরছালিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান মালিক মোঃ কামরুজ্জামান কয়েকজনকে আসামী করে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষ এক সম্ভবনাময় ফসল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষ এক সম্ভবনাময় ফসল

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): উপকূলের সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভবনা রয়েছে। এটি নতুন করে লবনাক্ত শ্যামনগরে নতুন সম্ভবনাময় এক কৃষি ফসল। উপজেলার ভূরুলিয়া ইউপিসহ অন্যান্য ইউপিতে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা ভাল ফলন পেয়েছেন। এটাতে একদিকে কৃষকের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অন্যদিকে এলাকায় হলুদ ফুলের চমৎকার সমারোহ এবং এটি দর্শনার্থীদের জন্য এক দর্শনীয় স্থান হয়ে দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে প্রকাশ, শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফসলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে ভূরুলিয়া ইউপিতে। বারটি ইউপির মধ্যে এখানে ২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। ধান কাটার পর পতিত জমি কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কমসময়ে উৎপাপদনযোগ্য ও লাভজনক ফসল হিসাবে চাষ করছেন কৃষকরা সূর্যমুখী। বিশেষ করে লবন সহিষ্ণু হাইসান-৩৬ জাতের সূর্যমুখী চাষের ভালো ফলন ও বাজার মূল্যে পাওয়ার আশায় তারা আগ্রহী। উপকূলীয় শ্যামনগরে লবনাক্ত হওয়ায় কৃষি ফসল চাষে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার মধ্যেও সূর্যমুখী স্থান করে নিয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায় সূর্যমুখী লবনসহনশীল কৃষি ফসল।

উপজেলার ভূরুলিয়া ইউপির কৃষক শমন মন্ডল ও ধানখালী গ্রামের কৃষক রমেশ সরকার বলেন, আগে জমি ধান কাটার পর ফেলে রাখা হত বা অন্য ফসলের চাষ কোন কোন সময় করা হত। বর্তমানে সূর্যমুখী চাষ করে ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। খরচ তেমন বেশি না উল্লেখ করে বলেন সামান্য খরচ ও পরিশ্রমে লাভবান হওয়া যায়। কারণ সূর্যমুখী তেলের মূল্য অনেক বেশি। দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সূর্যমুখীর বীজ তেল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে অনেক স্থানীয় কৃষকের সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল বের করার প্রক্রিয়া ও বাজারজাত করণ বিষয়ে ধারণা কম রয়েছে। কৃষকদের দাবী সহজ প্রক্রিয়ায় বীজ থেকে তেল বের করা ও শোধন করার প্রক্রিয়া সহজলভ্য হলে মাঠে মাঠে সূর্যমুখীর চাষ আরও দ্বিগুন ভাবে হবে।

উপজেলার বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করে দর্শনার্থীরা হলুদ ফুলের সমারোহের মধ্যে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে। এর ফলে স্থানীয়রা মত প্রকাশ করে অনেকে বলছেন শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে অপার সম্ভবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মন্ডল ,উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দীন বলেন সূর্যমুখী চাষ শ্যামনগরে এক সম্ভবনাময় ফসল। তারা বলেন ভূরুলিয়া ইউনিয়নে কৃষকদের সহায়তায় বড় ধরনের প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। এখানে প্রণোদনার মাধ্যমে সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল বের করা ও শোধনের জন্য একটি মেশিন প্রদান করা হয়েছে। যার মাধ্যমে কৃষকরা এই সুবিধা গুলি পাবেন।

অভিজ্ঞরা মনে করেন শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারী সহায়তা প্রদান করা হলে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনসহ দেশের অর্থনৈতিক খাত সমৃদ্ধি হবে।