বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীনের ৩১তম শাহাদাত দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীনের ৩১তম শাহাদাত দিবস

পত্রদূত রিপোর্ট: মেঠোপথ ধরে কখনো মোটরসাইকেলে, কখনো আবার পায়ে হেঁটে ধুলোবালি উড়িয়ে ছুটে চলতেন এক মধ্যবয়সী মানুষ। গ্রামের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনতেন, বুকে জড়িয়ে নিতেন মেহনতি মানুষকে। সাতক্ষীরার মানুষ তাঁকে চিনত তাদের ‘অভিভাবক’ হিসেবে। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ১৯ জুনের কালরাত্রিতে ঘাতকের তপ্ত বুলেট স্তব্ধ করে দেয় সেই পথচলা। তিনি হলেন আলাউদ্দীন ফুডস্ এন্ড কেমিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা, বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা, ভোমরা স্থলবন্দরের প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা, দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীন। আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীনের ৩১তম শাহাদাত দিবস।

১৯৪৫ সালের ২৯ আগস্ট সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন স. ম. আলাউদ্দীন। বাবা সৈয়দ আলী সরদার ও মা সখিনা খাতুনের চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

ছাত্রাবস্থাতেই ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। এরপর ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ‘৬৮-এর গণআন্দোলনে রাজপথ কাঁপিয়ে ১৯৬৭ সালে তিনি যোগ দেন ছাত্রলীগে। মেধার স্বাক্ষর রেখে খুলনার বিএল কলেজ থেকে বিএ এবং পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এর মাঝেই ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তৎকালীন পাকিস্তানের সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হয়ে চমক লাগিয়ে দেন এই তরুণ নেতা।

১৯৭১ সালে যখন দেশমাতৃকার ডাক এলো, তখন অনেক জনপ্রতিনিধি নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে নেতৃত্ব দিলেও স. ম. আলাউদ্দীন সরাসরি রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৯নং সেক্টরের অধীনে অস্ত্র সংগ্রহ ও বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র যুদ্ধের অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) এম এ জলিল তাঁর ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা’ গ্রন্থে আলাউদ্দীনের অসীম সাহসিকতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদ- ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিলেও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন।

স্বাধীনতার পর কিছুকাল জাসদ এবং ১৯৮০ সাল থেকে আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা এই মানুষটি ছিলেন আধুনিক সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থপতি। জেলাটিকে স্বাবলম্বী করতে তাঁর অবদান ছিল বহুমুখী। সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ‘ভোমরা স্থলবন্দর’ প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর ছিলেন তিনি। যুবসমাজের কর্মসংস্থানে গড়ে তোলেন ‘আলাউদ্দীন ফুডস্ অ্যান্ড কেমিক্যাল’। তিনি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। সেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন, যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি উপার্জনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। চিকিৎসা সেবার প্রসারে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের তত্ত্বাবধানে নিজের জমি দান করে গড়ে তোলেন ‘নগরঘাটা শিশু হাসপাতাল’। এছাড়া পরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও বেতনা নদী খননের আন্দোলনেও তিনি ছিলেন পুরোধা।

গণমানুষের অবরুদ্ধ কণ্ঠস্বরকে ফুটিয়ে তুলতে ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সাতক্ষীরার পাঠকপ্রিয় দৈনিক ‘পত্রদূত’ পত্রিকা। সম্পাদক হিসেবে অন্যায়, দুর্নীতি ও শোষকদের বিরুদ্ধে তাঁর ধারালো কলম রাজপথের চেয়েও ধারালো হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এই আপসহীন সাংবাদিকতাই তাঁর জীবনে কাল ডেকে আনে।
১৯৯৬ সালের ১৯ জুন, রাত ১০টা ২৩ মিনিটে দৈনিক পত্রদূত কার্যালয়ে কাজ করছিলেন সম্পাদক স. ম. আলাউদ্দীন। ঠিক তখনই অন্ধকারের বুক চিরে ধেয়ে আসে ঘাতকের নির্মম বুলেট। নিজের প্রিয় পত্রিকা অফিসের মেঝেতেই রক্তে রঞ্জিত হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে নেভে সাতক্ষীরার উন্নয়নের সেই জীবনপ্রদীপ।

স. ম. আলাউদ্দীন আজ নেই, কিন্তু সাতক্ষীরার প্রতিটি অবকাঠামো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যস্ততায় জড়িয়ে আছে তাঁর স্মৃতি। মেঠোপথের সেই চেনা মানুষটি আজ ঘুমিয়ে আছেন কবরের নীরবতায়, আর সাতক্ষীরার মানুষ আজও বুকভরা বেদনা নিয়ে স্মরণ করে তাদের এই চিরঞ্জীব রূপকারকে।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদের কবর জিয়ারত, তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান।

 

Ads small one

গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: বুধবার সকাল সাড়ে আটটা। শহরের দোকানপাট সবে খুলতে শুরু করেছে। কর্মজীবী মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও রওনা হয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে। এমন সময় শুরু হলো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাতক্ষীরা শহরের তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কে জমে গেল পানি।
ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ইজিবাইকের চাকা পানিভরা গর্তে পড়ে যায়। এতে নোংরা পানি ছিটকে গিয়ে ভিজে যায় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ভ্যানের যাত্রীদের পোশাক। তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটারের এই সড়কে এমন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
শহরের অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরোপুরি বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই কাদা-পানি মাড়িয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। সড়কের দুপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের অংশও কাদায় ঢেকে গেছে।
এ রাস্তায় যাতায়াতকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। গর্তে চাকা পড়ে প্রতিনিয়ত রিকশা বা ইজিবাইক উল্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। নোংরা পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হওয়া এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে এই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় থাকে না।
সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। কাদা আর নোংরা পানির ছিটায় দোকানের মালামাল নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই অবস্থা থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
ব্যস্ততম এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে কাদা-পানির এই নাকাল হওয়া থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।

আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

সাতক্ষীরায় মোট পরীক্ষার্থী ১৫,৯০৬, এইচএসসি ১১৪০২, আলিম ১৮৪২, ভোকেশনাল ২৬৬২
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সাতক্ষীরা জেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি (ভোকেশনাল) মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। জেলার মোট ৪০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সাধারণ ধারায় এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার ২৩টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৯০৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৪৯৭ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ৯টি কেন্দ্রে মোট অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৩৫ জন এবং ছাত্রী ৭০৭ জন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় জেলার ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৯৭৯ জন ছাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর উক্ত তথ্য দিয়ে জানান, সবকটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে নাব্যতা হারানো সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঐতিহাসিক জাহাজমারী খালটি পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিতে। খরা মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এই খালের সুবিধাভোগী ছয়টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার কৃষক।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খনন করা এই খালটি নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণের যৌথ উদ্যোগে ‘সফল ফর আইডব্লিউআরএম’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি পুনঃখনন করা হয়। দলুইপুর থেকে গোছমারা লস্কার বড় খাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৩ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ৬২৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শেখ আব্দুর রব ও খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের জানান, একসময় সেচের পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকত, আবার বর্ষায় ফসল তলিয়ে লোকসান গুনতে হতো। এখন পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও খালটি সচল রাখতে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে একটি তহবিল গঠন করেছেন, যা দিয়ে প্রতিবছর এটি পরিষ্কার করা হবে।
এদিকে, পুনঃখননকৃত খালের নাব্যতা ধরে রাখতে গত সোমবার দুপুরে যুগিখালী ইউনিয়নের আড়খালী মসজিদ-সংলগ্ন জাহাজমারী খালে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।